খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিত ঝড়ে বাংলাদেশের বড় পরাজয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:০০ অপরাহ্ণ
রোহিত ঝড়ে বাংলাদেশের বড় পরাজয়

‘মাহা’ সাইক্লোন এর কোনো প্রভাব না দেখা গেলেও, ব্যাট হাতে সাইক্লোন চালিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তার ব্যাটে ভর করে আট উইকেটের জয় পেয়েছে ভারত। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ এ সমতা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের সূচনা করতে নামা মোহাম্মদ নাঈম এবং লিটন দাস দারুণ মোকাবেলা করছিলেন ভারতের বোলিং। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে খলিল আহমেদের বলে টানা তিন বাউন্ডারি হাঁকান নাঈম। অপর প্রান্ত থেকেও দারুণ ব্যাটিং করছিলেন লিটন।

পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আনা হয় যুযবেন্দ্র চাহালকে। ওভারের তৃতীয় বলে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন লিটন। স্টাম্পিংয়ের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রিশাভ পান্ট। বল স্টাম্প পার করার আগেই তিনি ধরে ফেললে দেওয়া হয় নো বল। ফ্রি হিট ও পরের বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকান লিটন। পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তুলে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ।

ওয়াশিংটন সুন্দরের করা পরের ওভারে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জীবন পান লিটন। সহজ ক্যাচ লুফে নিতে পারেননি রোহিত। তবে পরের ওভারেই বিদায় নেন লিটন। টানা দুই জীবন পাওয়ার পর রান আউট হন তিনি। চাহালের দারুণ ডেলিভারি আঘাত হাতে তার প্যাডে। পান্টের আবেদনের সময় রানের জন্য দৌড় দেন তিনই। অথচ বল ছিল উইকেটের খানিক সামনে। পান্ট এসে সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে রান আউট করেন লিটনকে। দুইবার জীবন পেয়ে লিটন করেন ২১ বলে ২৯। ভাঙে ৬০ রানের ওপেনিং জুটি।

শুরুটা ভালো করেছিলেন সৌম্য সরকার। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। একাদশতম ওভারে সুন্দরের বলে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আসেন নাঈম। ৩১ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। সেখান থেকেই যেন পথ হারানোর শুরু।

ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সৌম্য সরকার আভাস দিয়েছিলেন বড় ইনিংসের। কিন্তু পরের ওভারে জোড়া আঘাত আনেন চাহাল। ওলটপালট করে দেন সবকিছু। গত ম্যাচের নায়ক মুশফিকুর রহিম ৪ রান করে বিদায় নেন ডিপ মিডউইকেটে থাকা পান্ডিয়ার হাতে। শেষ বলে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি সৌম্য। আগের ভুল অল্পের জন্য করেননি পান্ট। স্টাম্পিং করতে সফল হন তিনি। ১০৩ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে যায় বাংলাদেশের।

এরপর আফিফ হোসেনকে নিয়ে ২৫ রান যোগ করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে রানের গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বড় স্কোরের সম্ভাবনা মিলিয়ে যায়। ইনিংসের ১৭ তম ওভারে খলিল আহমেদের বলে তুলে মারতে গিয়ে বিদায় নেন আফিফ হোসেন। ৮ বলে করেন ৬ রান। ঐ ওভারে তিন চার মেরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলকে ১৭০ রানের আশেপাশে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখান। কিন্তু পরের দুই ওভারে চাহাল আর চাহার দেন মাত্র ৪ রান করে। ১৯ তম ওভারে চাহারের স্লোয়ার ডেলিভারিতে ডুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিয়ায় নেন রিয়াদ। ২১ বলে ৩০ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে আমিনুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে একটি চার, রান হয় নয়। শেষ ৩ ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারত, রান হয় মাত্র ১৭।

বাংলাদেশ করে ৬ উইকেটে ১৫৩। রাজকোটের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সেই লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না ভারতের জন্য।

শুরু থেকেই বিধ্বংসী ছিলেন রোহিত শর্মা। অন্য প্রান্তে শিখর ধাওয়ান খেলছিলেন ঠান্ডা মাথায়। বাউন্ডারির ফোয়ারা ছিল রোহিতের ব্যাটে। বোলিং আক্রমণের তিন পেসারকেই রোহিতের সামনে মনে হয়েছে নখদন্তহীন। পাওয়ারপ্লে তে ভারতের করা ৬৩ রানের ৪৬ রানই ছিল রোহিতের ব্যাটে।

এরপর আমিনুলের ওপর চড়াও হন ধাওয়ান। এ দুই ওপেনারকে কোনোভাবেই আটকাতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। আফিফের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূরণ করেন রোহিত। সবচেয়ে বড় ঝড় যায় ইনিংসের দশম ওভার করতে আসা মোসাদ্দেক হোসেনের ওপর। তার প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মারেন রোহিত। প্রথম ১০ ওভারেই রান হয়ে যায় বিনা উইকেটে ১১৩। রোহিত-ধাওয়ানের ব্যাট থেকে আসে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে চতুর্থবারের মতো শতরানের জুটি।

১১৮ রানের মাথায় আমিনুলের বলে বোল্ড হন ধাওয়ান। ২৭ বলে ৩১ রান করেন তিনি। নিজের পরের ওভার এসে রোহিতের উইকেট নেন আমিনুল। ৮৫ রান করে বিদায় নেন রোহিত। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার আর ৬ ছক্কা। এরপর বাকি কাজ সারেন শ্রেয়াস আইয়ার (২৪*) এবং লোকেশ রাহুল (৮*)। ২৬ বলহাতে রেখেই জিতে যায় ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১৫৩/৬, ২০ ওভার
নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, রিয়াদ ৩০
চাহাল ২/২৮, চাহার ১/২৫, সুন্দর ১/২৫

ভারত ১৫৪/২, ১৫.৪ ওভার
রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, আইয়ার ২৪*
আমিনুল ২/২৯

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।