খুঁজুন
, ,

সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পুনর্নির্ধারণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 16 August, 2021, 4:30 pm
সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন পুনর্নির্ধারণ

মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আজ সোমবার দুপুরে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল সাক্ষগ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে এক আদেশ জারি করেন। আদালত আজ এই মামলার বাদীসহ ১৫ জন সাক্ষীকে আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্ট সাক্ষ্য দিতে নোটিশ জারি করেছেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম আজ দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ ছিল। মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে সারা দেশের মতো কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ওই তারিখে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে পারেনি।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আসামিদের উপস্থিতিতে মামলাটির চার্জ গঠন করে ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই একটানা তিন দিন বাদীসহ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু, করোনার কারণে বিধিনিষেধের মধ্যে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সরকার গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্ট নতুন করে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। ওই তারিখে বাদীসহ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করবেন আদালত।

আদালতে দেওয়া চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপসহ নয় জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে দ্বিতীয় এবং পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব-১৫।

হত্যাকাণ্ডের পর চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে এবং ৮৩ জনকে সাক্ষী করে আলোচিত মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম।

মামলায় অভিযুক্ত ও কারাগারে আটক থাকা ১৫ আসামি হলেন—বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ, কনস্টেবল সাগর দেব ও রুবেল শর্মা ছাড়া ১২ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এন-কে

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:47 pm
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল অংশ নেয়।

ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

কে এই ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:31 pm
হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হক।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা কার্যকর করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সময়ে বিএনপিও কর্মসূচি দেওয়ায় শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 2:51 pm
জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে জরিমানার ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে এ অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একই বিষয়ে পূর্বে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন এবং বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এ তথ্য গোপন রেখে জিপিএইচ ইস্পাত নিম্ন আদালতে নতুন মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে আবারও হাইকোর্টে রিট আবেদন করে নিষেধাজ্ঞা চায়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানান, কোম্পানিটি চলমান আপিল, পূর্বের রিট এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিষয়টি গোপন রেখে আদালতের কাছে আবেদন করেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসৎ আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, বিচারাধীন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আচরণ আদালতের সময়ের অপচয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল। এ কারণেই আদালত জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ওই অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে কোনো পক্ষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে আদালত এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্টের এ আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।