খুঁজুন
, ,

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছরপূর্তি আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 17 August, 2021, 11:26 am
দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছরপূর্তি আজ

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছরপূর্তি আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়। মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় ৫০০ পয়েন্টে বোমা হামলায় দু’জন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ঘটনা।

পুলিশ কর্মকর্তা, র‌্যাব, বিশ্লেষক ও জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৫ সালের আগে থেকেই জঙ্গিরা নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি ততোটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়নি সেসময় এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কঠোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও ছিল গা-ছাড়া ভাব। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মূলত সারাদেশে একযোগে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি বা জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর এবং মৌলবাদী রাষ্ট্ররূপে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট এ সারা দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা চালায়। মুন্সিগঞ্জ জেলা ব্যতিত সর্বমোট ৬৩টি জেলায় একযোগে ঐ বোমা হামলা চালানো হয়। এ বোমা হামলার মাধ্যমে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) একটি উগ্রবাদী জঙ্গি দল হিসাবে অত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের মতো একটি প্রগতিশীল ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রকে একটি অকার্যকর মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ বোমা হামলা চালানো হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারাদেশে ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি। যারমধ্যে ১৪২টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিল ১৩০ জন। এবং গ্রেপ্তার করা হয় ৯৬১ জনকে। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেএমবির বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রেপ্তার হওয়ার জঙ্গিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। মূলত জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আবদুর রহমান গ্রেপ্তারের পর তখন তার জবানবন্দিতে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

তারা বাংলাদেশকে ৬ টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরে তারা দাওয়াত ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাদের সংগঠনের প্রচার প্রচারণা শুরু করে। এভাবেই সারা দেশে তারা কর্মী সংগ্রহ শুরু করে সংগঠনটি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় তাদের কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ওই বোমা হামলার ঘটনায় ৬৩টি জেলায় ১৬১টি মামলা হয়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে জঙ্গিদের বোমা হামলায় দুইজন বিচারক নিহত হওয়ার মামলায় পরবর্তীতে জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সেই মামলাতেই ২০০৬ সালের ৬ মার্চ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর এদের একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। এছাড়া জেএমবির আমীর শায়খ আব্দুর রহমান, দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা মো. সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই এবং খালেদ সাইফুল্লাহ ও আতাউর রহমান সানীর মতো শুরা সদস্যদের ফাঁসির আদেশ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:47 pm
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল অংশ নেয়।

ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

কে এই ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:31 pm
হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হক।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা কার্যকর করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সময়ে বিএনপিও কর্মসূচি দেওয়ায় শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 2:51 pm
জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে জরিমানার ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে এ অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একই বিষয়ে পূর্বে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন এবং বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এ তথ্য গোপন রেখে জিপিএইচ ইস্পাত নিম্ন আদালতে নতুন মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে আবারও হাইকোর্টে রিট আবেদন করে নিষেধাজ্ঞা চায়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানান, কোম্পানিটি চলমান আপিল, পূর্বের রিট এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিষয়টি গোপন রেখে আদালতের কাছে আবেদন করেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসৎ আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, বিচারাধীন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আচরণ আদালতের সময়ের অপচয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল। এ কারণেই আদালত জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ওই অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে কোনো পক্ষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে আদালত এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্টের এ আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।