খুঁজুন
, ,

আশুরার রোজার গুরুত্ব ও ফজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 18 August, 2021, 7:25 pm
আশুরার রোজার গুরুত্ব ও ফজিল

চন্দ্র প্রথম মাস ‘মহররম’। এ মাসের দশম তারিখকে ইসলামের পরিভাষায় ‘আশুরা’ বলা হয়। এই দিনে একদিকে যেমন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত, অন্যদিকে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। আর তাই এ দিনটি নানা কারণে পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

মহান আল্লাহ তাআলার কাছে বছরের বেশ কিছু দিন মাস ও মুহূর্ত বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন। এসবের মধ্যে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ ইয়াওমে আশুরাও একটি। এই আশুরা শব্দটি আরবি। এটি অর্থ দশম। শব্দটি হিজরি বর্ষের ১০ তারিখকে বুঝায়। হিজরি বছরের হিসেব মতে আগামী ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে আশুরার শুভক্ষণ। যা শুক্রবার সন্ধ্যা তথা সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

আশুরার তাৎপর্যপূর্ণ ফজিলত
ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে অনন্য আশুরা। আশুরার অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ফজিলত আছে। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

০১.এক বছরের গুণাহ মাফের সুযোগঃ-
রাসূল (সা)-এর পবিত্র মুখ নিঃসৃত বাণী—
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ” رواه مسلم 1162.

অর্থাৎ,আমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান প্রত্যাশা করছি, আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে।”[সহিহ মুসলিম]

০২. আশুরার রোজার ব্যাপারে রাসূল (সা) এর আগ্রহঃ
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ : مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ . ” رواه البخاري 1867.
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে আশুরার রোজা ও এ মাসের রোজা অর্থাৎ রমজানের রোজার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যত বেশি আগ্রহী দেখেছি অন্য রোজার ব্যাপারে তদ্রূপ দেখিনি।”[সহিহ বুখারি]

عَنْ ‏‏أَبِي هُرَيْرَةَ ‏‏رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ‏‏قَالَ : ‏قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏: ” ‏أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ ، وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ ” . أخرجهُ مسلمٌ (1163) .
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূল (সা) বলেছেনঃ- রামাদানের পরে সবচেয়ে বেশী ফজিলতের সিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররামের সিয়াম এবং ফরজ সালাতের পরে সর্বাপেক্ষা ফজিলতপূর্ণ সালাত হলো রাতের সালাত(ক্বিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ)।[সহিহ বুখারী]

আশুরার রোজার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ
===============================

ما رواه البخاري (1865) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا ؟ قَالُوا : هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى، قَالَ فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ”
বুখারির বর্ণিত হাদিস (১৮৬৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় এলেন তখন দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। তখন তিনি বললেন: কেন তোমরা রোজা রাখ? তারা বলল: এটি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেছেন; তাই মুসা আলাইহিস সালাম এ দিনে রোজা রাখতেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের চেয়ে আমি মুসার অধিক নিকটবর্তী। ফলে তিনি এ দিন রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।”

আশুরার রোজা পালনের নিয়মঃ
=========================
রামাদানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।কিন্তু যখন রামাদানের রোজা ফরজ হয়ে গেলো তখন আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হয়ে যায়। ঐচ্ছিক হলেও এই রোজার গুরুত্ব অত্যধিক,কারণ নবী করীম (সা) কখনোই আশুরার রোজা ছেড়ে দেন নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে ১০ মুহাররম রোজা পালন করেছেন। কিন্তু ইহুদি ও নাসারারা ১০ মুহাররমকে সম্মান করত এবং এদিন তারা রোজা পালন করত। তাই রাসুল (সা.) তাদের নিয়মের বিপরীত করার জন্য ১০ মুহাররমের সঙ্গে তার আগের অথবা পরের দিনকে যোগ করে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, সুন্নত হলো ৯ ও ১০ মুহাররম কিংবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা পালন করা।

এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা পালন করলেন এবং সবাইকে রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ইহুদি নাসারারা এ দিনকে (১০ মহররম) পালন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ মুহাররমসহ রোজা রাখব।’ বর্ণনাকারী বলেন, পরের বছর মুহাররম আসার আগেই তাঁর ওফাত হয়ে যায়। (মুসলিম : ১১৩৪)।

অন্য হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং ইহুদিদের বিরোধিতা করো। তোমরা আশুরার সঙ্গে তার আগের এক দিন অথবা পরে এক দিন রোজা রাখ।’ (সুনানে বাইহাকি, ৪ খ- ২৮৭)। [এই হাদীসটিকে মুহাদ্দীসীনদের কেউ কেউ দুর্বল বলেছেন।

অতএব, সর্বোত্তম হবে ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখা। কারণ, ৯ ও ১০ তারিখে রোজা রাখার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ এবং এ ব্যাপারে মুহাদ্দীসীনগণের কোনো দ্বিমত নেই।

√√ নোটঃ
আশুরার রোজা দ্বারা কি ১ বছরের সকল গুণাহ মাফ হয়ে যায়?

এ ব্যাপারে উলামায়ে ক্বেরাম বলেছেন,

تكفير الذنوب الحاصل بصيام يوم عاشوراء المراد به الصغائر ، أما الكبائر فتحتاج إلى توبة خاصة .

قال النووي رحمه الله :

يُكَفِّرُ ( صيام يوم عرفة ) كُلَّ الذُّنُوبِ الصَّغَائِرِ , وَتَقْدِيرُهُ يَغْفِرُ ذُنُوبَهُ كُلَّهَا إلا الْكَبَائِرَ .

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله : وَتَكْفِيرُ الطَّهَارَةِ , وَالصَّلاةِ , وَصِيَامِ رَمَضَانَ , وَعَرَفَةَ , وَعَاشُورَاءَ لِلصَّغَائِرِ فَقَطْ . الفتاوى الكبرى ج5 .

অর্থাৎ,
আশুরার রোজা দ্বারা শুধু সগিরা গুনাহ মার্জনা হবে। কবিরা গুনাহ বিশেষ তওবা ছাড়া মোচন হয় না।

ইমাম নববী (রহঃ) বলেন: আশুরার রোজা সকল সগিরা গুনাহ মোচন করে।হাদিসের বাণীর মর্ম রূপ হচ্ছে- কবিরা গুনাহ ছাড়া সকল গুনাহ মোচন করে দেয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: পবিত্রতা অর্জন, নামায আদায়, রমজানের রোজা রাখা, আরাফার দিন রোজা রাখা, আশুরার দিন রোজা রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে শুধু সগিরা গুনাহ মোচন হয়।[আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড-৫]

এন-কে

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।