খুঁজুন
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে প্রশ্ন জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক : মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৪০ অপরাহ্ণ
জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে প্রশ্ন জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক : মির্জা ফখরুল

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিসৌধ ও মরদেহ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে যখন এ ধরনের কথা বলা হয়, তখন এটি আমাদের দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছু না। পরিষ্কার কথায় বলতে চাই, জিয়াউর রহমান জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছেন।

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে নিজেকে ছোট মনে হয়, রুচিতে বাঁধে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি মুক্তিযোদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘উনাকে উনার নিজের চ্যালেঞ্জ নিতে বলেন। ওনি নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না সেটা আগে প্রমাণ করুক।’

আজ বুধবার বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়েও কথা বলেন।

দেশে এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এবং গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। আজকে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, পাঁচশর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই অবস্থার পরেও বিএনপি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

দীর্ঘ ৪৩ বছরে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল ও মৌলিক পরিবর্তন এনেছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন করেছে। পরবর্তীতে গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াতে নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতিশাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা এসেছে। রাজনীতিতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার ফলে বাকস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সেগুলোকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কাঠামো তৈরি করেছিলেন। আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতির যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেই স্থাপিত হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিলো সেই অধিকারগুলো তারা হারিয়ে ফেলেছে। আজকে জনগণ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে নির্বাচন হয় না। নির্বাচন কমিশন একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পুরো প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। সার্বিক অর্থে ছদ্মবেশী একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে আসতে নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের লজ্জা হয়, দুঃখ হয়। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমরা যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে আসি তখন আমাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো হয়। আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে এখানে ৩০ জনের বেশি আসা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এই এলাকায় নাকি আরও বড় নিরাপত্তা বলয়ে চলে গেছে। তারা সম্পূর্ণভাবে বাধার সৃষ্টি করছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবাইয়াত জামান জানান, আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশন রয়েছে। ফলে সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দ্রিমা উদ্যানে প্রবেশে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। এমনকি চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির কতজন প্রবেশ করতে পারবে, তাও লিখিতভাবে কিছু বলা হয়নি।

এন-কে

Feb2

মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ও মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন রেস্ট হাউজে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে বৈঠক করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর ৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে সড়ক ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পটির প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল অত্যন্ত আগ্রহী আছে। যদি আমরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই শেষ করতে পারি, তাহলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির মূল কাজ করা সম্ভব হবে। আর তাহলে বাংলাদেশের প্রথম মনোরেল চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। সভায় চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক জ্যাম নিরসন, বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মনোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া-সিএমএ প্রকল্প পরিচালক ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার, সিএমএ প্রকল্প এবং ম্যাস ট্রানজিট প্ল্যানার মুহাম্মদ আবদুর রকিব এবং সহকারী ম্যাস ট্রানজিট ইঞ্জিনিয়ার (বিআরটি) মোঃ ইনজামুল হক মেহেদী।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরী প্রকল্পের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী, বাণিজ্যিক রাজধানী এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যানজট এ নগরীর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কর্মঘণ্টার অপচয়, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং জনভোগান্তির কারণে নগরবাসীকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি বলেন, “মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। নগরবাসী দ্রুত, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর চাপ কমে যাবে এবং যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আমরা চাই পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট মহানগরীতে রূপান্তর করতে।”

মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় মনোরেল একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। আমরা আশা করছি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে আগামী বছরের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু এই নগরীর উন্নয়ন নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। মনোরেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডিটিসিএর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চট্টগ্রামের পরিবহন খাতের উন্নয়নে আপনাদের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও উন্নত নগরী উপহার দেবে।”

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ মশিউর রহমান জানান, ৫ জুন থেকে ৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডিটিসিএর ৫ সদস্যের এই টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সরেজমিন পরিদর্শন করছেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকল্পের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন।

সভায় গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, আধুনিক ও টেকসই নগরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মনোরেল প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত অবস্থান, সীমিত সড়ক অবকাঠামো এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর বিন্যাস বিবেচনায় এখানে মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেল অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। মনোরেল নির্মাণে তুলনামূলকভাবে কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থার ওপর কম প্রভাব পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যানজট নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করছে। মনোরেল চালু হলে নগরবাসী দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পাবে, একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।”

আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে মনোরেল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি একটি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। চট্টগ্রামেও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

মাটির গুণগত মান বজায় এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে হবে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৪ জুন কক্সবাজারের দুলহাজরায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।