খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বিএনপি : সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বিএনপি : সেতুমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে মরিয়া বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে তিনি এই বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে নতুন নির্বাচন কমিশন। একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে বাছাই করে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।’

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে মরিয়া বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তাই বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিয়ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির উপর শুরু থেকেই বিএনপির কোন আস্থা নেই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছিল। এর পর যতবারই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ততবারই তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজ যখন দেশে গণতান্ত্রিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ভিত্তি সুসংহত তখন গণতন্ত্র হত্যাকারী বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি অত্যন্ত লজ্জাকর।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির আন্দোলনের অংশ। অর্থাৎ বিএনপি নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে নয়, নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছিল। যে নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলও অংশগ্রহণ করেছিল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হওয়া ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের কারণে বিএনপি জনগণ দ্বারা বারবার প্রত্যাখাত হয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি জনগণের উপর দায় চাপায়। নিজেদের পরাজয় আড়াল করার লক্ষ্যে নির্লজ্জভাবে তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করে আসছে।’

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনি জিয়া-মোশতাক চক্র অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে আওয়ামী লীগের হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়।

এন-কে

Feb2

বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। প্রত্যেকবার বিএনপি সরকারের সময়ে শেয়ার বাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ছিল। এখনো হবে কিন্তু একটু সময় দিতে হবে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো সব লুটপাট করে ধ্বংস করা হয়েছে। শেয়ার বাজার ধ্বংস, জনগণের অর্থ ব্যাংকগুলো দিতে পারছে না। অনেকে ট্রিটমেন্ট করবে সেই টাকা ব্যাংক থেকে নিতে পারছে না। এর থেকে দুঃখজনক কিছু আছে? এসব রিকভার করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে এসেছে। এটাকে ঘুরিয়ে আনতে একটু সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি।

আমরা স্থিতিশীল, সহনশীল ও সংবেদনশীল রাজনীতির পথে চলছি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই রাজনীতির পথে যারা বাঁধাগ্রস্ত হবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ থাকে। এরা কোনো দলের না। আইন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

লোডশেডিং সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, লোডশেডিংয়ের সংকট নেই এ কথা বলা যাবে না। সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা অনেক দেরিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছি। ওয়াশিংটনে জ্বালানি তেলের দাম দিগুণ করা হয়েছে, সেই জায়গায় বাংলাদেশে ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের তো সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশটাকে তো চালাতে হবে। সরকার চলে ট্যাক্সের টাকায়। এজন্য আমাদেরকে সাবধান হতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃচ্ছ্রসাধনও করতে হবে, যাতে ঘরের লাইট অফ না হয়, কোনো কলকারখানা বন্ধ না হয়, মানুষের কাজকর্মে কোনো অসুবিধা না হয়। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকানের সভাপতিত্বে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গ্রাফিতি বিকৃতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বর্তমানে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও কড়া তল্লাশির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার পরিবেশ।

এই ঘটনার উত্তাপ শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, জড়িতদের শনাক্তে কাজ করার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

থমথমে কলেজে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাটেনি আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কলেজে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের কঠোর তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে পারে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশজুড়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের জের ধরে সারাদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ঘটনার পরদিন ২২ এপ্রিল বিকেলে চট্টগ্রামের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল নগরীর নিউ মার্কেট ও স্টেশন রোড এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আহত কর্মীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করে আহত কর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির। পরদিন বুধবার ডাকসুর ভিপি সাদিক কাইয়ুমের নেতৃত্বে শিবিরের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে পৌঁছায়। তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রাফিতি বিকৃতির প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করতে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারপত্র বিলি করেছে সংগঠনটি। তারা দোষী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদেও সংঘর্ষের উত্তাপ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনাটি জাতীয় সংসদেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই সংসদে এ নিয়ে কথা বলেন জামায়াত নেতা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টে যারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তারাই সিটি কলেজে হামলা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামলায় এক শিবির নেতার পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে এবং হামলাকারীদের অনেকেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি নেতা ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা। তিনি হামলার জন্য সরাসরি শিবিরকে দায়ী করে বলেন, ছাত্রদল কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছিল বলেই তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যা মূলত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছে তারা অন্যায় দেখে বসে থাকবে না, তারা এর প্রতিবাদ করবে।

ওয়াদুদ ভুঁঞার এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপি সংসদ সদস্যের ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ উল্লেখ করে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে এভাবে হুমকির সুরে কথা বলা এবং জনগণকে উসকে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়; এটি চরম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

ঘটনার মূলে ছিল গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক। কলেজের একটি ভবনে জুলাই বিপ্লব স্মরণে আঁকা ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন একদল নেতাকর্মী। মামুন এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে ‘আদু ভাই’ সম্বোধন করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে।

এই তিক্ততা থেকেই মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষ প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রদল তাতে বাধা দেয়। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বহিরাগতরা যুক্ত হয়ে ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে পাহাড়তলী ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফের পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ ও শনাক্তকরণ

মঙ্গলবার বিকেলে নিউমার্কেট মোড়ে সংঘটিত দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে কেবল শিক্ষার্থী নয়, উভয় পক্ষের হয়ে বিপুলসংখ্যক বহিরাগতও অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রমতে, ছাত্রদলের পক্ষে আশপাশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষে মাঠে নামেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষ চলাকালে অনেককেই হেলমেট পরা অবস্থায় ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে কিরিচ হাতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে; তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মির্জা ফারুক। এছাড়া লাঠি হাতে থাকা অন্য একজনকে রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অন্তত আটজন সক্রিয় সংঘাতকারীকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে, ঘটনার এক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষ থেকেই এখনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নামগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা থেকে টেকনাফের ভাড়া বাড়ল ৬৫ টাকা, পঞ্চগড়ের ৬০ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে টেকনাফের ভাড়া বাড়ল ৬৫ টাকা, পঞ্চগড়ের ৬০ টাকা

জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দূরপাল্লার বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। নতুন ভাড়া অনুযায়ী ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত নন-এসি বাসের ভাড়া বেড়েছে ৬৫ টাকা এবং উত্তর প্রান্ত পঞ্চগড়ের ভাড়া বেড়েছে ৬০ টাকা।

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে ৪০ সিটের বাসের ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি হচ্ছে— (প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১ সিটের বাস) / ৪০ = টাকা। রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) দেওয়া দূরত্ব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সওজের আওতাধীন ব্রিজ, টোল ও ফেরির ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে তৈরি করা বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, ঢাকা (গাবতলী) থেকে পঞ্চগড়ের (রুট-৯৩) দূরত্ব ৪২৪ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১১৮০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৬০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২৪০ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে টেকনাফের (রুট-৫০) দূরত্ব ৪৬২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১২৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৬৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩৩৫ টাকা।

ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের ভাড়া যত হলো
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে চট্টগ্রামের (রুট-৪৮) দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০৪ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে রাজশাহীর (রুট-৮২) দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৩৮ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে খুলনার (রুট-৯৬) দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৮০ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে বরিশালের (রুট-৩৫) দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৬৫ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ২৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৯১ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে সিলেটের (রুট-৫৭) দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৪০ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে রংপুরের (রুট-৮৮) দূরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৮৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৪১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯১১ টাকা।

ঢাকা (মহাখালী) থেকে ময়মনসিংহের (রুট-১৫) দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৩১৫ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৩০ টাকা।

এ ছাড়া বেশি যাত্রী চলাচলকারী ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কক্সবাজারের (রুট-৪৯) দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১০৯০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৫৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১৪৭ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কুমিল্লার (রুট-১৮) দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২৯০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০৬ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে বগুড়ার (রুট-৮৪) দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ২৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৭৮ টাকা।

এছাড়া দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট দিনাজপুর থেকে টেকনাফের (অন্যান্য রুট-১৬৮) দূরত্ব ৮৪৪ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২৩৪০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১১৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৪৫৭ টাকা।