খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১, ২:১৯ অপরাহ্ণ
বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)

তিনি মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন । তিনি বিশ্বঅলি, শাহানশাহ, জিয়া বাবা এবং শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাসা সিরাহুল আজিজ নামে বহুল পরিচিত।তিনি ১০ পৌষ ১৩৩৫ বঙ্গাব্ধ, ২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ খৃষ্টাব্ধ, ১২ রজব ১৩৪৭ হিজরী চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানার মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের সাত দিনের মাথায় তার নাম সৈয়দ বদিউর রহমান রাখা হলেও তাঁর পিতা সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্বপ্নে যোগে হুজুরে গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র আদেশ প্রাপ্ত হয়ে নাম বদলে রাখেন সৈয়দ জিয়াউল হক। তাঁর মাতা সৈয়দা সাজেদা খাতুন ছিলেন বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)’র দ্বিতীয় কন্যাপ্রথমদিকে গৃহ শিক্ষক মৌলভী মোজাম্মেল হকের নিকট তিনি আরবি বর্ণমালা ও কলমা শিক্ষা লাভ করেন। এরপর মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশুনা করেন নানুপুর আবু সোবহান হাই স্কুলে। তৎপরবর্তীতে নবম ও দশম শ্রেনীর পাঠ শেষে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল হতে এ্যান্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরিক্ষায় উর্ত্তীণ হলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোস ডিগ্রী কলেজে বি.এ. বা স্নাতক ডিগ্রী সমাপনী পরীক্ষার তৃতীয় দিনে হঠাৎ তার স্বাভাবিক ভাবের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তিনি আধ্যাত্মিক কিছু অলৌকিক অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হতে থাকলে অবশেষে সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিত্যাগ করে সরাসরি মাইজভাণ্ডার প্রত্যাগমন করেন। এ ছিল তাঁর জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শেষ প্রহর।

◑ সুফি মতাদর্শ:একথা সর্বজন বিদিত যে, উপরিউক্ত ঘটনার পর তিনি বোয়ালখালী হতে মাইজভাণ্ডারে ফিরে এসে একাগ্রচিত্তে আধ্যত্ম সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর জীবন আধ্যাত্মিক রহস্যমন্ডিত সূফিত্বে বিকশিত হয়। প্রকাশনাদি হতে জানাযায়, সূফিতাত্ত্বিক সাধনাকালে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তিনি দিনের পর দিন অনাহারে নির্ঘুম অবস্থায় কাটিয়ে দিতেন। কখনো তীব্র শীতে পুকুড়ের কনকনে ঠান্ডা জলে দিন-রাত একাধারে ডুবে থাকতেন। আবার কখনো সকল প্রকার জৈবনিক ক্রিয়া কলাপ মুক্ত থেকে ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন। সন্তানের এমতাবস্থায় তাঁর পিতা যখন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তখন তাঁকে স্বপ্নযোগে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) আদেশ করেন, ‘কেন তুমি এত উদ্বিগ্ন? যাও আমার লম্বা সবুজ জুব্বাটি(আলখেল্লা) তাকে পরিয়ে দাও’। তিনি সহসা গিয়ে সন্তানকে জুব্বাটি পরিয়ে দেন। এ ঘটনার পর হতে ধীর-স্থির হয়ে যাওয়ার মত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র প্রাত্যহিক আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর জীবনী লেখকগণ তাকে মজ্জুবে ছালেক দরবেশ ( ﺍﻟﺼّﻮﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺬﻭﺏ ﺍﻟﺴﺎﻟﻚ ) বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কখনো সমূদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে, গহীন জঙ্গলে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। তাঁর বহুল আলোচিত রহস্যময় অলৌকিক ঘটনাবহুল জীবন চিরস্মরণীয়। তিনি ত্বরিকার ধারাবাহিকতায় তাঁর পীর স্বীয় পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর পীরগত শাজরা ছোট মৌলানা সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভাণ্ডারী হয়ে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী(কঃ)’র সাথে মিলিত হয়ে হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী ও হযরত আলী (রাঃ) মারফত বিশ্ব নবী হযরতমোহাম্মদ (সঃ) পর্যন্ত ব্যাপৃত।

উপনাম:প্রকাশিত তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তগণের নিকট তিনি বেশ কিছু উপনামে বহুল পরিচিতি লাভ করেন। তন্মধ্যে দুইটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। ‘বিশ্ব অলি’ তার মূল প্রসিদ্ধ উপাধি হলেও তিনি সাধনা কাল হতেই ‘শাহানশাহ বাবাজান’ বা জিয়া বাবা নামে সমাজে পরিচিত। বংশধারা:তিনি জনৈক বদিউজ্জামান চৌধুরীর (বদন সিকদার) ছোট কন্যা সৈয়দা মনোয়ারা বেগমের সাথে ১৯৫৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর সূফিতাত্ত্বিক পীর এবং পিতা, লেখক ও সূফি সাধক অসিয়ে গাউসুল আযম সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি ওফাত বরণ করেন। সাজরা মোতাবেক তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সঃ)’র বংশধর। এ ধারা হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী এবং ফাতেমা জাহারা হয়ে বিশ্ব নবী মোহাম্মদ (সঃ)’র সাথে যুক্ত হয়।

উত্তরাধিকার:তিনি ছিলেন পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর একমাত্র পুত্র আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মঃ) ইংরেজী বিষয়ে সম্মান ডিগ্রী লাভের পর তাঁর সুফিধারা উত্তরাধিকার বা সাজ্জাদানশীন হিসাবে স্থলাভিসিক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক ট্রাস্ট নামের প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাস্টটি আর্তমানবতাসহ কতিপয় স্কুল, এতিমখানা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।ওফাত শরিফ:তিনি ২৬ আশ্বিন ১৩৯৫ বঙ্গাব্ধ, ১৩ অক্টোবর ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দ, হিজরী সনের পহেলা রবিউল আউয়াল রাত ১২টা ২৭ মিনিটে ওফাত বরণ করেন। রওজা-এ-পাক:তাঁর সমাধির উপর স্থপতি আলমগীর কবিরের নকশায় শাপলা ফুলের আঙ্গীকে নতুন একটি রওজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা স্থাপত্য শৈলীর আঙ্গীকে একটি আধুনিক স্থাপনা হিসাবে নানা প্রকাশনায় প্রসংসিত হতে দেখা যায়। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর ২৬ আশ্বিন, বিশ্বঅলি শাহানশাহ হক ভান্ডারী কঃ উরশ শরিফ কে কেন্দ্র করে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী কঃ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রিত মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ দেশ ও বিদেশে মানব সেবা মুলক কর্মসুচি পালন করে তাকে।

লেখক:মুহাম্মদ মোরশেদ রিমন প্রতিস্টাতা পরিচালক আলোকধারা পাঠাগার

দক্ষিণ ধর্ম পুর ফটিকছড়ি

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।