হতাশার সিরিজে টাইগাররা কে কেমন খেলল
পাকিস্তানের বিপক্ষে হতাশার এক সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। বোলাররা মোটামুটি পারফর্ম করলেও ব্যাটাররা ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ।
দলে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিল বোর্ড। কিন্তু পারফরমেন্স ছিল বিবর্ণ। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে টি-২০ খেললেও এখনো হতে পারেনি ভরসার প্রতীক। পাকিস্তানের বিপক্ষে কেমন করল বাংলাদেশ, তারই তুলনামূলক চিত্র দেখানো হলো।
গেল ক’বছর ধরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে পরিচিত মুখ নাঈম শেখ। তামিমের না থাকা আর লিটন-সৌম্যদের আসা যাওয়ার মিছিলে এরই মধ্যে খেলেছেন ৩৩টি টি-২০। অথচ তার ব্যাটিং দেখে মনে হয় এখনো তিনি ‘শিক্ষানবিশ’। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে করেছেন ৫০। শেষটায় ৪৭ করলেও স্ট্রাইক রেট বেজায় আপত্তিকর।
নাজমুল হোসেন শান্ত বোধ হয় নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে নিজেই দ্বিধান্বিত। তাই গোবলেট পেকে যায় কখন টেস্ট মেজাজে ব্যাট চালাবেন? আর টি-২০ সুলভ ব্যাটিং হবে কখন? সৌম্য-লিটনের জায়গায় খেলতে এসে তিনি তাদেরই অনুসরণ করেছেন। তিন ম্যাচে তার রান ৫২। স্ট্রাইক রেট ৯০-এর নিচে।
টেস্ট ওপেনার সাইফ হাসানকে কেন দলে ডেকেছিলেন নির্বাচকরা তার সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তিনিও যেভাবে ব্যাট করেছেন তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। দুই ম্যাচে করেছেন এক। এটাই তার টি-২০ বেস্ট। তিনি শেষ ম্যাচে জায়গা হারানোয় ফিরেছেন শামীম পাটোয়ারি। তবে তার ব্যাট থেকেও পাওয়া যায়নি আহামরি কিছু।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মোটামুটি ধারাবাহিক ছিলেন আফিফ হোসেন। তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ সংগ্রহটা তারই। তবে যে স্ট্রাইক রেটে তিনি ব্যাট চালিয়েছেন তা মোটেও টি-২০ সুলভ নয়। যা তার ক্যারিয়ারের সঙ্গেও বেমানান।
ব্যর্থতার বৃত্ত দেশের মাটিতেও ভাঙতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১৩ টি-২০ খেলে যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন, তা কোনো কাজেই আসেনি হোয়াইটওয়াশ এড়াতে। তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩১ রান। গড়, স্ট্রাইক রেট দুটোই হতাশার জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচেই হেসেছিল নুরুল হাসানের ব্যাট। তবে মুশফিকের জায়গা নেওয়া সোহান বাকি দুই ম্যাচে ছিলেন বিবর্ণ। স্ট্রাইক রেটে স্বস্তি উপহার দিলেও অ্যাভারেজ তার যাচ্ছে তাই। অবশ্য তা ওভার অল ক্যারিয়ারের তুলনায় কিছুটা বেশিই।
এই সিরিজে সোহানের সঙ্গে একশ’র ওপরে স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন শেখ মেহেদি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার ৩০ রানের ইনিংটি ছিল বেশ কার্যকর। তবে বাকি দুটো খুবই হতাশার। এই ফরম্যাটে ২৯টি ম্যাচ খেলেও তার ধারাবাহিকতার অভাব বেশ স্পষ্ট।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন