খুঁজুন
, ,

কৃষকের মুখে হাসি : বোয়ালখালীতে আমন ধান কাটার ধুম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 14 November, 2019, 5:46 pm
কৃষকের মুখে হাসি : বোয়ালখালীতে আমন ধান কাটার ধুম

পূজন সেন, বোয়ালখালী প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। সোনালী ধানের ডগায় জমা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীত আসন্ন। সন্ধ্যা হতেই চারদিকে জমাট হয়ে নামছে কুয়াশা। সারারাত ঝরা কুয়াশায় সিক্ত পাকা ধান।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে দল বেঁধে কৃষকেরা কাচি নিয়ে নামছে ধান ক্ষেতে। কৃষকের পরিশ্রম আর অনুকূল আবহাওয়ায় আমনের ফলনের সম্ভাবনাকে করেছে উজ্জ্বল। কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। ঘরের গোলাভরা নতুন ধানে হবে নানান পিঠাপুলি।

বাতাসে এখন শীতের আমেজ। গত ক’দিন ধরে বইছে উত্তুরে হাওয়া। শীতের এই ছোঁয়া কৃষকের মন-প্রাণেও দিয়েছে খুশির জোয়ার। শীতের কুয়াশা জমা শিশির বিন্দু ধানকে হৃষ্টপুষ্ট হতে সহায়তা করছে। রোপা আমনের যেসব ধান একটু বিলম্বে আসে শীতের এই কুয়াশায় ধানেও প্রাণ এনে দিয়েছে।

ধানের ভেতরের চাল শক্ত হতে সাহায্য করছে আর পোকামাকড়ের শঙ্কাও কেটে গেছে বলে জানায় কৃষকরা। তবে গেলবার আমনের ভালো দাম না পাওয়ায় এবারও কৃষকরা কিছুটা শংকিত ন্যায মূল্য নিয়ে।

উপজেলার কয়েকটি বিল ঘুরে দেখা গেছে, পুরোদমে কৃষকরা আমন ধান কাটায় লেগেছেন। কষ্টের ফসল ঘরে তোলার আনন্দে মাতোয়ারা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ আমন ঘরে তুলেছে কৃষকরা। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমন পুরোপুরি ঘরে উঠবে বলে ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানিয়েছেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমন চাষে কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ সহোযোগিতা দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। ফলে আমরা আশা অনুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পারছি।

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি কফিল উদ্দীন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আমন চাষে কৃষকের আগ্রহ থাকলেও ধান বিক্রিতে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকে চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি যাতে কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ না হারান।

আইপিএম সভাপতি মো. সেকান্দর ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, এবার প্রায় ৫ একর জমিতে আমন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। তবে চাষাবাদে খরচের সাথে ফলনের সমন্বয় হচ্ছে না। সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। একই কথা জানিয়েছেন আইপিএম সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বিকম, কৃষক রায়হান, আবদুল কাদের ও মো. শামসুল আলম।

বোয়ালখালী উপজেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৫শত হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪শত ৮০হেক্টর। প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হওয়ায় এবারের আমন ধান ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ।

তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, অতিবৃষ্টি, খরা, রোগ-বালাই তেমন একটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি কৃষকের সামনে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ বছর আমন চাষে ভালো ফলন হয়েছে।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।