খুঁজুন
, ,

মাঝরাতে চলন্ত লঞ্চে ৩০ যাত্রী পুড়ে অঙ্গার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 December, 2021, 9:54 am
মাঝরাতে চলন্ত লঞ্চে ৩০ যাত্রী পুড়ে অঙ্গার

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীর গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চটিতে আগুন লাগে।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। এতে প্রায় হাজারখানেক যাত্রী ছিলেন। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে। পরে পার্শ্ববর্তী দিয়াকুল এলাকায় ভেড়ানো হয়।

লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় লঞ্চে বেশ কয়েকজন যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণে বাঁচতে বেশ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন। বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধদের দ্রুত পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর দগ্ধদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, লঞ্চটিকে বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউড়িসাইক্লোন শেল্টারের পাশে (বিষখালী নদীর তীরে) নোঙর করা হয়েছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 7:37 pm
জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: মেয়র

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা জাতির গৌরব ও প্রেরণার প্রতীক। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস চিরকাল জাতিকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়রের সাথে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব। আমাদের শপথ হতে হবে, জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পথে শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মেয়র আরো বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তাই এ আন্দোলনকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন না করে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন মাত্রা লাভ করে। বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে ছিলেন। চট্টগ্রামেও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও জেলের মুখোমুখি হয়েও দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই আন্দোলনের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন।

মেয়র জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, রাব্বি, ফারুক, তানভীরসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ‘আমার আন্দোলন’ নয়, ‘আমাদের আন্দোলন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করে তুলি।

প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 7:33 pm
প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ—সে যেই হোক না কেন। এটাই আমাদের সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা।”

আজ বুধবার চট্টগ্রামে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও বীর জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যের সূচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, শহীদদের মহান আত্মত্যাগ কোনো অর্থ বা বস্তুতাত্ত্বিক প্রাপ্তি দিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়। তাদের রক্তের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মীর হেলাল জোর দিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; বরং এটি দীর্ঘ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ দেশের আবালবৃদ্ধবনিতার এক অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। জনগণের জন্য উৎসর্গীকৃত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে এই আন্দোলনের মূল সার্থকতা।

গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একসূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন গঠনমূলক মতামত প্রদানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইসরাফিল খসরু, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত ও বীর জুলাই যোদ্ধাগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করবো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 August, 2026, 3:43 pm
চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করবো

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেবো। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবো।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এ জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়, বরং গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেসবের স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনা ঘটেছে আর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা ও ইতিহাস সংগ্রহ করে জাদুঘরে নিয়ে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছেন সেটিও তারা চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন সেই চিঠির লেখকের মতো হয়। তারা যেন বলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে এসেছি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। শুধু দেখে চলে যাওয়া নয়, তারা যেন এখানে বসে চিন্তা করে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা লিখে রেখে যায়।

তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে, যেন মানুষ জানতে পারে কীভাবে এবং কেন তারা জীবন দিয়েছিলেন।

ড. ইউনূস বলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল। তারা ছিল সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে। তারা রাজপথে নেমেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো এই বাংলাদেশ আর আগের মতো চলতে পারে না, আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে এই নোবলজয়ী অধ্যাপক বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ দেশের মানুষের সামনে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আশা করি দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এখানে আসবেন। শুধু দেখার জন্য নয়, ভাবার জন্য কেন এটি ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং এখান থেকে আমরা ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবো।