সুন্দরবন পরিদর্শনে আসছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন ইউনোস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’র তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৭ সালে। পরে সুন্দরবনের ৬৫ কিলোমিটার দূরে সরকারের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা চ্যালেঞ্জর মুখে পড়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের পরিবেশকে প্রভাবিত করবে না, সরকারের এই নিশ্চয়তায় ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির প্রতিনিধিরা আসছে সুন্দরবন পরিদর্শনে।
আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে। এই পরিদর্শনে ইউনোস্কোর প্রতিনিধিরা বিশ্ব ঐতিহ্যের পূর্বশর্তগুলো কতটুকু মেনে চলা হচ্ছে তা দেখবে ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এর আগে ২০১৬ সালের মার্চে ইউনেস্কোর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সুন্দরবন পরিদর্শন করেন। এসময় তারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তাদের প্রতিবেদনে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রকল্পটি অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়। তা না হলে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা বাতিল করে একে ‘বিপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে পোল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপর গতবছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি প্যারিসে ইউনেসকো সদর দপ্তরে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের যুক্তিগুলো তুলে ধরেন এবং প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ইউনেসকোর সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
শেষ পর্যন্ত এ বছর জুলাই মাসে আজারবাইজানের বাকুতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অন্তর্ভুক্তি স্থগিত রাখা হয়। সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির প্রতিনিধিরা ডিসেম্বরে সুন্দরবন পরিদর্শনে আসছেন।
সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ইউনেস্কো প্রতিনিধি দল সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করে ‘নেতিবাচক’ কিছু পাবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তির পর থেকেই তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
তাদের দাবি, এই প্রকল্প সুন্দরবন ও সেখানে থাকা বণ্যপ্রাণীদের জন্য ‘ভয়াবহ হুমকি’র কারণ হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ও উন্নতমানের আমদানি করা কয়লা ব্যবহার করা হবে। এতে সালফার, ফ্লাই অ্যাশ ও অন্যান্য উপাদানজনিত বায়ুদূষণের পরিমাণ ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ থাকবে, যার ফলে পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।


আপনার মতামত লিখুন