খুঁজুন
শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর : আটক সবাই জামিনে,বৌদ্ধরা শঙ্কিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
রামু ট্র্যাজেডির ৮ বছর : আটক সবাই জামিনে,বৌদ্ধরা শঙ্কিত

-ট্যাজেডি

আজ সেই ভয়াল ২৯ সেপ্টেম্বর। ২০১২ সালের এ দিনে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়।

২০১২ সালের এই দিনে সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীরা ঝলসে দিয়েছিল কক্সবাজারের রামু উখিয়ার বৌদ্ধ বিহার ও পল্লী। বিভীষিকাময় সেই রাতে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে প্রাণে বাঁচতে দিগবিদিক ছোটাছুটি করেছিলেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজারো অসহায় নারী-পুরুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে এ দিনে কক্সবাজারের রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘর এবং পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া ও টেকনাফে ৭টি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হয় প্রাচীন ও দূর্লভ অনেক বৌদ্ধ মূর্তি। এর পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর একই ধরনের হামলা সংঘটিত হয় উখিয়ার বিহারে।

সে ট্র্যাজেডিরই আজ ৮ বছর পূর্ণ হলো। সেদিনের এ নারকীয় ঘটনাটির জন্য আজও বাংলাদেশের মাটিকে কলঙ্ক বহন করতে হচ্ছে। ঘটনার ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ধরা পরেনি মূল অপরাধীরা। এতে শঙ্কায় আছেন বৌধ সম্প্রদায়ের মানুষ।

তবে খুব কম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়ে যাওয়া মন্দির, বিহার এবং বসতবাড়ী আধুনিক নকশা ও শৈলীতে দৃষ্টিনন্দন করে সংস্কার আর পুননির্মাণ করে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এক বছর পার না হতেই দিগন্ত মাথা তুুলে দাঁড়িয়েছে নবনির্মিত বৌদ্ধ মন্দিরগুলো। এই নির্মাণ শৈলী বৌদ্ধদের হৃদয় মন্দিরে দিয়েছে দোলা। ভূলিয়ে দিয়েছে অতীতের সকল যাতনা।

জানা যায়, এই দুই দিনে রামু ও উখিয়ার ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৮টি মামলা করেন। ঘটনার পর ৯৯৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচারাধীন ১৮টি মামলায় সাক্ষী না পাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। এ নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা হতাশা আর আতঙ্ক রয়েছে।

উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে মামলাগুলোর বিচার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। দেশে-বিদেশে আলোচিত এই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের একজনও বর্তমানে জেল হাজতে নেই। সবাই এখন জামিনে আছেন। এদের মধ্যে অনেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন।

এতে মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী বৌদ্ধ সম্প্রদায়। আতঙ্কে রয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সম্প্রদায়ের নেতা অলক বড়ুয়া বলেন, ‘সমস্যা না হলেও আমরা একটু শঙ্কিত। কারণ মূল আসামি যারা তারা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। সেজন্য আমরা শঙ্কিত।

এদিকে রামুর ঘটনার ৮ বছর উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ভোর ৫ টায় বুদ্ধপূজা, সকাল ৭ টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ৯টায় অষ্ট পরিষ্কার দান, দুপুরে অতিথি ভোজন, দুপুর ২ টায় শান্তি শোভাযাত্রা, সাড়ে ৩ টায় স্মরণসভা, সন্ধ্যা ৬ টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা। বৌদ্ধ মন্দিরে দেয়া আগুন নিভে গেছে। তবে সম্প্রদায়ের মনে যে ব্যাথার দাগ পড়েছে তা মুছবে কি কখনও।

Feb2

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে কৃষকরা হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাত ঘটলে আবুল কালাম নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।

ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ নামে দুই কৃষক নিহত হন। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক লিটন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

 

প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে ‘অবিস্মরণীয়’ সাফল্য

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গতকাল ১৭ এপ্রিল এই দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। সরকারের এই ৬০ দিনের পথচলাকে ‘অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ৬০টি উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

লিখিত বক্তব্যে মাহাদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে একে নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি ‘আন্তর্জাতিক রোল মডেল’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা দিতে সরকারের বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

বেকারত্ব নিরসন ও প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়াতে সরকারি শূন্য পদ পূরণের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মাহাদী আমিন জানান, দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত

কর্তব্যরত অবস্থায় ‘নিজের অস্ত্রের গুলিতে’ খুলনা রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ বলছে, নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মৃত্যুর বিষয়টি খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।’

পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বলেন, সম্রাট বিশ্বাস একজন ভালো ও কর্মঠ কনস্টেবল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। তবে এ বিষয়ে তিনি সহকর্মীদের কাছে কখনো কিছু জানাননি।