খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আত্মকেন্দ্রীক ও স্বার্থপরতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আত্মকেন্দ্রীক ও স্বার্থপরতা

স্বার্থপরতা হলো নিঃস্বার্থপরতার এক অপূর্ণরূপ। যেসব মানুষের জীবনে নিঃস্বার্থতা কখনো পূর্ণতা পায় না, তাঁদের মনেই এই অভিশোপ্ত স্বার্থপরতা বিরাজ করে।

যেমন করে দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে রাতের অন্ধকার পৃথিবীকে গ্রাস করে, ঠিক তেমনি মানুষের মনে নিঃস্বার্থতা আর পবিত্রতা কমে গেলে মানুষের মনে কালরাজ স্বার্থপরতা বিরাজ করে।

বর্তমানের এই সময়ে স্বার্থপরতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু নিজেকে ভালোবাসে, অন্যের চাওয়া পাওয়ার থেকে সর্বদা নিজের চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দেয়।

আপনি যদি ক্রমাগতভাবে এরকম স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সাথে ওঠাবসা করতে থাকেন তবে আপনার জীবন হয়ে উঠবে শোচনীয়। কিন্তু যদি এমন হয় তীর আপনার দিকেই এসে পড়ছে?

অর্থাৎ স্বার্থপর মানুষ হিসেবে যদি নিজেই অভিযুক্ত হন তখন কি করবেন? তাও কিন্তু ভাবার বিষয়। আসলে কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে একজন মানুষকে স্বার্থপর বলা যেতে পারে? তা আমাদের মুখ্য বিষয়।

আসলে স্বার্থপর তারাই যারা সর্বদা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং অন্যের চাহিদা, অনুভূতির কথা যারা বিবেচনা করেনা। পৃথিবীতে ‘নিজে ভালো’ থাকতে চাইলে ‘স্বার্থপর’ হয়ে যাও, আর ‘মানুষের কাছে ভালো হয়ে’ থাকতে চাইলে ‘নিঃস্বার্থ’ হও!

আপাত দৃষ্টিতে স্বার্থপর হওয়া দোষের কিছু নয় বলে প্রতীয়মান হয়। কেননা অনেকে মনে করেন, সফল হতে হলে এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

তবে স্বার্থপরতা তখনই দোষের হয়, যখন তা ‘আমি’ বা ‘আমার’ সীমানা পার হয়ে অন্যের স্বার্থের ক্ষতি করে। অন্যের ক্ষতি না করেও স্বার্থপর হওয়া যায়। প্রবাদে বলে মানুষ মাত্রই স্বার্থপর। তবে কোন বিষয়টিকে আসলে স্বার্থপরতা বলে? খুব বেশি স্বার্থপরতা কি নিজেকে একাও করে তোলে না? চলুন দেখি বিশেষজ্ঞরা কী বলেন।

মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞের মতে ‘আমরা সবাই কম বেশি নিজেকে নিয়েই ভাবতে পছন্দ করি। নিজের সুযোগ সুবিধা, আরাম আয়েশ, ভালোমন্দ সবার আগে হিসেব করে নিই।

তবে সেটা যদি জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় এবং অন্যর কথা না ভেবে শুধু নিজেরটাই বেশি বেশি ভাবতে থাকি তাহলে তা বেশি স্বার্থপরতায় রূপ নেয়।

বেঁচে থাকার তাগিদে এবং কাজে সফলতার জন্য কিছু মাত্রায় স্বার্থপরতা ভালো। তবে বেশি মাত্রায় স্বার্থপরতা অন্যের জন্য সরাসরি এবং নিজের জন্য পরোক্ষভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

স্বার্থপর না হলে আমার চিন্তা হতো সার্বজনীন, সকলের তরে। তাহলে আমার কি হতো? অপরের সেবা বা মঙ্গল কামনায় আমার জীবন শেষ হত। নিজের বলতে কিছুই থাকতো না। সমাজে নানা শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে, বিভিন্ন ধরণের মানুষের উদ্ভব ঘটে।

সমাজে চলারপথে বিভিন্ন মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। সবার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে না কিছু সংখ্যক মানুষের সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ যারা সবর্দা সবার স্বার্থ নিয়ে কাজ করে বা চিন্তা করে আর অধিকাংশ মানুষ নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তাদেরকে মানুষ বিভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে।

তারা বিভিন্ন সামাজিকমূলক কাজে নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। সমাজে কেউ মানুষের কাছে শ্রদ্ধা পাত্র আবার কাউকে মানুষ ঘৃণা করে। তার ব্যবহার আচার আচরনে কারনে অন্য মানুষের কাছে তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।

মানুষ যদি সর্বজন কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে তাহাকে যে বিষয়টি তার কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরী তা হল ন্যায়পরায়নতা আর মানুষের ন্যায়নিষ্ঠতা। তখনিও বুঝা যাবে যখন সে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত থাকলে সে যদি ন্যায়নীতি তার মধ্যে কাজ করে তখন সে মানুষ সমাজে গ্রহণযোগ্যতা উর্ধে উঠে।

মানুষের নিজের স্বার্থের আঘাত হলে, আপনজন পর হয়ে যায়, দেখে না সে ন্যায়নীতি, তখন তার কাছে মানুষ্যত্ব বলতে কিছু থাকে না। সে নিজের আপনজন ও কাছের মানুষ কে কিছু বলতে দ্বিধাবোধ করবে না! সমাজে মানুষের কল্যাণমুলক কর্মকান্ড বা কাজ নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত থাকলে বা আঘাত আসলে বাধা দেয়।

নিজের স্বার্থ থাকলে সমাজে মানুষের কল্যাণে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করলে সেই মানুষ সর্বজনকৃত সকলে কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়ে থাকে। এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের আশে পাশে ঘঠে যাচ্ছে তখন তার কাছে মানবসেবা বলতে কিছু থাকে না।

তখন সে জ্ঞান বিবেক ও বুদ্ধির সমন্বয় সে বিচার করবে কোনটি সঠিক তাহলে সে ন্যায়, ইনসাফের স্বার্থে নিজের ভিতরে স্বার্থ ছাড় দিবে। তখন মানুষ কে বিচার করা যাবে সে মানুষটি স্বার্থপর কি না?

কারণ মানুষ অনেক বড় উচ্চশিক্ষিত হলেও অনেক বড় মাওলানা হলে স্বার্থের আঘাত হলে তার মাঝে ন্যায়নীতি খুঁজে পাওয়া যায় না। সে মানুষের গীবত করে বেড়ায় সমাজে। নিজেকে ভাল মানুষ বলে দাবি করে। এর বাস্তব চিত্র সমাজে বিদ্যমান।

অনেক মানুষ সমাজে বসবাস করে তারা সবসময় নিজের স্বার্থ উদ্ধারের কারনে মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। সেই ভ্রাতৃত্ব বেশি দিন স্থায়ীত্ব পায় না, কিছুদিনের জন্য। সেই মুখে করে থাকে, আন্তরিক নয়, কারন সে জানে যে স্বার্থ উদ্ধার হলে আর সে তার সাথে যোগাযোগ রাখবে না। কারন তার সম্পর্ক স্বার্থ হাসিলের। সমাজে সবাই তাদেরকে খুব ভাল করে চিনে।

নিজের স্বার্থ চাই না এমন মানুষ সমাজে কম কিন্তু সেই মানুষ স্বার্থপর নয় যে সবার স্বার্থ দেখে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে। সমাজে কারো সম্পর্কে অবগত না হয়ে মানুষকে ভাল স্বীকৃতি দেয়া আমার মতে সন্তোষজনক নয়।

চেহারা ও পোশাকে যদি তাঁকে সূফীসাধক, ধার্মিক আর বুজুর্গ দেখালেও বাহ্যিক তার যথার্থ ব্যবহার কতটুকু হচ্ছে তা দেখবে তার আশে পাশে প্রতিবেশী ও পরিবার! একজন মানুষ তার পরিবারে কেমন আচরণ করে আর বাহ্যিক ভাবে কেমন আচরন করে তা দেখতে হলে তার সাথে কয়দিন চলাফেরা আচার ব্যবহার করার মধ্যেমে ফুটে উঠবে তার লেনদেন, স্বার্থেপরতা, ইনশাফ, ন্যায়নিষ্ঠতা, সবেই সম্পর্কে জানতে পারবে তার আপনজনও কাজের মানুষ তখন এটা অনুভব করা যাবে সেই মানুষ ভাল না মন্দ।

মানুষ বাহ্যিক যে আচরণ করে তা দেখলে মানুষকে খুব ভাল মনে হয়, এটা দিয়ে মানুষের ভাল মন্দ বিচার করা যাবে না। চলাফেরা অনেক কাজকর্মে মানুষের চারিত্রিক সনদ দরকার পরে তখন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে গেলে একজন লোক তাঁর চারিত্রিক সাটিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবে? এই সনদের মূল্য কতটুকু তা সবাই জানে এই সাটিফিকেট দিয়ে মানুষ কে সমাজে কেউ বিচার করে না। এই সনদের মূল্য অর্থহীন।

মানুষ কে বিচার করলে ভাল মন্দ সাটিফিকেট দিলে তার আপনজন ও প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবহার অন্যতম। মানুষের বাহ্যিক আচরণ ব্যবহার আর প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবহারে এর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য নিহিত। মানুষের এই দুইটি ব্যবহার এক পাল্লা ওজন করা যাবে না।

মানুষ সম্পর্কে আরো জানতে হলে তার সাথে লেনদের করলে খুব ভালভাবে জানা যাবে। কারন সমাজে অনেকে মানুষ ভাল বলে কিন্তু যারা তাদের সাথে লেনদেন করছে অথবা কিছুদিন অতিবাহিত করেছে তাঁরা তাঁদের কে ভাল বলতে নারাজ।

কারন একজন মানুষ ভাল করে চেনা যায় তার সাথে লেনদেন করলে বা তার সাথে কিছুদিন অতিবাহিত করলে। তখন তার সব দূর্বলতা বা কথাবার্তা কাছের মানুষ বা যার সাথে সে লেনদেন করছে তার কাছে ধরা পড়বে? কারন সমাজে মানুষ যারা ভাল মানুষ বলে স্বীকৃতি দেয় তাঁদের কাছে সেই উপরে উল্লেখিত দিক গুলো অনুপস্থিত থাকে।

সমাজে একশ্রেণী লোক বাস করে যারা নিজেদের মুখে নিজেকে ন্যায়বান ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে থাকে বলে দাবি করলে তাঁদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে তার প্রতিবেশীদের সাথে আচার আচরন ব্যবহার ও সমাজে মানুষের সাথে লেনদেন কাজ কর্মগুলো তখন বুঝতে পারবেন সেই মানুষ কেমন? মানুষ নিজের মুখে অনেক ভাল মানুষ বলে থাকলে বাস্তবে দেখা যায় তাঁর কোন মিল খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না।

যাদের কে মানুষ সমাজে শ্রদ্ধা করে তাদের করার পিছনে কিছু কারণ বিদ্যমান রয়েছে যেমন কিছু মানুষকে মানুষ টাকা পয়সা, প্রভাব, বংশধর, আধিপত্য কারণে বা সমাজে দূর্বল হওয়ার কারনে অন্যায় করলেও তাদের সম্পর্ক কিছু বলে না।

মানুষ বিভিন্ন কারনে ভয় করে। তখন তাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা না করলে মুখে শ্রদ্ধা আর ভক্তি দেখায়। এই শ্রদ্ধার কোন সমাজে গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই শ্রদ্ধার পিছনে অনেকগুলো কারণ নিহিত।

সমাজে বসবাস করলে অধিকাংশ মানুষকে সমাজে দেখা যায় নিজের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে আচার আচরণ ব্যবহার সন্তুষ্ট জনক নয় বাহ্যিক ব্যবহার গুলো ভদ্র ও নম্র হলেও প্রতিবেশী সাথে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক ছিন্ন। একজন মানুষের বাড়িতে কিছুদিন থাকলে যে কোন জ্ঞানবান মানুষ তা অনুভব করতে পারবে দৈনন্দিন তার কাজ কর্মগুলো, সেই মানুষের কাছে তা ফুটে উঠবে।

যারা সমাজে দেশে বিদেশে সর্বসাধারণের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়ে আসছে তাঁদের সম্পর্কে খুজ নিলে জানতে পারবেন তারা তাদের প্রতিবেশী, পরিবার ও সমাজের সকলের কাছে শ্রদ্ধার এক অন্যতম নজির স্থাপন করে আসছে। কারন যারা সমাজে পরিবারে কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাঁরা সর্বসাধারনের কাছে শ্রদ্ধা পেয়ে থাকে।

মানুষের বিপদ আপদে যারা প্রিয়জন, আত্মীয় স্বজনদের থেকে কাছের মানুষ যাদের কে বিপদ আপদে সবসময় কাছে পাওয়া যায় তাদের সাথে আচার ব্যবহার ভাল করা অত্যন্ত কর্তব্য। সেই মানুষের সাথে মানুষ স্বার্থে আঘাত বা সামাজিক বিভিন্ন কারণে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন।

আবার দেখা যায় যারা মানুষের চলাফেরা কোন আত্মীয় স্বজন, রক্ত সম্পর্ক না থাকলেও সেই মানুষ প্রিয়জনদের মত হয়ে থাকে অর্থাৎ মানুষের আচার ব্যবহারে কারনে রক্ত সম্পর্ক আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীদের মাঝে দূরত্ব থাকলে বাহ্যিক ভাবে মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করার কারনে অনেকদূরে মানুষে কাছের প্রিয়জনদের মত পরিণত হয়।

সর্বোপরি যে বিষয়টি মানুষের মাঝে থাকতে হবে আর যা না থাকলে মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ আর মানবতা হারিয়ে ফেলবে তা হল সমাজে সব মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার করা এই ভাল ব্যবহার করতে হলে যদি প্রতিবন্ধকতা আসে অথবা নিজের স্বার্থের আঘাত হলেও ইনসাফের স্বার্থে ছাড়ের মনোভাব তৈরি করা।

মানুষ সম্পর্কে উল্লেখিত বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে মানুষকে ভাল স্বীকৃতি দেয়া বোধগম্য হবে না। সেই বিষয়টি জেনে ভাল বললে সমাজে ও সর্বসাধারণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষ তা নির্দিধায় মেনে নিবে।

তাহলে সেই মানুষ সমাজে দেশে বিদেশে সব মানুষের কাছে দলমত নির্বিশেষ সম্মান ও শ্রদ্ধার ব্যক্তি হয়ে উঠবে। আর আত্মকেন্দ্রীক ও স্বার্থপরতা থেকে উর্ধ্বে উঠে জনকল্যানে নিবেদিত হতে পারাই সফল স্বার্থক জীবনের অংশ বিশেষ।

কেননা ভালো কাজের জন্য মানুষ মরেও অমরত্ব লাভ করে। তাই সমাজ ব্যবস্থায় এর প্রতিফলন ঘটাতে পারলেই সমাজ ও আরো সুন্দর হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। আসুন আমরা বাস্তব জীবনে আত্মকেন্দ্রীক ও স্বার্থপরতাকে পরিহার করে সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বন্ধন গড়ি।

লেখক : কলামিষ্ট, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।

Feb2

বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট উদ্বোধন

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় গিয়ে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়, অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এই অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই আশপাশের ইউনিয়ন ও উপজেলার নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠ ও আশপাশ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। কর্মসূচি শেষে তিনি বাগবাড়ী এলাকায় একটি খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি তাঁর পৈতৃক বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে শহরে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে নতুন প্রটোকল জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে নতুন প্রটোকল জারি

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব ও উপস্থিতির বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) সংক্রান্ত নির্দেশাবলি প্রকাশ করা হয়, যা গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়।

বিশেষ নির্দেশাবলি
• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার সময় মন্ত্রণালয়/বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

• দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।

• জেলা সদরে যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।

• জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী ইচ্ছা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাঁর সফরসূচি বাতিল করবেন।

• উপজেলা সদর বা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

• আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে বিমানবন্দর বা রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা/চট্টগ্রাম/কক্সবাজার/যশোরের জেলা প্রশাসকের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। যশোর ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার/মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

• কোনো জেলা/উপজেলায় আগমন/প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর/রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

• বিভাগীয় কমিশনার, সদরদপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।

• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

• রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সকল পুলিশ স্টেশন/ফাঁড়িকে অবহিত করবেন। যে স্টেশনে ট্রেন থেকে অবতরণ এবং ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন বা কোনো জংশনের যে স্থানে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক/উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

সাধারণ নির্দেশাবলি
• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাতে হবে।

• সার্কিট হাউজ/সরকারি রেস্ট হাউজ ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্রে অবস্থানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

• সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি, সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। সরকারি সফরের সময় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব/সহকারী একান্ত সচিবগণ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী এ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট এ সংক্রান্ত জারি করা নির্দেশাবলির জায়গায় নতুন এই নির্দেশাবলি কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ

সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠককালে তারা দুদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার (মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দুদেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।

সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণক সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিকের বাংলাদেশি ডকুমেন্টস রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে।

এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে তিনি সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।