খুঁজুন
, ,

কেমন হল আইপিএলে এবারের ১০ দল!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 February, 2022, 6:14 pm
কেমন হল আইপিএলে এবারের ১০ দল!

গত শনি ও রোববার দু’দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আইপিএল-২০২২ এর মেগা নিলাম। সেইসঙ্গে তৈরি হয়ে গেল আসন্ন আইপিএল-এর দশটি দল। নিলামে কারা কতটা গুছিয়ে নিতে পারল, কী পারল না, কেমন হতে পারে দলগুলোর প্রথম একাদশ- এসব নিয়েই পাঠকদের জন্য আজকের এই আয়োজন।

চেন্নাই সুপার কিংস:
মোটামুটি আগের দলটিই ধরে রাখতে পেরেছে গতবারসহ মোট চারবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। দীপক চাহার, ডোয়াইন ব্র্যাভো, আম্বাতি রায়ডু, রবিন উথাপ্পাকে নিয়েছে এবার। রুতুরাজ গায়কোয়াড়, মহেন্দ্র সিং ধোনি, মঈন আলী এবং রবীন্দ্র জাদেজাকেও রেখে দিয়েছে।

প্রোটিয়া ব্যাটার ফ্যাফ ডু প্লেসিসের বদলি হিসেবে নিয়েছে কিউয়ি তারকা ডেভন কনওয়েকে। এছাড়া শার্দূল ঠাকুরের জায়গায় শিবম দুবে এবং জস হ্যাজলউডের জায়গায় নেয়া অ্যাডাম মিলনে কাজ চালিয়ে দিতে পারবেন। তবে দলটি পায়নি ভাল একজন বিদেশি ওপেনার।

সম্ভাব্য একাদশ: রুতুরাজ গায়কোয়াড়, ডেভন কনওয়ে, মঈন আলী, আম্বাতি রায়ডু, মহেন্দ্র সিং ধোনি, রবীন্দ্র জাদেজা, শিবম দুবে, ডোয়াইন ব্র্যাভো, দীপক চাহার, অ্যাডাম মিলনে, তুষার দেশপাণ্ডে।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স:
প্রথম দিন ঈশান কিশানকে ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে তুলে নিয়েও নিলামের দ্বিতীয় দিনে পকেটে সব থেকে বেশি টাকা নিয়েই নামে মুম্বাই। ফলে জোফ্রা আর্চার, টিম ডেভিড, ড্যানিয়েল সামস, টিমাল মিলসকে দলে নিতে অসুবিধে হয়নি দলটির।

যদিও দলটিতে টিম ডেভিড, ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের মতো ক্রিকেটার আছেন ঠিকই। কিন্তু কুইন্টন ডি’কক, হার্দিক ও ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার অভাব বোধ করবে মুম্বাই। গত চার বছরে এই তিন জনই মুম্বাইকে অসংখ্য ম্যাচ জিতিয়েছেন। ভাল একজন দেশি স্পিনারও নেই দলটিতে।

সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা, ঈশান কিশান, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, টিম ডেভিড, কায়রন পোলার্ড, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, জয়দেব উনাদকাট, টিমাল মিলস, মায়াঙ্ক মারকাণ্ডে, জাসপ্রীত বুমরাহ।

পাঞ্জাব কিংস:
প্রীতি জিনতার দলে রয়েছে দুর্দান্ত ব্যাটিং গভীরতা। লোকেশ রাহুল না থাকলেও দলটি এবার পেয়েছে শিখর ধাওয়ান, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, জনি বেয়ারস্টো ও লিয়াম লিভিংস্টোনকে। এরপরই রয়েছেন শাহরুখ খান, ওডিন স্মিথ, হরমানপ্রীত ব্রার। দলে রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। যদিও মিডল অর্ডারে নেই কোনও ভারতীয় ব্যাটার।

সম্ভাব্য একাদশ: শিখর ধাওয়ান, জনি বেয়ারস্টো, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, লিয়াম লিভিংস্টোন, শাহরুখ খান, ঋষি ধাওয়ান, হরমানপ্রীত ব্রার, ওডিন স্মিথ, কাগিসো রাবাদা, অর্শদীপ সিং, রাহুল চাহার।

রাজস্থান রয়্যালস:
সাঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার, যশস্বী জ্যাসওয়ালকে রেখে দিতে পেরেছে রাজস্থান। এছাড়াও এবার দলটি গড়েছে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যুজবেন্দ্র চাহাল, ট্রেন্ট বোল্ট, প্রসিধ কৃষ্ণকে নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণ।

তবে দেবদূত পাড়িক্কাল এবং যশস্বী জ্যাসওয়ালের ওপেনিং জুটিটা অনেকটাই অনভিজ্ঞ। দু’জনেই বাঁহাতি। বাটলার ওপেন করলে একজনকে পরে নামানো হতে পারে। দলের ভারসাম্য নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

অন্যদিকে, ন্যাথান কুল্টার-নাইলকে খেলালে একজন ব্যাটার কম পড়বে। জিমি নিশামকে খেলালে বোলিংয়ে শেষের ওভারে সমস্যায় পড়তে পারে দলটি।

সম্ভাব্য একাদশ: যশস্বী জ্যাসওয়াল, দেবদূত পাড়িক্কাল, সাঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার, শিমরন হেটমায়ার, জিমি নিশাম, রিয়ান পরাগ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ট্রেন্ট বোল্ট, যুজবেন্দ্র চাহাল, প্রসিধ কৃষ্ণ।

দিল্লি ক্যাপিটালস:
এবারে ডেভিড ওয়ার্নারকে দলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম চার জন আইপিএল-এর অন্যতম সেরা। বোলিংয়েও বৈচিত্র আছে। তবে পায়নি শিখর ধাওয়ান, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, কাগিসো রাবাদার মতো ক্রিকেটারকে। ফলে আগের সেই দল ধরে রাখতে পারেনি দিল্লি।

এছাড়া আরও একজন বিদেশি ফাস্ট বোলার দরকার ছিল দিল্লির। অ্যানরিখ নরকিয়া এখনও চোট সারিয়ে উঠতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই খেলেননি প্রোটিয়া এই পেসার।

সম্ভাব্য একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, পৃথ্বী শ, মিচেল মার্শ, ঋষভ প্যান্ট, মানদীপ সিং, রোভমান পাওয়েল, অক্সার প্যাটেল, শার্দূল ঠাকুর, কুলদীপ যাদব, অ্যানরিখ নরকিয়া, চেতন সাকারিয়া।

কলকাতা নাইট রাইডার্স:
নিলামের প্রথম দিনে নীতিশ রানা, প্যাট কামিন্স, শিভম মাভিকে তুলে নিয়ে গতবারের মূল দলই ধরে রেখেছে কলকাতা। সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াস আইয়ারকে দলে নিয়েছে সাড়ে ১২ কোটিতে। আর দ্বিতীয় দিনের শেষ বেলায় দলে নিয়েছে অ্যালেক্স হেলস, স্যাম বিলিংস, টিম সাউদি ও উমেশ যাদবকে।

তবে এবার আর দলে নেয়নি সাকিবের মত অলরাউন্ডারকে। এছাড়া হেলসকে সব ম্যাচে খেলানো সম্ভব না হলে ওপেন কে করবেন, তা ঠিক নেই। আজিঙ্কা রাহানেকে ওপেন করতে পাঠালে পাওয়ার প্লে-র সুবিধা ওঠানো নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

সম্ভাব্য একাদশ: ভেঙ্কটেশ আইয়ার, আজিঙ্কা রাহানে, শ্রেয়াস আইয়ার, নীতিশ রানা, স্যাম বিলিংস, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারাইন, প্যাট কামিন্স, শিভম মাভি, উমেশ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী।

লখনউ সুপার জায়ান্টস:
নিলামে দেখে মনে হয়েছে, সব থেকে বেশি তৈরি হয়ে এসেছিল জায়ান্টরাই। ছয় জন অলরাউন্ডারকে দলে নিয়েছে তারা। প্রথম একাদশে যথেষ্ট ভারসাম্য। তবে পায়নি একজন অভিজ্ঞ স্পিনার।

সম্ভাব্য একাদশ: লোকেশ রাহুল, কুইন্টন ডি’কক, মনীশ পাণ্ডে, মার্কাস স্টয়নিস, দীপক হুদা, ক্রুণাল পাণ্ডিয়া, জেসন হোল্ডার, কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, মার্ক উড, রবি বিষ্ণোই, আবেশ খান।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর:
এবার বোলিং বিভাগটা বেশ শক্তিশালীই করেছে ব্যাঙ্গালোর। হার্ষাল প্যাটেল, জস হ্যাজলউড, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা থাকবেন প্রথম একাদশে। জেসন বেহেরেনডর্ফ এবং ডেভিড উইলিকে কিছু ম্যাচে খেলানো হতে পারে। বিরাট কোহলি থাকলেও অধিনায়ক করা হতে পারে ফ্যাফ ডু প্লেসিসকেই। ব্যাটিংয়ে গভীরতা আছে কারণ, বেশ কয়েকজন বোলার ব্যাট করতে পারেন।

তবে ভাল মিডল অর্ডার পায়নি ব্যাঙ্গালোর। অনুজ রাওয়াত, মহিপাল লোমরোর, লবনিথ সিসোদিয়া-রা অপরিণত। ফলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, দীনেশ কার্তিকের ওপরই থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।

সম্ভাব্য একাদশ: ফ্যাফ ডু প্লেসিস, বিরাট কোহলি, অনুজ রাওয়াত, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, দীনেশ কার্তিক, মহিপাল লোমরোর, শাহবাজ আহমেদ, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, হার্ষাল প্যাটেল, জস হ্যাজলউড, মোহাম্মদ সিরাজ।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ:
বোলিংয়ে আগের দলের মোটামুটি সবাই রয়েছেন হায়দরাবাদের এবারের দলে। ভুবনেশ্বর কুমার, উমরান মালিক, টি নটরাজন এবারও খেলবেন দলটির হয়ে। এছাড়াও দলে নিয়েছে শন অ্যাবট, কার্তিক ত্যাগীকে। অলরাউন্ডার হিসেবে পেয়েছে মার্কো জানসেন, রোমারিও শেফার্ডকে।

তবে দলটির ব্যাটিংয়ে নেই বড় কোনও নাম। কেন উইলিয়ামসন কনুই নিয়ে এখনও ভুগছেন। একটি ম্যাচেও যদি খেলতে না পারেন, হায়দরাবাদকে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া দলে নেই দেশি-বিদেশি ভাল কোনও স্পিনারও।

সম্ভাব্য একাদশ: এইডেন মার্করাম, রাহুল ত্রিপাঠি, কেন উইলিয়ামসন, নিকোলাস পুরান, অভিষেক শর্মা, আব্দুল সামাদ, ওয়াশিংটন সুন্দর, রোমারিও শেফার্ড, ভুবনেশ্বর কুমার, উমরান মালিক, টি নটরাজন।

গুজরাট টাইটানস:
নিলামে না হলেও অধিনায়ক হিসেবে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে পাওয়া গুজরাটের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এছাড়া জেসন রয়কেও পেয়েছে ন্যূনতম দরে। লকি ফার্গুসনের পিছনে অনেক টাকা গেলেও কিউয়ি পেসার প্রমাণ করেছেন, শুরুতে বিপক্ষকে ঝটকা দিতে পারেন তিনি।

তবে দলটিতে অভিজ্ঞ কোনও ব্যাটার নেই। এছাড়া হার্দিক পাণ্ডিয়া বল করতে না পারলে পঞ্চম বোলার কে হবেন, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

সম্ভাব্য একাদশ: জেসন রয়, শুভমন গিল, বিজয় শঙ্কর, অভিনব মনোহর, ম্যাথু ওয়েড, হার্দিক পাণ্ডিয়া, রাহুল তেওয়াটিয়া, রশিদ খান, সাই কিশোর, লকি ফার্গুসন, মোহাম্মদ শামি।

এন-কে

Feb2

কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 10:55 am
কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে ‘কে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।

মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:31 am
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ২০১৮ সালের পর প্রথম ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পানামা বেশ কয়েকবার ক্রোটদের চ্যালেঞ্জ জানায়। শেষ পর্যন্ত বদলি নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া। আর টানা দুটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিলো পানামা। ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া লুকা মদ্রিচের ছিল এটি দুইশতম ম্যাচ। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দিনের আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ঘানার বিপক্ষে শনিবার খেলবে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি জিতলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করবে তারা। পানামাকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া আপাতত গ্রুপ ‘এল’-এর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে দারুণ লড়াই করা পানামা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচে পানামা আটটি শট তৈরি করেছিল যার মধ্যে একটি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া দুটি অন-টার্গেট শটসহ মোট ছয়টি শট নিয়েছিল।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির নয় মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে লিড নেয়। স্তানিসিৎসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটি ব্যাক পোস্টে আলতো টোকা দিয়ে জালে জড়ান বুদিমির। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল। পাসালিচের ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নেওয়া শটটি মস্কেরা রুখে দেন। অরল্যান্ডো সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফিরতি শটটি বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন।

পানামাও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ক্রোট কিপার লিভাকোভিচ অত্যন্ত সতর্ক থেকে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। পরপর মুরিলোর আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি হার্ভির কাছ থেকে নেওয়া ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার হার্ভি, কিন্তু কর্নার থেকে আসা বলে তার নেওয়া শটটি জালের বাইরের পাশে আঘাত করে।

শুরু থেকে আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিশিচের ক্রসে মদ্রিচ হেড নিলেও বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। অষ্টম মিনিটে কার্লোস হার্ভের দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে পানামা। তবে ইয়োয়েল বার্সেনাসের ক্রস নিরাপদে ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধে লিভাকোভিচ না ঠেকালে লিড নিতো পানামাই। ২২ মিনিটে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে গিয়ে শট নেন মুরিলো। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে পানামার সামনে। ডান দিক থেকে মুরিলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। তবে লিভাকোভিচ দুর্দান্ত সেভ করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। সেই সুযোগ থেকে এগিয়ে যেতে না পারা পানামা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেও জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ে ফিরে নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।