রাশিয়ার হয়েও পুতিনের হামলার বিরুদ্ধে তিনি
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন চরমে। রুশদের শুরু করা এ হামলায় এখন পর্যন্ত দুই দেশের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অগণিত। ক্রীড়াঙ্গনেও যার ছায়া পড়ছে।
রুশ-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে এর আগে মুখ খুলেছেন ইউক্রেনের তারকা খেলোয়াড়রা। রাশান এক ফুটবলারও এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন, তার নাম ফেডর স্মোলভ। তবে তিনি তার দেশের পক্ষ নেননি। ইউক্রেনের ওপর হামলা করায় ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন তিনি।
ফেডর স্মোলভ খেলে থাকেন রাশান ক্লাব দিনামো মস্কোতে। জাতীয় দলেরও প্রথম সারির তারকা তিনি। খেলেছেন ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও। সেই ফেডর ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে বলেন, ‘কোনো যুদ্ধ নয়।’ ওই পোস্টে তিনি একটি কালো চিহ্নও ব্যবহার করেছেন, যা শোকের প্রতিনিধিত্ব করে। পাশাপাশি সেখানে ইউক্রেনের পতাকার পাশে ‘মন ভালো নেই’ এমন অর্থজ্ঞাপক একটি ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি।
এদিকে, ইউক্রেনে হামলা করায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মৃত্যু কামনা করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ইউক্রেনিয়ান ফুটবলার অলেকজান্দার জিনচেঙ্কো। অতঃপর সেই পোস্ট মুছে দিয়েছে ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ। ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জিনচেঙ্কো লিখেছিলেন, ‘আশা করছি, সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুটা তোমার (পুতিন) হবে।’ সেই পোস্ট এখন আর নেই। ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার নিজে প্রোফাইল থেকে সেটি সরিয়ে নেননি।
রাশিয়ার প্রতি ক্ষোভ ঝাড়ছেন ইউক্রেনের অন্য তারকারাও। তারকা ফুটবলার আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো বলেছেন, ‘ইউক্রেন আমার মাতৃভূমি। আমি সবসময়ই আমার মানুষের নিয়ে ও আমার দেশ নিয়ে বেশ গর্ববোধ করি। আমরা অনেক কঠিন সময় পার করেছি। শেষ ৩০ বছরে আমরা একটা জাতি হিসেবে সুগঠিত হয়েছি। এমন একটা জাতি, যারা কঠোর পরিশ্রমী, দায়িত্ববান ও স্বাধীনতাকামী। এটা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’ টেনিস তারকা এলিনা সভিতোলিনা টুইটে বলেন, ‘আমি আর পারছি না!’
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে খেলার প্রসঙ্গ আসে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি)। ওই দিন লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা ও ডাচ জায়ান্ট আয়াক্স। ওই ম্যাচে গোল করে ইউক্রেনের রোমান ইয়ারেমচুক যেভাবে উদযাপন করলেন তা জাতীয়তাবাদেরই ইঙ্গিত করে। খেলার রোমাঞ্চ ছাপিয়ে মাঠে তখন আলোচনায় যুদ্ধ। আয়াক্সের বিপক্ষে ইয়ারেমচুক খেলতে নেমেছিলেন একটা টি-শার্ট পরে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে দলকে সমতায় ফিরিয়ে ইয়ারেমচুক খুলে ফেলেন জার্সি। জার্সি খুলতেই দেখা গেলো টি-শার্টে আঁকা ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদের প্রতীক। এই প্রতীক ১০০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে দেশটি। গোল উদযাপনে এই প্রতীক দেখিয়ে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন ইয়ারেমচুক।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন