রাউজানে পরিত্যক্ত ঘর থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
চট্টগ্রামের রাউজানে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২৭ ফেব্রুয়ারি রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের মহামুনি গ্রামের বড়ুয়া পাড়ার সুব্রত মুৎসুদ্দির বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে রাত বারটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর রোববার দিবাগত রাত ১২টার পরে এবং পরদিন সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীম ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুনসহ পুলিশ ও পিবিআইয়ের একটি দল।
নিহতরা হলেন, পাহাড়তলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামুনি গ্রামের উদয়ন চৌধুরী বাড়ির ওষুধ ব্যবসায়ী রণজিৎ চৌধুরীর মেয়ে অন্বেষা চৌধুরী (১৯) এবং একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভগবান দারোগা বাড়ির চা দোকানি নিলেন্দু বড়ুয়ার ছেলে জয় বড়ুয়া (২৬)। অন্বেষা চৌধুরী উপজেলার নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত ছিলেন। পরিবারে তিন বোনের মধ্যে অন্বেষা বড় মেয়ে। অপরদিকে এক ভাই আর এক বোনের মধ্যে জয় বড়ুয়া পরিবারের বড় পুত্র। মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে।
বাবা নিলেন্দুর বড়ুয়ার চা দোকানে সহযোগিতা করতো সে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ মার্চ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া এলাকার ফ্রান্স প্রবাসী ছেলের সঙ্গে অন্বেষার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্য্য ছিল। ঘটনার দিন রোববার দুপুরে অন্বেষা মা শান্তা বড়ুয়ার সাথে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরবর্তী বানিজ্যিক কেন্দ্র নোয়াপাড়া পথেরহাটে গিয়ে বিয়ের বাজার করে ফিরে বিকেলে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে টিউশনি করতে গিয়েছিলেন অন্বেষা। পরে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত ঘরের দরজা ভেঙে একটি কক্ষে অন্বেষা বড়ুয়ার গলায় ছুরিকাঘাত করা লাশ আর একই কক্ষের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত ঝুলন্ত অবস্থায় জয় বড়ুয়ার লাশ দেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের ধারণা, অন্বেষার সাথে জয় বড়ুয়ার প্রেমঘটিত সম্পর্ক থাকতে পারে। অন্বেষার বিয়ের ঠিক হওয়ায় তাকে খুন করে নিজেও আত্নহননের পথ বেঁচে নিয়েছেন জয়।
পরে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিয়ের আনন্দে মেতে থাকা পরিবারটিতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
নিহত অন্বেষার বাবা রণজিৎ চৌধুরী বলেন, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর অনেক খুশি ছিল অন্বেষা। মাকে নিয়ে নিজের বিয়ের কেনাকাটাও করছিল সে। তার সাথে কারও প্রেমঘটিত সম্পর্কের বিষয়টি জানেননা পরিবার ।
জয় বড়ুয়ার বাবা নিলেন্দু বড়ুয়া বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে চার দোকান থেকে বের হয়েছিল জয়। এরপর ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুণে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছেলের সাথে কারো সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য অর্পিতা মুৎসুদ্দি মুন্নি বলেন, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি দেখতে পাই।
পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন বলেন, একটি পরিত্যক্ত ঘরে তরুণ-তরুণীর লাশ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে বিষয়টি আমি পুলিশকে অবহিত করি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটির বিয়ের খবর শুনে তাঁকে হত্যা করে প্রেমিক জয়। পরে সে নিজে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সোমবার বিকেল চারটা) রাউজান থানায় এই বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি বলে জানান ওসি।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন