খুঁজুন
, ,

আস্থা বাড়ছে ইউক্রেনীয়দের, রাশিয়াকে ‘কোনো ছাড় নয়’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 1 April, 2022, 11:23 am
আস্থা বাড়ছে ইউক্রেনীয়দের, রাশিয়াকে ‘কোনো ছাড় নয়’

ইউক্রেনীয়রা তাঁদের জন্মভূমির কোনো অঞ্চলই রাশিয়াকে ছেড়ে দিতে রাজি নন, এমনকি তাতে যুদ্ধ বন্ধ হলেও নয়। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

কিয়েভের অদূরে, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের মফস্বল লাভিভে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন বুচা থেকে পালিয়ে আসা ২৫ বছর বয়সি তরুণী ইউলিয়া। চলমান সংঘাতে তাঁর জীবন থমকে গেছে।

ইউলিয়া বুচা ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘সেখানে বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। আর বেশির ভাগ সময়ই ছিল আতঙ্কের।’

ইউলিয়ার মা জার্মানিতে চলে যান, কিন্তু ইউলিয়া ইউক্রেনেই থাকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘এ আমার নিজের দেশ।’ তিনি চান না, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনের কোনো অঞ্চল দিয়ে দেওয়াসহ রাশিয়াকে কোনোরকম ছাড় দিন। এমনকি তা যদি যুদ্ধ বন্ধের জন্যও হয়, তবুও নয়।

ইউক্রেনের অনেক অধিবাসীই মনে করেন, রাজধানী কিয়েভের পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়া ফিরে যাওয়ায় যুদ্ধ নিজের গতিতেই চলছে। কিয়েভের চারপাশে এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু শহরে রাশিয়ার সামরিক তত্পরতা কমানোসহ শুধু ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলকে ‘মুক্ত’ করার ওপর মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এতে অনেক ইউক্রেনীয় অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

ইউক্রেনীয়রা রুশ ঘোষণাকে একটি অবশ্যম্ভাবী বিবৃতি হিসেবে দেখছেন। তাঁরা মনে করছেন—ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বীরত্বই রাশিয়াকে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে এবং কিয়েভের রাশিয়ার অগ্রযাত্রার চেষ্টা থেমে গেছে।

রাশিয়ার আক্রমণ ‘হোঁচট খাওয়ায়’ ইউক্রেনের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং এ যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনাও চলছে।

এ সপ্তাহে ইউক্রেন ও রাশিয়ার কুটনীতিকেরা তুরস্কে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেন বলছে—নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে প্রস্তুত। এবং রাশিয়ার আশঙ্কা দূর করতে তারা ন্যাটোতে যোগ দেবে না বলেও জানিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্রিমিয়া উপদ্বীপের অবস্থান নিয়ে ১৫ বছরের জন্য পরামর্শের সময় নির্ধারণ। রাশিয়া জোর করে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে ২০১৪ সালে অবৈধভাবে তা অধিগ্রহণ করে।

এদিকে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দনেৎস্ক ও লুহান্সকের অবস্থান নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কি পরে নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করবেন বলেও প্রস্তাবে বলা হয়েছে। ইউক্রেনের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যেকোন শান্তি চুক্তিকে গণভোটে পাস করাতে হবে।

এন-কে

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।