খুঁজুন
, ,

বেনাপোল দিয়ে ভারতমুখী যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পেয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 26 April, 2022, 7:21 pm
বেনাপোল দিয়ে ভারতমুখী যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পেয়েছে

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশি দেশ ভারত মুখী যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর কোলাহলে মুখরিত এখন দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট।

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় অনেকে যেতে পারেনি ভারতে। সম্প্রতি, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার পর এ দেশের মানুষের ভারতে যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে চেকপোষ্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনে সরেজমিনে গিয়ে যাত্রীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ইমিগ্রেশন থেকে দীর্ঘ লাইন প্রায় ২৫০ গজ বাইরে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থেকে তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের জন্য বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ সেবার নামে একটি যাত্রী টার্মিনাল করলেও সেখানে কোন সেবার বালাই নেই বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। আবার সেই টার্মিনালের সেবার নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৫০ টাকা টার্মিনাল চার্জও আদায় করছে। আর ভ্রমণ কর বাবদ সরকারকে দিতে হচ্ছে পাসপোর্ট প্রতি ৫০০ টাকা।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনে বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ২০ হাজার ৪৮০ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রী ১০ হাজার ৫৮৫ জন। আর ভারতসহ অন্যান্য দেশের যাত্রী গেছেন ২ হাজার ৮৪৯ জন। একই সময়ে ভারত থেকে এসেছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৫ হাজার ১০৯ জন। আর ভারতসহ অন্যান্য দেশের যাত্রী এসেছেন ১ হাজার ৯৩৭ জন। যা গত দুই সপ্তাহের দ্বিগুণ যাত্রী এসময়ে যাতায়াত করেছেন।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নগরী কোলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় অল্প খরচে স্বল্প সময়ে কোলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অনায়াসে যাওয়া যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ভারতগামীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা টার্মিনাল চার্জ নিলেও তাদের দিতে পারছে না বসার জায়গা। মাত্র ৫০ জনের বসার সিট রয়েছে টার্মিনালের ভেতরে। অথচ এ পথে প্রতিদিন তিন হাজার থেকে চার হাজার যাত্রী ভারতে যায়। যাত্রীরা টার্মিনাল চার্জ দিয়েও বাইরে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে। ভোগান্তি বাড়ছে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীসহ বৃদ্ধরা। নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই পড়ছেন অসুস্থ হয়ে। শুয়ে ও বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাচ্ছেন পাসপোর্টযাত্রীরা। রৌদ্রে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হওয়ায় তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কখন তারা ভারত যেতে পারবে এই দু:চিন্তায় রয়েছে পরিবারের লোক নিয়ে। সব মিলিয়ে বেনাপোল চেকপোষ্টে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ইমিগ্রেশনের জন্য অপেক্ষারত ঢাকার দিপালী কর্মকার বলেন, আমার স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। করোনার কারণে ভারত যেতে পারেনি। এখন ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ায় ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি।

ভারত গমনকারী পাসপোর্টযাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দুই ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এর আগে কোন দিন এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। ট্যুরিস্ট ভিসায় কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন ভারত যাচ্ছে। তবে রোগীদের জন্য আলাদা একটি লাইন করলে ভাল হতো।

ময়মনসিংহ থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, সারারাত জেগে বেনাপোল এসে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে প্রবেশের মুখে দীর্ঘ লাইন। যে লাইন থেকে বের হতে প্রায় ৩ ঘন্টা লেগেছে। আবার আমার নিকট থেকে যাত্রী সেবার নামে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টার্মিনাল চার্জ নিয়েছে ৫০ টাকা। অথচ এখানে যাত্রী সেবার কোন বালাই নেই।

সাতক্ষীরার শ্রী সুদেব কুমার বলেন, বেনাপোল চেকপোষ্টে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছে চিকিৎসারত পাসপোর্টযাত্রীরা। আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালের সামনে কড়া রৌদ্রে দাঁড়িয়ে অসুস্থ রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া বৃদ্ধ ও শিশুদের রৌদ্রে দাঁড়িয়ে ছটফট করতে দেখা গেছে। এখানে সেবার নামে ৫০ টাকা নিলেও নেই যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করার পর স্কানিং মেশিন থেকে ল্যাগেজ বের হওয়ার পর দুই জন আনসার সদস্য তাদের ল্যাগেজে কি আছে, কোথায় যাবে নানা ধরনের প্রশ্ন করে টাকা দাবি করে। তারা নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ২’শ টাকা তার নিকট থেকে নিয়ে নেয়। এভাবে সুযোগ বুজে তারা পাসপোর্টযাত্রীদের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আপনি কেন টাকা দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রথম ভারত যাচ্ছি বুঝতে পারিনি। তারা যে ভাবে কথা বলছে তাতে মনে হয়েছে কোন সমস্যা হতে পারে। পরে ইমিগ্রেশনে যেয়ে দেখি ওটাই আসল জায়গা। ইমিগ্রেশনে আমি পাসপোর্ট দিয়েছি আমার পাসপোর্টে সিল মেরে দিয়েছেন।

বেনাপোলের মফিজুর রহমান নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা তার একজন আত্মীয়কে এগিয়ে দিতে ইমিগ্রেশনে যেতে গেলে এক আনসার সদস্য অর্থ দাবি করে। একপর্যায়ে তার সাথে কথা কাটাকাটিও হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী একুব আলী বলেন, সে বিজনেস ভিসায় এদেশে আসে। পরে যে কোন কারণে কাস্টমসে প্রবেশ করতে গেলে আনসার সদস্যরা প্রবেশ ফির কথা বলে ২০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ইমিগ্রেশনের লোকজন জানান, কতিপয় আনসার সদস্যরা টাকা নিয়ে দালালসহ বিভিন্ন লোকজনদের ইমিগ্রেশনে ঢুকতে দিচ্ছে। তাদের কারণে পাসপোর্টযাত্রীদের হয়রানি আরো বেড়েছে। ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নানা ধরনের পণ্য পাসপোর্ট যাত্রীদের মাধ্যেমে একটি মহলের সহযোগিতায় প্রবেশ করছে দেশে। ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর চেকপোস্ট কাস্টমসে সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কাস্টমস কর্তপক্ষ। চেকপোষ্টে ইমিগ্রেশনে ঢোকার প্রবেশ পথে নিয়োগ দিয়েছে আনসার বাহিনী। তারা পরিচয় জেনে সাংবাদিক পরিচয় পেলে তাদের প্রবেশে অনুমতি নেই বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছে। আর এই সুযোগে ইচ্ছা খেয়াল খুশিমত ল্যাগেজ ব্যবসায়িসহ সাধারণ যাত্রীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করছে। সেই সঙ্গে এই আনসার বাহিনীও চাঁদা বাণিজ্য মেতে উঠেছে। তারা পাসপোর্টযাত্রী এবং বহিরাগত প্রবেশ করতে সহযোগিতা করে অর্থ বাণিজ্য করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগ কাস্টমসের উর্ধতন মহলকে জানালেও তারা কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আনসার সদস্যরা অর্থ আদায় করে চলেছেন।

এ বিষয় বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া বলেন, এসব মিথ্যা কথা। ওখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ করায় তারা অপবাদ ছড়াচ্ছে। তারপর তাকে ঘটনার সত্যতা জানিয়ে যাত্রীর নাম বললে তিনি বলেন, ওই যাত্রীকে তার সাথে কথা বলতে বলেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন ওসি মোহাম্মাদ রাজু বলেন, এর আগে আসা যাওয়া মাত্র ৪/৫ শত যাত্রী ছিল। গত তিনদিনে তা ছাড়িয়ে আসা যাওয়া প্রায় ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ভারত সরকার ভ্রমণ ভিসা দেওয়ায় আরো যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বেনাপোল ইমিগ্রেশন যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করেছে। দ্রুত যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ভারতে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে।

এন-কে

Feb2

টাইব্রেকারে জার্মানিকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 8:37 am
টাইব্রেকারে জার্মানিকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

২০১৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানি টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এবার তারা দাপট দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে এক যুগ পর নকআউটে উঠেছিল। কিন্তু আর বেশি পথ চলতে পারল না চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে প্রথমবার টাইব্রেকারে হার দেখে বিদায় নিলো তারা। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে সমতায় থেকে শেষ হয়, তারপর অতিরিক্ত সময়েও একই স্কোর ছিল। পেনাল্টি শুটআউটে আর পেরে ওঠেনি জার্মানরা। ফক্সবোরোতে শেষ ৩২ এর ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে তাদের হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে।

চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয় নকআউট ম্যাচেই দেখা মেলে টাইব্রেকারের। বিশ্বকাপে দুই দলেরই পেনাল্টি শুটআউটে শতভাগ সাফল্য ছিল। চারটি শুটআউটেই জিতেছে জার্মানি। এছাড়া বড় টুর্নামেন্টে তারা সাতবার টাইব্রেকারে চারবারই জিতেছিল।

১৯৭৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে হারের পর টানা ছয়টি জয় ছিল তাদের। কিন্তু এবার পারল না। বিশ্বকাপে এর আগে দুই দলের একবারই দেখা হয়েছিল। ২০০২ সালের আসরে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারায় জার্মানি। ২৪ বছর পর সেই হারের শোধ তুলল দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি।

এর আগে প্যারাগুয়ে পাঁচবার নকআউটে খেললেও কোনোটিতে গোল করতে পারেনি। এর মধ্যে কেবল একবার তারা নকআউটে জিতেছিল, ২০১০ সালের টুর্নামেন্টে তারা পেনাল্টি কিকে জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। ওইবারই তারা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র টাইব্রেকার পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল। কিন্তু শেষ আটে তারা হেরে যায় ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর প্রথমবার নকআউটে খেলতে নেমেছিল জার্মানি। ওইবার ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থ ট্রফি জিতেছিল।

পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানি প্রথম শটেই হোঁচট খায়। কাই হ্যাভার্জের বুলেটগতির শট প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন। মাউরিসিও প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন ন্যয়ারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে। জার্মানির জোশুয়া কিমিখ কোনোমতে জালে বল জড়াতে পারেন। গুস্তাভো গোমেজ প্যারাগুয়েকে ২-১ গোলে এগিয়ে রাখেন। জামাল মুসিয়ালা তৃতীয় শটে সফল হন। প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজাও লক্ষ্যভেদে করেন।

জার্মানিকে আবার রুখে দেন গিল। চতুর্থ শটে দ্বিতীয় মিস করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। নিকো ওল্টারমেডের নিচু শট ঠেকান প্যারাগুয়ান কিপার। চতুর্থ শটে সফল হলেই প্যারাগুয়ের জয় নিশ্চিত, কিন্তু অ্যান্তনিও সানাবরিয়া দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে বল মারেন। নাদিয়েম আমিরি পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানদের টিকিয়ে রাখেন। তবে ন্যয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেভে প্যারাগুয়েকে হতাশ করেন। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনাকে রুখে দেন জার্মান কিপার। টাহ সেই উত্তেজনায় জল ঢালেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মেরে। দুইবার সুযোগবঞ্চিত প্যারাগুয়ে পরের শটে জাল কাঁপায়। জোসে ক্যানেলের শক্তিশালী শট এবার জালে জড়াতে বাধা পায়নি।

১২ বছরে প্রথমবার নকআউট খেলতে নেমে জার্মানি বড় ধাক্কা খায় বিরতির ঠিক আগে। বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর গোল হজম করে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে বিরতির পর তারা গোল শোধ দেয়। আর ব্যবধান বাড়েনি। তাতে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

৪২তম মিনিটে জুলিও এনকিসো নিচু হেডে জার্মানির জালে বল ঠেলে দেন। ম্যানুয়েল ন্যয়ারের কিছুই করার ছিল না। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় প্যারাগুয়ে। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানরা। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রসে কাই হ্যাভার্জের মাথায় আলতো ছোঁয়া লেগে জালে জড়ায় বল। ১-১ গোলে সমতা ফেরায় জার্মানি। পরে স্কোরে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফল নির্ধারণে আরও ৩০ মিনিট খেলতে হচ্ছে দুই দলকে।

জার্মানির গোলে শোধের চার মিনিট পর গুস্তাভো কাবায়েরোর হেডে প্যারাগুয়ে সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ন্যয়ার সেভ করেন। ৬৬ মিনিটে লেরয় সানের একটি শট প্যারাগুয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। হ্যাভার্জের আরেকটি হেড রুখে দেন প্রতিপক্ষ কিপার অরল্যান্ডো গিল। ইনজুরি টাইমে জোনাথন টাহের একটি হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকান গিল। মূলত প্যারাগুয়ান কিপারের নৈপুণ্যে জার্মানরা গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০২ মিনিটে জার্মানি ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার কিক থেকে আসা বলে জোনাথন টাহ হেড করে গোল করেন। বল গিলের নাগালের ঠিক ওপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, শট নেওয়ার আগে ভালডেমার আন্তন গিলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন এবং গোলটি বাতিল করা হয়।

প্যারাগুয়ে আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবারের ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে জয় পেলে তারা ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য ফক্সবোরোতে ফিরে আসবে।

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:13 am
দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 11:08 pm
শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

“একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?”

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এভাবেই শিশুশ্রমের ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম কেবল শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন, মানবিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—”শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কৈশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলো এই সহায়তাকে শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের জীবনেও কতটা পৌঁছেছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির গল্প শুনে বড় হবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিবার ও সমাজে সেই পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে শিশুশ্রম নির্মূল করাও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি শিশু যদি শৈশব থেকেই কারখানা, ইটভাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে সে তার জীবনের সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানারই সুযোগ পাবে না। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

একটি উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি মাছকে যদি গাছে উঠতে বলা হয়, সে কখনোই তা পারবে না।” একইভাবে একটি শিশুকে তার বয়স ও সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঠেলে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক মানুষ এমন একটি জীবনযাপনের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখানে সুস্থ চিন্তা করার সুযোগও তারা পান না। তাদের সামনে সুস্থ সমাজের উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে পরিবর্তনও আসবে না। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘জোবায়দা’ নামে এক মেধাবী শিশুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে জোবায়দার মতো আরও অসংখ্য মেধাবী শিশু রয়েছে। কিন্তু সমাজ তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারেনি। তিনি ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোবায়দার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এ ধরনের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব, ভবিষ্যৎ ও জীবনকে কিনে নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রত্যেক উদ্যোক্তার উচিত যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না; সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, মানবিকতা ও বিবেকে। তাই সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকেও পর্যায়ক্রমে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস ও কিডস কালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়।