খুঁজুন
, ,

ওদেসা, দনবাস ও দোনেৎস্কের লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 1 May, 2022, 11:25 am
ওদেসা, দনবাস ও দোনেৎস্কের লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার হামলা

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওদেসা’র বিমানবন্দরে শনিবার রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কার্যত অকেজো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

সিএনএন নিউজকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন—তিনি ওদেসার ওপর অন্তত একটি যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখেছেন। শহরজুড়ে উড়োজাহাজ হামলার সাইরেন বাজানোর পরপরই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।

এদিকে, রুশ বাহিনী শনিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে ব্যাপক গোলাগুলি চালিয়েছে। তবে, তাদের লক্ষ্যবস্তু—তিনটি এলাকা—দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ তাঁর নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে বলেছেন, রুশ বাহিনীর নিশানায় থাকা ওই এলাকাগুলো হলো—দোনেৎস্কের লাইমান, সিভিয়েরোদোনেৎস্ক এবং লুহানস্কের পোপাসনা।

হালনাগাদ তথ্যে আরও বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী ‘সফল না হলেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে, দোনেৎস্কের আঞ্চলিক পুলিশ শনিবার বলেছে, রুশ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় দোনেৎস্ক ওব্লাস্টে ১২টি জনবসতিতে গোলাবর্ষণ করেছে। কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নামের সংবাদপত্র বলছে—এতে অন্তত ৩৬টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে একটি স্কুল ও হাসপাতালও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এক শিশুসহ অন্তত চার জন বেসামরিক লোক হামলায় নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শিশুসহ আহত হয়েছে আরও আট জন বেসামরিক লোক।

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় পুলিশ বলছে—তারা কিয়েভের উত্তরে বুচা এলাকায় তিন জন বেসামরিক পুরুষের মৃতদেহ পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলো একটি গর্তে রাখা ছিল এবং নিহতদের হাত বাঁধা ছিল; তাদের চোখ ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং দুজনকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে।

কিয়েভের আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান আন্দ্রি নেবিতোভ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মৃতদেহগুলোতে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির চিহ্নও রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তাদের হাত-পায়ে বুলেটের ক্ষত পাওয়া গেছে। এবং প্রত্যেকের কানে গুলি করা হয়েছিল।’

কিয়েভ বলছে—বুচা বা এর আশপাশে এক হাজারের বেশি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। বুচায় তারা ওই অঞ্চল দখলকারি রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, শনিবার ইউক্রেনের দিক থেকে তাঁর এলাকার সীমান্তের কাছে একটি তল্লাশি চৌকি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গোলা ছোড়া হয়েছে। তবে, গভর্নর রোমান স্টারোভয়েট তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বলেছেন, এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে—তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনীয় আজভ রেজিমেন্টের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন নিউজ জানিয়েছে, অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরে ইউক্রেনের সৈন্যরা একটি ইস্পাতের প্ল্যান্টে আটকা পড়ে আছে। সেখান থেকে শনিবার নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, মারিউপোল থেকে ১৪ বছরের কম বয়সি ছয়টি শিশুসহ ২৫ জন বেসামরিক নাগরিকের একটি দল বেরিয়ে এসেছে।

ক্যাপ্টেন স্ব্যাটোস্লাভ পালামার নামের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

পালমার বলেন, ‘যাদের আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে পেরেছি, তাদের মধ্যে ২০ জন বেসামরিক নাগরিককে আমরা পূর্বসম্মত নির্ধারিত স্থানে নিয়ে এসেছি। এরা নারী ও শিশু। আমরা আশা করি এরা ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল জাপোরিঝিয়ায় সম্ভাব্য গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।’

সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার তোলা স্যাটেলাইট চিত্র থেকে দেখা যায়, বিস্তৃত ইস্পাত কারখানার প্রায় প্রতিটি ভবন কামান, জাহাজ থেকে হামলা ও বিমান-হামলার তীব্র গোলাগুলিতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

পালামার বলেন, ‘এখানে এমন কিছু সেলার ও বাংকার রয়েছে, যেগুলোতে আমরা পৌঁছতে পারছি না। কারণ, সেগুলো ধ্বংসস্তূপের নুচে রয়েছে। ওখানকার মানুষগুলো বেঁচে আছে কি না, আমরা জানি না। সেখানে চার মাস থেকে ১৬ বছর বয়সি শিশু রয়েছে। কিন্তু, তারা এমন জায়গায় আটকে আছে, যেখানে আপনি যেতে পারবেন না।’

এন-কে

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।