খুঁজুন
, ,

বিশ্বের ৭ম বৃহৎ ডাটা সেন্টারের দেশে পরিণত বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 28 November, 2019, 11:51 pm
বিশ্বের ৭ম বৃহৎ ডাটা সেন্টারের দেশে পরিণত বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টারের উদ্বোধনকালে এটিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ার পথে আরেক ধাপ অগ্রণী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে এই ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

দেশের উন্নয়নের জন্য ডাটা সংরক্ষণ জরুরী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তারই অংশ হিসেবে এই ডাটা সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ডাটা সেন্টারটি স্থাপনের পর ডাটা সংরক্ষণের জন্য আমাদের আর অন্য কারো ওপর নির্ভর করতে হবে না। এর মাধ্যমে বছরে সাড়ে ৩শ’কোটি টাকা আয় বা খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।’

চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ৭ একর জমির ওপর গড়ে তোলা এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পেং যৌথভাবে এর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই ডাটা সেন্টারটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের সেরা মান নির্ধারণ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ‘আপ টাইম ইনস্টিটিউট’ থেকে মাননিয়ন্ত্রণের জন্য সনদ অর্জন করেছে।

এদিনের ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত সৌর বিদ্যুৎ সুবিধার, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি এন্ড এ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কাপ্তাই লেকে ভ্রাম্যমান গবেষণা তরী (রিসার্চ ভেসেল) এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ৫টি নতুন জাহাজের ও উদ্বোধন করেন। এটি বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ডাটা সেন্টার। এর আপ টাইম ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এখানে ডাটা স্টোরেজ ব্যাকআপ, রিকভারী, ডাটা সিকিউরিটি, ডাটা শেয়ারিং, ই গর্ভানেন্স, ই সার্ভিস পাওয়া যাবে। এর তথ্য ধারণ ক্ষমতা দুই পেটাবাইট (১০ লাখ গিগাবাইট=১ পেটাবাইট)। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৩টি, স্পেনের ২টি সৌদি আরব এবং কানাডার একটি করে ‘টায়ার ফোর ডাটা সেন্টার’ রয়েছে।

’৯৬ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারী খাতে মোবাইল ফোন উন্মুক্তকরণ এবং তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে কম্পিউটার সামগ্রী থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ দেশকে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে ওঠায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

প্রতিহিংসার রাজনীতির একটি উদাহারণ তুলে ধরে ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একটি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধেক দামে ১০ হাজার কম্পিউটার কেনার একটি সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ হাজার স্কুলকে কম্পিউটার প্রদানের একটি তালিকা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ হাজার কম্পিউটার অর্ধেক দামে ক্রয়ের চুক্তিও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল টিউলিপ’র নামে উক্ত কম্পিউটার কোম্পানীটির নাম হওয়ায় পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়াকে বোঝালো- শেখ রেহানার মেয়ের নামে যেহেতু কোম্পানী (ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী) তাই ওদের কম্পিউটার নেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরে সেই কম্পিউটারতো দেশে এলোই না বরং ঐ টিউলিপ কোম্পানীর রুজু করা মামলায় বাংলাদেশকে ৩২ কোটি অতিরিক্ত টাকা জরিমানা গুনতে হলো। নামের প্রতি প্রতিহিংসা দেখাতে গিয়ে খালেদা জিয়া সরকার দেশের ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিল। আর আমরা যে টাকা জমা দিয়েছিলাম তাও গেল। সমস্তটাই লোকসান!’ সে সময় সরকারের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্কুল পর্যায়ে কম্পিউটার সরবরাহে তাঁর সরকারের উদ্যোগটাও থেমে গিয়েছিল, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা মোবাইল ফোনকে জনগণের নাগালের মধ্যে আনায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে জানতাম (বিএনপি’র এক মন্ত্রীর মনোপলী ব্যবসা) তাই ক্ষমতায় এসেই আমি এই মোবাইল ফোনকে উন্মুক্ত করে দিলাম বেসরকারী খাতে। যাতে প্রত্যেকের হাতে এটি পৌঁছে যায়।’ ‘সত্যিই আজকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণ এবং সারাদেশে ২৮টি আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগও তুলে ধরেন।

সারাদেশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ, ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যান্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রযুক্তিকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের প্রসংগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত এইডাটা সেন্টারটি তৈরী হয়ে যাওয়ায়। এটি আমাদের দেশের জন্য যথেষ্ট সুযোগ করে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী ৪টি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রকল্প এলাকার প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার জনগণের সঙ্গে মতবিনিময করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুল উশৈ সিং, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।