খুঁজুন
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিইউজে’র সমাবেশে চিহ্নিত আইনজীবীদের সনদ বাতিল ও গ্রেফতার দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
সিইউজে’র সমাবেশে চিহ্নিত আইনজীবীদের সনদ বাতিল ও গ্রেফতার দাবি

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে দুই সাংবাদিক ও নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিক প্রীতম দাশের ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। ১৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সাংবাদিক নির্যাতনকারী আইনজীবীদের গ্রেফতার ও বার কাউন্সিল সনদ বাতিলের জন্য ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, চট্টগ্রামের যে কোনও প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে আইনজীবীদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা বিশ্বাস করি, দেশবিরোধী কোনও স্বার্থের ইন্ধনে আইনজীবী পরিচয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ, জঙ্গী হামলার রায়ের ঘটনার সংবাদ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনজীবী সমিতিকে তাদের সদস্যপদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনদিনের মধ্যে হামলাকারীদের আইনজীবী সনদ বাতিল না করলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন শুরু করবে।

সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, সারাদেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা দুঃখজনক। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। দোষীরা যাতে পার না পায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন, দুই সাংবাদিকের ওপর ঠুনকো অজুহাতে দুই দফায় হামলা হয়েছে। আইনজীবী পরিচয়ে কিভাবে আদালত পাড়ায় এ বেআইনি ন্যাক্কারজনক হামলা হলো তা রহস্যজনক। কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল আইনজীবী চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত দশ হাজার আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। আইনজীবী সমিতিকেই দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম বলেন, নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় সাংবাদিক প্রীতম দাশের ওপর হামলার ঘটনার সপ্তাহ না যেতেই আদালত প্রাঙ্গণে আরও দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবিসহ সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তা হবে দুঃখজনক। সাংবাদিক সমাজ দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে এ দুর্বৃত্তদের রুখে দাঁড়াবে।
সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সিইউজে’র সিনিয়র সহ-সভাপতি রতন কান্তি দেবশীষ, সহ-সভাপতি অনিন্দ্য টিটো, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, প্রণব বড়ুয়া অর্ণব, সিইউজের টিভি ইউনিট প্রধান মাসুদুল হক, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, যমুনা টিভির ব্যুরো প্রধান জামশেদ রেহমান চৌধুরী প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মোস্তাক আহমদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য শামসুল হুদা মিন্টু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলীউর রহমান, মনজুর কাদের মনজু, সদস্য দেবদুলাল ভৌমিক, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সিইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইফতেখার ফয়সাল, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, প্রতিনিধি ইউনিটের ডেপুটি চিফ সরওয়ার আলম সোহেল, সিইউজে সদস্য মো. জাবেদুর রহমান, সাংবাদিক মো. বাবু চৌধুরী, ইতিহাস ৭১ টিভির সম্পাদক প্রকৌশলী দিলু বড়ুয়া জয়িতা, সাংবাদিক রতন বড়ুয়া সহ প্রমুখ।

এছাড়াও সমাবেশে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

জে-আর

Feb2

মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

রাজধানীর মিরপুরে উচ্চশিক্ষিত তিন সন্তানের জননী নুরজাহান বেগমের (৭২) পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সন্তানেরা বুয়েট শিক্ষক, যুগ্মসচিব ও কানাডা প্রবাসী হওয়ার পরও শেষ বয়সে মায়ের এমন করুণ পরিণতিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “সাত-আট দিন আগে যে বৃদ্ধা মরে পচে গেছেন, তার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেকজন যুগ্মসচিব, অন্যজন কানাডা-প্রবাসী। বাবার-মা সন্তানকে যে সফলতার স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, তাদের তিন ছেলেই সেই চূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে মা বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, সেই খোঁজ নেওয়ার সুযোগটুকুও সন্তানদের হয়নি।”

বস্তুগত সফলতার অসারতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসাকে ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময় মায়ের মাথার কাছে এক আঁজলা পানি নিয়ে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।”

তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।”

রোববার (১ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রায় সাত থেকে আট দিন আগেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ না নেওয়া এবং পারিবারিক চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি বিশ্বমঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়, বরং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সকল সদস্য দেশকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মতামতকে তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) হিসেবে নিজের পেশাগত কাজে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।

মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক এই নির্বাচনে জয়লাভের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট এবং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পেছনে ফেলে গৌরবময় এই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। আগামী এক বছর অর্থাৎ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনজুড়ে তিনি এই সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে এসে তার নবম দশকে পদার্পণ করছে, যখন বিভিন্ন দিক থেকে এই বিশ্ব সংস্থার কার্যকারিতা ও আস্থার জায়গাটি বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন। যে সংস্থার মূল লক্ষ্যই ছিল পরবর্তী প্রজন্মকে সংঘাত আর যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, বর্তমান সময়ে এসেও সেই যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে ফেলছে।

খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, বহুপাক্ষিকতা যখন নানাবিধ প্রতিকূল চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বৈশ্বিক সংকটগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ একাগ্র থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ করে জাতিসংঘে যেসব দেশের প্রতিনিধিদল বা মিশন আকারে ছোট, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আগামী অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট বা দূরদর্শী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রধান ছয়টি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবেন। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ; জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ; মানবাধিকার রক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসী ইস্যু পরিচালনা; ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বহুপাক্ষিকতা, ইউএন ৮০ সংস্কার ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে মার্কেট-শপিংমল

দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার ও কার্যকর করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান, মার্কেট ও খুচরা দোকানপাট আবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে খোলা রাখার যে বিশেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে নতুন করে এই নির্দেশনা পুরো দেশে কার্যকর করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি জরুরি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশেষ নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে সরকারি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর আগে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সফলভাবে কার্যকর ছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল পরিধি ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়েছিল।

নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ঈদ উৎসব ও উৎসব-পরবর্তী বিশেষ সুবিধার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে আবারও সরকারের আগের মূল সিদ্ধান্তটি পুনর্বহাল করা হলো। এর ফলে এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সব ধরণের ছোট-বড় শপিংমল, সুপার শপ, মার্কেট ও কাঁচাবাজারকে ঠিক সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ অপচয় রোধ ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে শপিংমলের পাশাপাশি আরও কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন আদেশ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের ডিজিটাল আলোকসজ্জা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় মেলা, জাতীয় বাণিজ্য মেলা এবং যেকোনো ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কনসার্টও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনাটি শতভাগ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।