মিরসরাইয়ে ব্ল্যাক রাইস চাষ : আশার আলো দেখছেন কৃষক জাহেদ
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় চাষ হচ্ছে দামি, পুষ্টিগুণে ভরপুর ব্ল্যাক রাইস ধান। যার প্রতি কেজি চালের মূল্য প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকার চেয়ে বেশি। মিরসরাই উপজেলার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের চাষী মোহাম্মদ জাহেদ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেই সফলতা পেয়েছেন। প্রথমে তিনি ১২ শতকের এক বিঘা জমিতে এ ধান চাষ করে আশার আলো দেখছেন।
এদিকে জানা যায়, এ ধানকে নিষিদ্ধ ব্ল্যাক রাইসও বলা হয়। কারণ এক সময় চীনের রাজা-বাদশাদের খাবার ছিল ব্ল্যাক রাইস। যা প্রজাদের জন্য চাষ করা বা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। এ কারণে এধানের চালকে নিষিদ্ধ চালও বলা হয়।
জানা যায়, ব্ল্যাক রাইস ধানগাছ প্রথমে সবুজ থাকলেও, ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই কালো হতে শুরু করে। খুব দামি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। ব্ল্যাক রাইস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের কমতি নেই। এমন একটি ধান মিরসরাইয়ে চাষ করতে পেরে আনন্দের যেন কমতি নেই কৃষক জাহেদের।
কৃষক জাহেদ বলেন, প্রথমে অনলাইনে দেখে আমি এ ব্ল্যাক রাইস সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর অনলাইনের মাধ্যমে যশোর থেকে ধানের বীজ এনে বপন করি।
১ কেজি ধান ৫’শ ৫০ টাকা নেয়। বর্তমানে ১ কেজি চালের বাজার মূল্য প্রায় ১’শ ৫০/২’শ টাকার বেশি। এধানের ফলন ভালো, সময় অল্পতেই অধিক ফলন পাওয়া যায়। এজন্য আশার আলো দেখছি আমি।
স্থানীয় আরেক কৃষক আবুল কালাম জানান, এ কালো ধান সম্পর্কে আগে জানতাম না। জানতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এ ধানের ফলন ভাল এবং দামি হওয়ায় সামনে করার উদ্যোগ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলার কৃষি অফিসার রঘু নাথ নাহা বলেন, মিরসরাইয়ে দ্বিতীয় বারের মত জাহেদ ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান চাষ করেছেন। এর আগে গত বছর আরেক কৃষক করলেও তেমন ফলন না হওয়ায় আর রোপন করেননি।
এ ধান ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা রোগের উপকারিতা সমৃদ্ধ। এ ধান সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। এ ধানের চালের বর্তমান চড়া মূল্য যার কেজি ১’শ ৫০ থেকে ২’শ টাকার বেশী।
ব্ল্যাক রাইস কোন কৃষক করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন