১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে পাটকল শ্রমিকেরা
বকেয়া মজুরি পরিশোধ, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরণ অনশনে নেমেছেন আমিন জুট মিলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের সামনে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকরা। এরপর তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। এখন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন সিবিএ এবং নন-সিবিএ নেতা-শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
আমিন জুট মিল সিবিএ’র দপ্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, আমিন জুট মিলে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এর বাইরে চট্টগ্রামে আরও ৯টি পাটকল রয়েছে। সেগুলোর শ্রমিকনেতারাও আমাদের সঙ্গে মিল গেটে অবস্থান করছেন।
এর আগে কয়েক দফায় আমিন জুট মিলের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ এবং পাটমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ, থালা-বাটি হাতে শ্রমিকরা ভুখা মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।
আমিন জুট মিল সিবিএ সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার আমরা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি। কিন্তু পাটশিল্প রক্ষায় তার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তাই আজ আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে লাগাতার অনশনে নেমেছি।’
এই সিবিএ নেতা বলেন, ‘আমাদের কোনো দাবিই পূরণ হয়নি। গত রমজানেও আমরা আন্দোলন করেছি। সরকারি ও অন্যান্য কর্পোরেশনের কর্মচারীরা পেয়েছেন জাতীয় মজুরি কমিশন ২০১৫ স্কেল। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা পাননি। আমরা যে ন্যূনতম মজুরি পাই তাও ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত বকেয়া। অনেক শ্রমিক অবসরে গেলেও তাদের এককালীন পাওনা পাননি। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এমনকি পাওনা ছাড়াই অনেক শ্রমিক মারা গেছেন, মারা গেছেন তাদের নমিনিও।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কারখানার কর্মচারীরা গত ১৩ সপ্তাহ ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কর্মকর্তারা বেতন পেয়েছেন তিন মাস আগে। এই কারথানায় প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা কী খেয়ে বেঁচে আছেন সে খবর কি কারও আছে? তাই আমরা বাধ্য হয়ে আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে লাগাতার অনশনে এসেছি।’
আমিন জুট মিল সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা জানান, আমিন জুট মিল ছাড়াও চট্টগ্রামে আরও ৯টি পাটকল রয়েছে। চট্টগ্রামের সব শ্রমিক নেতাও আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কেবল ১১ দফা দাবিই নয়, আমাদের আরও অনেক ক্ষোভ রয়েছে। পাটকল শ্রমিকদের সমস্যা লাঘবে সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই। সরকার বরাবরের মতোই আমাদের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়ে আসছে। সত্যি কথা বলতে কী- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’


আপনার মতামত লিখুন