খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অনাবৃষ্টিতে লেবু চাষে ধস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৮:১০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অনাবৃষ্টিতে লেবু চাষে ধস

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বৃষ্টির অভাবে লেবুর ফলন তেমন ভালো হয়নি। জানা যায়, উপজেলার আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গার বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য লেবুর বাগান। গত বছর লেবু চাষ করে লাভবান হওয়ায় এ বছর লেবু চাষের দিকে ঝুঁঁকেছে উপজেলার অইেশ তরুণ যুবক। এতে পিছিয়ে থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে এ জনপদে।

লেবু চাষের প্রতি এলাকার বেকার যুবকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও এ কাজে সরকারি সহায়তা কিংবা উপজেলা কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ পায়না বলে থাকার পরও অভিযোগ এখানকার চাষিদের। ব্যক্তিগত কিংবা বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ধার-কর্জ নিয়েই এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা লেবুচাষ করে থাকেন।

একদিকে বৃষ্টির অভাবে ফলন কম অন্যদিকে যে পরিমাণ লেবু উৎপাদন হয় হিমাগার বা উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় লেবু পচন ধরে নষ্ট হয়ে যায়।

যার কারণে কম দামে লেবু বিক্রি করতে হয় বলে চাষিরা ব্যাপক আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। উৎপাদিত লেবু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে বিদেশেও রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বোয়ালখালী উপজেলাস্থ আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা থেকে প্রতিদিন ট্রাক-পিকআপ ও বিভিন্ন যান যোগে চট্টগ্রাম সহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় পাইকারী ও খুচরা বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

চাষী রফিক উদ্দিন বলেন, ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে লেবুর ফুল আসতে শুরু করে আর ফলন দেয় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র মাসজুড়ে। এছাড়াও আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে বছরের প্রায় ১২ মাসই বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ হয়ে থাকে।

তবে জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র এ ৪ মাসে লেবু ফলন বেশি হয়ে থাকে। দেশে বিভিন্ন জাতের লেবু থাকলেও এখানে সাধারণত কাগজী, বাতাবি, পাতি ও এলাচি লেবুর আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে কাগজী ও বাতাবি লেবুর চাষই বেশি হয়।

জৈষ্ঠপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল মোকাররম বলেন, এসব পাহাড়ি ভূমি লেবু চাষের জন্য উপযোগী জায়গা। এখানকার চাষিদের যদি উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত ভাবে প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে সহায়তা করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ফিরে আসবে আর্থিক সচ্ছলতা।

এ ব্যাপারে আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল দে মনে করেন, এখানে বন বিভাগের হাজার হাজার হেক্টর ভূমি পরিত্যক্ত ও অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। এসব ভূমি উদ্ধার করে সরকারিভাবে যদি লেবু চাষের আওতায় আনা যায় তাহলে এসব ভূমিতে লেবু চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ লেবু বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে।

জে-আর

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।