খুঁজুন
, ,

রাশেদুল আলম আবারো আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 5 September, 2022, 8:28 pm
রাশেদুল আলম আবারো আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়

নব্বই দশকের তুখেড় ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রামে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের শাসন আমলে ছাত্রলীগের জনপ্রিয় নেতা রাশেদুল আলম রাশেদ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। করোনা মহামারীতে সাধারণ মানুষের কাতারে গিয়ে আর্থিক ও ভোগ্যপণ্য দিয়ে অনেকের নজর কাড়া সাবেক এ ছাত্রনেতা প্রতিনিয়ত দলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বিগত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে মেয়র পদে জয়লাভকারী রেজাউল করিম চৌধুরী ও একাধিক কাউন্সিলরের জন্য ভোট কামনা করে সকলের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন তিনি।

এক সময়কার এরশাদ সরকারের পেটুয়া বাহিনীর হামলা-মামলা ও কারা ভোগের এক পর্যায়ে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে কানাডায় পাড়ি জমালেও সেখানে আওয়ামী রাজনীতি থেকে দূরে থাকেননি। টানা ১৫ বছর কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদ-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় দীর্ঘ দেড়যুগ কানাডায় অবস্থানের পর ২০১৭ সালে দেশে ফিরে আবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছেন সাবেক এ নির্যাতিত ছাত্রনেতা।

স্বৈরাচার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আমলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মি যখন হামলা- মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে আত্মগোপনে বা গৃহছাড়া,তখন রাশেদুল আলম রাশেদ সরকারী দলের ক্যাডার বাহিনীর কাছে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক এবং আওয়ামী ঘরানার লোকজনের কাছে ছিলেন সাহস ও নির্ভরতার প্রতীক।

১৯৮৮ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনী কর্ণেল ফারুক রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে এরশাদের সরাসরি ইন্ধন ও প্রশ্রয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে সমাবেশ করতে এলে কয়েক’শ পুলিশের কর্ডন ভেঙে সেই সমাবেশ পন্ড করে দিয়ে রাশেদুল আলমের নাম একেবারে সামনের কাতারে চলে আসে।

জানা যায়, রাশেদুল আলম ১৯৮৩ সালে হাজ্বী মোহাম্মদ মহসিন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্ধুত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তৎকালীন চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা শ্রদ্ধেয় আক্তারুজ্জামান বাবুর নেতৃত্বে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে সাবেক ছাত্রনেতারা জানান।

তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে নেতৃত্বের কোন্দল করে স্বৈরাচারী এরশাদ প্ররেয়াচনায় দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাকশাল গঠন করেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিভক্ত করে বিভিন্ন অপপ্রচার ও অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়। চট্টগ্রাম শহরে রাশেদুল আলম ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের দিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধের পাশাপাশি এক পর্যায়ে তাদের আন্দরকিল্লাস্থ দলীয় অফিস বন্ধ করে দেন।

আওয়ামী লীগের আরেক ত্যাগী নেতা জানান, ১৯৮৫ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার বিতর্কীত উপজেলা নির্বাচনের ঘোষণা দিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তা প্রত্যাখান করেন এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক দেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এম এ মান্নান এবং চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে রাশেদুল আলম এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন অন্যতম নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ, কফিক উদ্দিন, সফিক আদনান ও ফয়জুল্লাহ বাহাদুরসহ সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমনকী রাজপথে প্রতিহত করেন।

এ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় রাশেদুল আলমকে অস্ত্র-বিস্ফোরক মামলা দেয়া হয়। ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির যৌথভাবে হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদেরকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিলে তৎকালীন মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ডাক্তার নাসির এসে রাশেদুল আলমকে এ বিষয় অবহিত করেন। ঐ রাতেই রাশেদুল আলম নগর ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাহসিকতার সাথে ছাত্রশিবির ও জাসদ ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করেন।

১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম নগর ইসলামী ছাত্রশিবির আন্দরকিল্লায় তৎকালীন এরশাদ সরকারের পুলিশ বাহিনীর ছাত্রছায়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সভার আয়োজন করলে রাশেদুল আলম ওই সভা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। একই সাথে রাশেদুল আলম দলবল নিয়ে সভা চলাকালীন সময়ে মিছিল সহকারে হামলা চালিয়ে ওই সভা পন্ড করে আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় দুজন শিবির কর্মী নিহত হলে রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে জোড়া হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের এপিলে রাশেদুল আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি বহর নিয়ে এক সভায় যাওয়ার প্রাক্কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নাম্বার সড়কের মুখে তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় ছাত্রসমাজ (স্বৈরাশাসক এরশাদের সন্ত্রাসী বাহিনী) সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাশেদুল আলমকে হামলা করলে ভাগ্যক্রমে তিরি প্রাণে বেঁচে যান এবং সন্ত্রাসী জসিম নিহত হয়। এ ঘটনায় রাশেদুল আলমের সাথে ছিলেন তৎকালীন নগর ছাত্রলীগ নেতা ফয়জুল্লাহ বাহাদুর, আব্দুল মোনায়েম, সুরজিত দাস ও ছোটনসহ অন্যান্যরা। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন স্বৈরাশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের লালদিঘা মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ডাক দেয়া সভায় শেখ হাসিনা যোগ দিতে আসলে রাশেদুল আলমসহ অন্যান্যরা শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে থেকে রিসিভ করে সভার কাছাকাছি আসলে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য এলাপাতাড়ি গুলি চালায়।

এ সময় শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মূহুর্তেই ২৪ জন ছাত্র-জনতার প্রাণ নিভে যায়। ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী কর্ণেল ফারুক রহমান, খুনী ফারুক চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজের পার্শ্ববর্তী খালি প্রাঙ্গণে এক জনসভার আয়োজনের ঘোষণা দিলে তৎকালীন দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই দিন বিকেল ৩ টায় রাশেদুল আলমসহ অন্যানরা কাজীর দেউড়ি মোড়ে জামায়েত হন। ঐদিন রাশেদুল আলমের সাথে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বখতেয়ার উদ্দিন খান, ফখরুদ্দিন চৌধুরী বাবর, মুজিবর রহমান, সফিক আদনান, শেখ আতাউর রহমানসহ অনেকেই। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের হাজারো পুলিশ বাহিনী সভাস্থল ও পুরো এলাকা ঘেরাও করে রেখেছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মিছিলসহকারে এগিয়ে গিয়ে সভা পন্ড করার কোন উপায় না দেখে রাশেদুল আলম মোটর সাইকেলে তার দুজন সঙ্গী নিয়ে আচমকা পুলিশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎবেগে এগিয়ে সভামঞ্চের খুব কাছাকাছি গিয়ে হামলা চালায় এবং সভা চক্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামলা শেষে তারা দ্রুত পালিয়ে আসেন।

এছাড়া ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনের দিন রাশেদুল আলম চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিনের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে তৎকালীন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন।

১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের সভা পন্ড করে আসার পর সন্ধ্যায় মোমিন রোড থেকে গ্রেফতার হন। ১২টি মামলা ও অবৈধ আটকাদেশসহ রাশেদুল আলম এক নাগাড়ে ১৮ মাস কারাবরণ করেন। ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও রাশেদুল আলম গ্রেফতার হন এবং ১৯৯০ সালের মার্চে মুক্তি লাভ করেন।

অন্যদিকে মামলা-হামলায় অতিষ্ট হয়ে ১৯৯০ সালের ১০ নভেম্বর রাশেদুল আলম দেশত্যাগ করেন। ২০০১ সালে তিনি ফের দেশে ফিরে এসে নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সক্রিয় হন। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান এবং হাটহাজারী বিএনপি সাবেক সংসদ ওয়াহিদুল আলম রাশেদুল আলমকে আবারও দেশ ত্যাগ করার জন্য হুমকি দেন।

রাশেদুল আলমও তাদেরকে পাল্টা হুমকি দিলে ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে রাশেদুল আলমকে মোমিন রোড থেকে গ্রেফতার করে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় কারাগারে প্রেরণ করলে আট মাস কারাভোগ করে মুক্তিলাভ করেন। রাশেদুল আলম মুক্তি লাভের পর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালালে ২০০৪ সালে খালেদা জিয়া সরকার অবৈধ বাহিনী দিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদেরকে হত্যা করা শুরু করলে রাশেদুল আলম আবারও কানাডায় পালিয়ে যান।

কানাডায় দীর্ঘ ১৫ বছর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে কানাডার রাজধানী অটোয়াস্থ তৎকালীন খালেদা সরকারের দূতাবাসও ঘেরাও করেন।

জে-আর

Feb2
Feb2

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা দিলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 9:43 pm
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা দিলেন মেয়র

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দিলশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম মহাসচিব, কবি ও অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি এবং সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নছরুল কদির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে আটটি পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মেয়র তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যারা দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে বলেন, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যেকোনো মূল্যে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে

এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, প্রিন্সিপাল মো. শাহ আলমগীর, বিএনপি নেতা গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, ডা. মোহাম্মদ ঈসা চৌধুরী, ডা. জুবায়ের আল মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, তৌহিদুল ইসলাম রানা, ফৌজিয়া শারমিন সম্পা ,ডা. হারুন, নাদিয়া তাসনিম নিপা, সায়মন, শিহাব রিয়াদ, রিয়াদ মাহমুদ, আশরাফুল ইসলাম টিটু, ইলিয়াস ইলু, এস আই জুয়েল , মোহাম্মদ ফোরকান, ডা. রায়হান, অভি প্রমুখ।

জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 9:03 pm
জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে জুলাই আগস্ট মাসে যে আন্দোলন হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে ছিল জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে, তখনই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

মঙ্গলবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এর কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি একক কোন রাজনৈতিক দলের এটি কোনো ক্রেডিট নয়। বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আরো অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সবাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। মাঠ ছেড়ে আমরা কখনো চলে যাইনি। আমরা কখনোই জনগণকে একা ফেলে মাঠ ছেড়ে চলে যাইনি।’

সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রামের কথা হয়েছে, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এখন সময় হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন করার। এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এখন সময় হচ্ছে ধৈর্য সহকারে ঠান্ডা মাথায় যারা ষড়যন্ত্র করতে চায় তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার। জনগণকে সতর্ক করা এবং ঠিক একইভাবে আমরা যেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমরা জনগণের জন্য যা করতে চাইছি, দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা যা করতে চাইছি- সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা।

শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 8:45 pm
শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়।

তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া মঙ্গলবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা- ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাক শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। রক্তে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা, ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সে ব্যাপারে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এইসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনো ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।