মিরসরাই পৌরবাজারে নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের দাম
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই পৌর সদর বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যের দাম। কিন্তু নেই কোন দায়িত্বশীলদের তদারকি। এতে ভোগান্তিতে পড়ে অসহায় হয়ে বেশি দামে পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। আবার কেউ কেউ ভিন্ন বাজারে গিয়ে পণ্য ক্রয় করছেন।
জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার অন্যান্য বাজারে যে দামে পণ্য বিক্রয় হয় তার তুলনায় ১০ থেকে ৫০টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রয় হয় এ বাজারে।
অন্যান্য বাজারের দোকানিরা যেস্থান থেকে যে দামে পণ্য কিনেন, ঠিক একই স্থান থেকে একই দামে পাইকারে তারাও পণ্য ক্রয় করেন। তবে কেন পৌরবাজারের অন্যান্য বাজারের তুলনায় দাম বেশি নেওয়া হয় তার সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি কারো কাছ থেকে।
সরজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই পৌরবাজারে বয়লার মুরগি বিক্রয় হচ্ছে ১’শ ৭০টাকা দরে। কিন্তু পৌরবাজারের সামান্য দূরত্বে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।
কেজি প্রতি এমন পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরসরাই পৌরবাজারের মুরগি বিক্রেতারা ক্রয় বেশি, পরিবহন খরচ বেশি বলে অযুহাত দেখান। ক্রয় রশিদ দেখিয়ে বলেন কেজি প্রতি পাইকারে কেনা ১’শ ৪৩ টাকা তাই ১’শ ৭০ টাকা বিক্রয় না করলে পোষায় না।
এদিকে বড়তাকিয়া ও মিঠাছড়া বাজারের ব্যবসায়িরা একইদামে ক্রয় করে বয়লার বিক্রি করছেন কেজি প্রতি ১’শ ৫০ টাকা দরে।
এছাড়া অন্যান্য কাঁচা তরিতরকারী, শাক-সবজি ও মাছের বাজারেও বিশাল মূল্যের তারতম্য। উপজেলার অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে ফলের কেজি প্রতি মূল্য ৫০ টা বেশি নেয়া হয়।
এমন মূল্য পার্থক্যের কারণে পৌরবাজার বিমুখ হয়েছেন স্থানীয় মধ্য বিত্ত ও নিন্ম বিত্ত পরিবারের সদস্যরা। তারা একটু কম মূল্যে বাজার করতে ছুটে যান পাশাপাশি বড়তাকিয়া কিংবা মিঠাছড়া বাজারে। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
ভুক্তভোগী নুরের ছাফা জানান, পৌরবাজারে সব সিন্ডিকেট করে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রয় করে। তাই একটু কম দামে সময় নষ্ট করে হলেও বড়তাকিয়া বাজার থেকে পণ্য ক্রয় করি।
মুরগির খামারী নিয়াজ মোরশেদ আনিস জানান, খারারীরা বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী ১’শ ৪৩ থেকে ১’শ ৪৪ টাকায় পাইকারে বয়লার মুরগি বিক্রয় করা হয়।
কিন্তু উপজেলার মিরসরাই পৌরবাজার ও আবুতোরাব বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যান্য বাজারের তুলনায় বেশি দামে মুরগি বিক্রয় করা হচ্ছে।
মিরসরাই পৌরবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি উপজেলার অন্যান্য বাজারের সাথে সমতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার। কিন্তু আমাদের কথা তারা কেউ মানে না।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, আমি আসার পর থেকেই দেখছি মিরসরাই পৌরবাজারের খুবই খারাপ অবস্থা। এখানে ঢাকার চাইতেও পণ্য মূল্য বেশি।
বাজার মূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে। অপর দিকে দাম বাড়লে চাহিদা কমে, দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বাজার ভারসাম্যের অর্থনৈতিক এই সূত্র এখানে ব্যর্থ।
এখানে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিমভাবে পণ্য মূল্য বাড়ানো হয়। অচিরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালানা করা হবে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন