সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদর নিহত
চার নাতি-নাতনীদের জড়িয়ে দাদার আহাজারি
মিরসরাই প্রতিনিধি: মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় শেখ ফরিদ ও শেখ সুমন নামের দুই সহোদর মারা গেছে। দুজনের জন্ম হয়েছিলো একবছরের ব্যবধানে কিন্তু মারা গেলো একি সাথে।
তাদের বাবা শামসুদ্দিন পেশায় সিএনজি ড্রাইবার। তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে নিহত শেখ ফরিদ বড়, নিহত শেখ সুমন মেঝ এবং ছোট ছেলে লিটন। তারা তিনজনই পরিবার পরিচালনা করতে বাবার পেশাকেই বেঁচে নিয়েছিলেন। তাই ভাড়ায় চালাতেন সিএনজি। কিন্তু দুর্ঘটনার এক ঝড় এসে চলমান সবকিছুই যেন নিমিষেই শেষ করে দিলো। উপার্জনক্ষম বড় দুই ছেলেকে হারিয়ে বাবা শামসুদ্দিন এবং মা অজিবা খাতুন আদরের ছেলেদের রেখে যাওয়া চার নাতি-নাতনীদের জড়িয়ে কান্নার বিলাপ যেন থামছেই না। এদিকে স্বামীদের হারিয়ে বার বার বেহুশ হচ্ছেন তাদের দুই স্ত্রী। আর বাবা হারিয়ে চার শিশু সন্তান অপলকে তাকিয়ে আছে সবার দিকে, তাদের চাহনিতে মনেই করতে পারছেন না পৃথিবীতে আর কখনও বাবা ডাকতে পারবে না।
নিহত দুই সহোদর মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামের শামসুদ্দিন ড্রাইবার বাড়ির শামসুদ্দিনের পুত্র।
জানাগেছে, প্রতিদিনের মত বুধবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে সিএনজি বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে বাড়ি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই সহোদর। কিন্তু রাস্তায় জোনাকি বাসের সাথে কাভার্ডব্যানের ধাক্কা লাগে, এতে দুই ড্রাইবার গাড়ি থামিয়ে ঝগড়া করছিলো দেখে দৌঁড়ে দেখতে গিয়েছিলো তারা। সেখানে দ্রুত গতির আরেকটি কাভার্ডভ্যান এসে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানকে ধাক্কা দিলে সামনে থাকা দুই ভাই মুহূর্তেই পিষ্ট হয়ে যায়।
নিহত শেখ ফরিদের শেখ রাহিন (২), তাসফিয়া (৪) এবং নিহত শেখ সুমনের নিশাত (৭), মারিয়া (৪) নামের শিশু সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বুধবার রাতে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়। এতে শেখ ফরিদ এবং শেখ সুমন একসাথে মারা যায়।


আপনার মতামত লিখুন