খুঁজুন
, ,

চন্দনাইশের মিনি সুন্দরবনে পর্যটকের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 15 September, 2022, 2:28 pm
চন্দনাইশের মিনি সুন্দরবনে পর্যটকের আনাগোনা
চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার একটি পার্বত্য ইউনিয়নের নাম ধোপাছড়ি। যাকে বলা হয় মিনি – সুন্দরবন।  পাহাড় পর্বত নদী ঘেরা চন্দনাইশের ধোপাছড়িকে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত ধোপাছড়িতে ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়। ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তে পার্বত্য জেলা বান্দরবান, দক্ষিণে সাতকানিয়া, উত্তরে রাঙ্গুনিয়া। ইউনিয়নটির দক্ষিণ পার্শ্বে শঙ্খ নদী বয়ে গেছে। 
পাহাড় নদীর মধ্যখানে দেখা যায় মেঘ পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা। ইউনিয়নের পুরো এলাকা জুড়ে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও মৌসুমী শাকসবজি। সারি সারি বনজ গাজ নজর কাড়বে যে কারো।
চারদিকে নদী আর পাহাড় ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি জনপদ ধোপাছড়িতে যাওয়ার এখনও একমাত্র পথ হচ্ছে নদীপথ। শঙ্খ নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ছাড়া এখানে সরাসরি যাওয়া যায় না। তবে সম্প্রতি সিএনজি অটোরিকশা অথবা চাঁদের গাড়িতে কিছু কিছু যাওয়া গেলেও স্থানে স্থানে তিনবার পার হতে হবে শঙ্খ নদী।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় ও নদীবেষ্টিত দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি অঞ্চল ধোপাছড়িকে  বলা হয় চট্টগ্রামের সুন্দরবন চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে ঘেরা ধোপাছড়িতে প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য অকৃপণভাবে ঢেলে দিয়েছে।
এরপরও অনিন্দ্য সুন্দর, সম্ভাবনাময় পাহাড়ি এ অঞ্চলটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই।
ধোপাছড়ি ইউনিয়নের আয়তন ১৪ হাজার ২৭৭ বর্গএকর। এর পূর্ব সীমান্তে বান্দরবান, উত্তর সীমান্তে রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ সীমান্তে সাতকানিয়ার অবস্থান। বিশাল এই ইউনিয়নটিতে যাওয়ার সহজ মাধ্যম হচ্ছে নদীপথ। এর দক্ষিণ পাশে বয়ে গেছে শঙ্খ নদী।
নদীপথে ধোপাছড়িতে যাওয়ার সময় আকাশ পাহাড় নদীকে এক সাথে দেখতে অপূর্ব দেখায়। দেখলে মনে হবে আকাশের মেঘ পাহাড়কে আলিঙ্গন করছে যার প্রত্যক্ষদর্শী যেন নদী! প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এ স্থান ঘুরতে গেলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে।
নৌপথে ধোপাছড়ি ভ্রমণ করতে গেলে রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবে। এখানে উপজাতীয়রা নিজেদের থাকার জন্য গড়ে তুলেছে বাঁশের কুটির ও কঞ্চি দিয়ে ভাসমান ঘর। চলাচলের আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ের রঙিন ও সাদা মাটি, উঁচু-নিচু পাহাড় সবকিছুই উপভোগ্য।
শীত মওসুমে অতিথি পাখির কলতানে প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরো আকর্ষণীয়। বর্ষা মওসুমে নীল মেঘে ঢাকা থাকে এ পাহাড়ি অঞ্চল। বনফুলের সুবাস নাকে ভেসে আসে। আকাশ ঢেকে থাকে অসংখ্য তারায়। এখানে জ্যোৎস্না রাতে চাঁদ নেমে আসে মাথার উপরে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ও জোনাকির আলো পাহাড়ি পরিবেশকে করে তোলে আরো প্রাণবন্ত।
ধোপাছড়ির পাহাড়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের বৃহৎ সেগুন বাগান। এখানে বুনো গাছ ছাড়াও ফলদ ও ভেষজ গাছের বাগান রয়েছে। বছরভরে পাহাড়ের পাদদেশে পেয়ারা, লেবু, আদা, বাউকুল, আপেলকুল, আম, লিচু, কলাসহ বিভিন্ন ফলমূল, মওসুমি শাকসবজি ও শস্য উৎপন্ন হয়।
এখানকার বিস্তীর্ণ পাহাড়ে গড়ে উঠতে পারে বিনোদন কেন্দ্র, বনায়ন কেন্দ্র, বন গবেষণাগার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য চাষ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, পাখির অভয়ারণ্য ইত্যাদি।
সুন্দরবনের আদলে গড়ে উঠা ধোপাছড়িতে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কোন দর্শনীয় স্থান না থাকলেও এখানকার সেগুন, গর্জন, গামারি, চাপালিশ, একাশি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান যে কারো মন কেড়ে নেবে প্রথম দর্শনে। এক কথায় বলা যায় পুরো ধোপাছড়িটাই যেন একটি বোটানিকেল গার্ডেন এবং পাহাড়ের নিম্মাংশে যেন সবজির ভান্ডার।
ধোপাছড়িতে যাতায়াতের জন্য নির্মানাধীন খাঁনহাট- ধোপাছড়ি- বান্দরবান সড়কটি নির্মাণ কাজ গত দুই যুগেও শেষ হয়নি। এ সড়কটি গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট থেকে শুরু হয়ে মংলার মুখ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণাধীন এ সড়কটির কাজ শেষ করলেই প্রতিষ্ঠিত হবে ধোপাছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সে সাথে ধোপাছড়ি- দোহাজারী ধোপাছড়ি নদীপথে দ্রুত গতির ইঞ্জিনবোট চালু করা হলেই চট্টগ্রামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে ধোপাছড়ির সাথে। পাহাড়ের উঁচু নিচু বুক ছিড়ে এঁকে বেঁকে গেছে পিচ ঢালা পথ। আকাশে ভেসে বেড়ায় নীল-সাদা মেঘের বেলা। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি ছেয়ে আছে কারো প্রতীক্ষায়। এ অবিরাম নৈর্সগিক সৌন্দর্যের ধোপাছড়ি হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের বৃহত্তম সেগুন বাগান এই ধোপাছড়িতেই রয়েছে। আর এসব সেগুন বাগান রক্ষায় এই ধোপাছড়ি ইউনিয়নেই রয়েছে বনবিভাগের দুটি বনবিট এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। একটি ইউনিয়নে দুটি বনবিট স্থাপনের দৃষ্ঠান্ত দেশের আর কোথাও নেই। এ থেকে বোঝা যায়, বনজ সম্পদের দিক দিয়ে ধোপাছড়ি কতোটুকু সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
১৯২৬, ১৯৪২ এবং ১৯৬৩ সালে তৈরি করে সেগুন বাগান রয়েছে এই বনাঞ্চলে এদিকে এখানকার ৭ হাজার একরের বিশাল বনাঞ্চল রক্ষা করতে বনবিভাগের স্বল্প সংখ্যক জনবলের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে ধোপাছড়িকে ঘিরে দীর্ঘ সময় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি গাছ চোরের সিন্ডিকেট। এ গাছ চোরেরা মূলত সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে অনেকে কোটিপতি হয়ে গেছে। ফলে এ বনভূমির প্রাকৃতিক সম্পদগুলো রক্ষা হচ্ছে না যথাযথভাবে।
দৈনিক সময়ের কাগজকে ধোপাছড়ি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষরা বলেন,  স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪ দশক পেরিয়ে গেলেও এ ধোপাছড়ির উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। সবচেয়ে দূঃখের বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘ এ সময়ে এখানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগে কোন ব্যবস্থা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
কোন সরকারের আমলেই কোন জনপ্রতিনিধিই এ ধোপাছড়ির উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। ফলে অপার সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলটি বরাবরই অবহেলিত থেকে গেছে। তাই সরকারের কাছে সকলের দাবি, ধোপাছড়িকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষনা করার।
জে-আর
Feb2
Feb2

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 4:26 pm
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এ রায়ের পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা গাছ চেইনসো (গাছ কাটার ইলেকট্রনিক করাত) দিয়ে মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে সেগুলোর গুঁড়ি সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। পুরো গাছ কেটেও রাখা হয়েছে সড়কে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।

সড়কে অবরোধের কারণে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ডিউটি অফিসার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানান, মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আদালতের রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

এর আগে গত ১৫ জুন আপিল বিভাগ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 3:53 pm
টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর, রোমাঞ্চকর ট্রাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে ব্রাজিল। ‘টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশন (টিসিজেএ), চট্টগ্রাম’-এর আয়োজনে এই জমকালো ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

​খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

​ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স ট্রেড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী তহুরা পিংকি ও রহিমা রুহী এবং মাখতুমা মোতাছিম এসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী মোঃ ফরিদ উদ্দিন।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, এটিএন বাংলার ব্যুরো চিফ আবুল হাসনাত এবং দীপ্ত টিভির ব্যুরো চিফ লতিফা আনসারী।

​আয়োজক সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুন এবং সংগঠনের সাবেক সভাপতি সফিক আহমেদ সাজিবসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”

​উল্লেখ্য, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুটি দলে ভাগ হয়ে খেলা এ ম্যাচে, তারা চরণ টিপুর গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ব্রাজিলের হয়ে সমতা সূচক গোল করেন অনিক বিশ্বাস। ১-১ গোলে সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু’দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এনামুল হকের গোলে লিড নেয় ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান সুমন গোস্বামী। ২-২ গোলে ড্র হওয়া খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে টাইব্রেকের সাডেন ডেথে ৪-৩ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।