চট্টগ্রাম বন্দরে খরচ কমেছে এক বছরে আয় ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। খরচ কমেছে বন্দরের কেনাকাটা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে। আগের বছরের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বন্দরের অবস্থান। লয়েডস লিস্টের তালিকায় শীর্ষ ১০০ কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪তম। বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দর সন্তোষজনক অবস্থানে আছে। এতে বিশ^ বাণিজ্যে বাড়ছে বন্দরের ইমেজ ।
গত এক বছরে সরকারের ভ্যাট, কর, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, কর্মকর্তা—কর্মচারীদের বেতন—ভাতা, সিটি করপোরেশনের পৌরকর ইত্যাদি বাদ দিয়ে বন্দরের নিট আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০—২১ অর্থবছরে বন্দরের মোট আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিট আয় ছিল ৬৯৮ কোটি টাকা।
বন্দর মূলত বার্থ, জেটি ভাড়া, কি গ্যান্টি্র ক্রেন (কিউজিসি) চার্জ, ক্রেন চার্জ, পোর্ট ডিউস, বার্থিং আনবার্থিং, পাইলটিং ফি, টাগবোট ভাড়া, জাহাজে পানি সরবরাহ, কার্গো ল্যান্ডিং চার্জ, শিপিং চার্জ, রিমোভাল চার্জ,
স্টোরেজ চার্জ, টার্মিনাল চার্জ, স্টাফিং—আনস্টাফিং চার্জ, ইলেকট্রিক চার্জ, এফডিআর খাতে আয়, বন্দরের জায়গা ও স্থাপনার ভাড়া ইত্যাদি নানা খাতে আয় করে থাকে।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০২১—২২ অর্থবছরে বন্দরের আয় থেকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। প্রায় ৫৭৬ কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয়েছে।
৪২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পৌরকর খাতে। বেতন—ভাতা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ২০২১—২২ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৩ টিইইউস (২০ ফুটের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল।
সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬০ মেট্রিকটন। এ সময় জাহাজে হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ২৩১টি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বছর অন্য বছরের চেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন হয়েছে। অর্জিত মুনাফা ব্যয় হবে বন্দরের উন্নয়নে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দরের কেনাকাটা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে খরচ কমানো হয়েছে।
পিসিটি, বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ীসহ অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন