ভুয়া পরিচয়ে পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে
চট্টগ্রাম আদালত এক ব্যক্তিকে কারাদন্ড দিয়েছে
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এর বিচারক মেহনাজ রহমান ভুয়া সেনাসদস্য পরিচয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) মফিজ উদ্দিন সরকার ওরফে মো. আবু জাহের নামের এক ব্যক্তিকে আট মাসের বিনাশ্রম কারাদÐ দিয়েছেন আদালত। গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রায়ের বিষয়টি জানা যায়।
রংপুর জেলার কাউনিয়া থানাধীন সদাধর গ্রামের মৃত ডাক্তার কফিল উদ্দীন সরকার ওরফে আবু তাহেরের ছেলে দÐিত মফিজ উদ্দিন। তবে আদালতে দেওয়া পুলিশের অভিযোগপত্রে তার বর্তমান ঠিকানা দেওয়া আছে চাদঁপুরের মতলব থানাধীন পূর্ব লালপুর গ্রামে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দÐিত ব্যক্তি নিজেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানাধীন মনছুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির ডাক্তার কফিল উদ্দীন সরকারের ছেলে মো. মফিজ উদ্দীন পরিচয় দিয়ে সোনালী ব্যাংক ডবলমুরিং থানাধীন মিঠাগলি শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন।
পরবর্তী সময়ে ওই হিসাবে সেনাবাহিনীর অবসর ভাতা বই, ডি হ্যাভস এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিয়ে বাহিনীর পেনশন বিল প্রদানের আবেদন করেন। এসময় অবসর ভাতার কার্ডসহ আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর ওই সঞ্চয়ী হিসাব থেকে পেনশনের ১ লাখ ১৯ হাজার ৬’শ টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৩ ডিসেম্বর আবারও পেনশন নেওয়ার জন্য ব্যাংকে গেলে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।
এসময় ব্যাংকে জমাকৃত সব ধরনের ডকুমেন্ট জালভাবে কম্পিউটারে তৈরি করা বলে তিনি স্বীকার করেন। পরে ব্যাংক ম্যানেজার মো. ফোরকান তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওইদিনই সোনালী ব্যাংক মিঠাগলি শাখার তৎকালীন ম্যানেজার মো. ফোরকান বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় ২০১৬ সালের ১ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা দÐবিধির ৪০৬ এবং ৪১৯ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। দÐবিধির ৪১৯ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
মামলার সোনালী ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমদ লাভলু জানান, প্রতারণার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে গা ঢাকা দেন মফিজ উদ্দিন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সোমবার তাকে দÐবিধির ৪১৯ ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদÐ দেন মহানগর হাকিম আদালত।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন