খুঁজুন
, ,

আ.লীগ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চায় না : রিজভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 October, 2022, 5:28 pm
আ.লীগ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চায় না : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশ ভয়াবহ অন্ধকারে নিমজ্জিত। আজকে ছাত্রলীগের নামে ছাত্র আছে, কিন্তু পড়ালেখা তো নেই। ফলে, এই দলের নেতৃবৃন্দ চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। কারণ, আওয়ামী লীগ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চায় না।

আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন রিজভী। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ও সারা দেশে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

রিজভী বলেন, ‘সারা দেশকে এক ভয়াবহ অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিণাম যে কী ভয়াবহ হবে, তা তিনি টের পাচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ আজ সন্ত্রাসী সংগঠন, ছাত্রলীগ আজকে নারী নির্যাতনকারী।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার গোটা দেশকে এক লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। এই অনাচার চলতে দেওয়া যায় না। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্বে মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

‘আজকে ছাত্রলীগের নামে ছাত্র আছে, কিন্তু পড়ালেখা তো নেই’ উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজে যা হচ্ছে তা অবর্ণনীয় ও ন্যাক্কারজনক। আসলে সরকার ছাত্রলীগকে কী বানাচ্ছে?’ তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে পড়ালেখা নেই। প্রধানমন্ত্রী পড়ালেখা তুলে দিয়েছেন।’

রিজভী বলেন, ‘ইডেনে ছাত্রলীগের কুকীর্তি ন্যাক্কারজনক। আসলে ছাত্রলীগের ওপরের দিকে যারা আছেন তারা ভালো না। ফলে, ছাত্রলীগ তো নারীদের ওপর আক্রমণ করবেই। তারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাইবে না।’

রিজভী আরও বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জা করে যারা দিনে ভোট করার সাহস পান না, রাতে ভোট করতে হয়, তারা তো চায় না আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শান্তিপূর্ণভাবে চলুক, দেশের মানুষ উচ্চ শিক্ষিত হোক। তারা ইডেন কলেজ ছেড়ে দিয়েছে ছাত্রলীগকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে ছাত্রলীগকে, তারা সেখানে হলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে কোনো ভবন নির্মাণ কাজ হলে সেগুলো থেকে চাঁদা দাবি করে।’

সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।

এন-কে

Feb2
Feb2

নজরুলের মানবিক চেতনা ধারণ করতে হবে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 September, 2026, 7:52 pm
নজরুলের মানবিক চেতনা ধারণ করতে হবে: ডিসি জাহিদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে নজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ‘নজরুল মুক্তমঞ্চ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ডিসি হিলে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর সেই অবস্থানের শতবর্ষে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নজরুলচর্চার সুযোগ বাড়াতে মুক্তমঞ্চটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নজরুল এমন একজন কবি, যিনি মানবতাকে আরও বেশি প্রসারিত করেছেন। আমাদের নজরুলকে জানতে হবে, আরও বেশি জানতে হবে।’

নজরুলের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুল ধর্ম-বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। তিনি যেমন ইসলামী সংগীত রচনা করেছেন, তেমনি লিখেছেন শ্যামাসংগীত। তাঁর সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের বার্তা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুলের সাহিত্য মানুষকে অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামেও তাঁর লেখনী মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান সময়েও তাঁর সাম্য ও মানবিকতার দর্শন প্রাসঙ্গিক।

নজরুলের আপসহীনতার প্রসঙ্গ টেনে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কবি নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেননি।

তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুর কাছে তাঁর বিবেক কখনো পরাজিত হয়নি। পরাজিত বিবেক দিয়ে কোনো কিছু অর্জন করা যায়, কিন্তু সেই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’

ডিসি হিলের সঙ্গে নজরুলের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১৯২৬ থেকে ২০২৬—ঠিক ১০০ বছর পর আমরা সেই স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের পরিচিত জায়গাগুলোর একটি ডিসি হিল। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার ও এলাকাটি নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো মঞ্চকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারও সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি তরুণদের মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষা দিতে পারে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্ম নজরুলকে ধারণ করবে, নজরুলকে লালন করবে। নজরুল যেভাবে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই চেতনায় তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।’

নির্মাণকাজ শেষ হলে নজরুল মুক্তমঞ্চে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চর্চার সুযোগ পাবেন এবং নতুন প্রজন্মও নজরুল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে।

জেলা প্রশাসকের আশা, নজরুলের ডিসি হিলে অবস্থানের শতবর্ষের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন মুক্তমঞ্চটি চট্টগ্রামের নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 September, 2026, 11:56 am
এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।

জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 September, 2026, 7:22 am
জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুল উপস্থাপন এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

গত বছরের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার পর তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

রয়টার্সের হাতে আসা ২০২৬ সালের ৩ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানান, চীন ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তাদের দাবি, নিয়মিত ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি হয়েছে। ওই ঘটনায় ৯০১ ডলারের একটি অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের জন্য তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সংস্থাটির নেতৃত্বের প্রতি তার বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়েছে।

টেড্রোসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকভাবে করে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের প্রতি তিনি ‘বিশ্বাস ও আস্থা’ হারিয়েছেন। বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থাও অসহনীয় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।