খুঁজুন
, ,

এলসেভিয়ার ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় চুয়েটের চার শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 19 October, 2022, 6:22 pm
এলসেভিয়ার ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় চুয়েটের চার শিক্ষক

বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ের ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃক যৌথভাবে প্রণীত ২০২১-২২ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর চারজন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হাসান সরকার, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঞা, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হাফেজ এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী। গত ১০ অক্টোবর বৈশ্বিকভাবে এই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ১৯৬০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গবেষকদের বিভিন্ন গবেষণা প্রকাশনা, কান্ট্রিবিউশন, ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয় এবং ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে হালনাগাদ করে তা প্রকাশিত হয়।

ড. মো. ইকবাল হাসান সরকার বর্তমানে চুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি চুয়েট থেকে বিএসসি এবং এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এছাড়াও ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, মেলবোর্ন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. সরকারের গবেষণার বিষয়বস্তু মূলত ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং,

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যানালিটিক্স। ড. সরকারের গবেষণা কর্মগুলো এলসেভিয়ার, স্প্রিঞ্জার, নেচার, এসিএম, আই.ই.ই.ই,

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস—এর বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল এবং কনফারেন্সে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তাঁর লেখা একটি বই “কনটেক্সট—আওয়ার মেশিন লার্নিং অ্যান্ড মোবাইল ডেটা অ্যানালিটিক্স”, স্প্রিঞ্জার, নেচার সুইজারল্যান্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে,

যেটি বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাক্যাডেমিয়া উভয়ক্ষেত্রেই গবেষণা এবং স্মার্ট অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন। ড. সরকার পরিচালিত “সরকার ডেটা ল্যাব” ওয়েবসাইট এ তাঁর গবেষণা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঞা বর্তমানে চুয়েটের মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। অধ্যাপক মোস্তফা কামাল ভূঞা, ২০০৩ সালে চুয়েট থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক (বিএসসি) এবং

তিনি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

এছাড়া ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুল থেকে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ২য় প্রজন্মের বায়োডিজেল বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর গবেষণামূলক আগ্রহের মধ্যে তাপ স্থানান্তর বৃদ্ধি, তাপীয়-তরল, নবায়নযোগ্য শক্তি, বিকল্প জ্বালানি এবং শক্তি রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নাল এবং সম্মেলনে যৌথ পর্যালোচক হিসেবে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। গবেষণায় অবদান রাখায় তিনি চুয়েট থেকে ২০১৯ সালের জন্য সেরা গবেষণা প্রকাশনা পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হাফেজ বর্তমানে চুয়েটের গণিত বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. হাফেজ ম্যাথেমেটিক্যাল ফিজিক্স শাখায় গবেষণা করেন।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১৯ সালের জন্য চুয়েট থেকে “সেরা গবেষণা প্রকাশনা পুরস্কার” পেয়েছেন।

ড. মো. আশরাফ আলী বর্তমানে চুয়েটের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. আলী পদার্থ বিজ্ঞানের কনডেন্সড ম্যাটার শাখায় তাঁর এমএসসি, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

ড. আলী, দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভান্সড কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।

বিগত কয়েক বছর যাবৎ তিনি প্রধানত কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স (থিওরেটিক্যাল) এবং বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়ালস প্রস্তুতকরণ ও পরীক্ষণ (এক্সপেরিমেন্টাল) গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য চুয়েট থেকে “সেরা গবেষণা প্রকাশনা পুরস্কার” পেয়েছেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, চুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের সাথে যুক্ত আছেন।

এ অর্জন প্রসঙ্গে তাঁরা মনে করেন, “নিশ্চয়ই বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের তালিকায় স্থান পাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চুয়েটের জন্য অনেক সম্মানের। সামনের দিনে চুয়েটের ছাত্রছাত্রীরা গবেষণায় আরও উৎসাহী হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

২৪ ঘণ্টা / জেআর

Feb2

পুলিশে বড় রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 June, 2026, 10:18 pm
পুলিশে বড় রদবদল

পুলিশের ঊধ্বর্তন ২১ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে। একই আদেশে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে।

রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়। রাষ্ট্রপতি আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে- পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে, এনএসআইয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি প্রধান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ টেলিকমে এবং র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ফারুক আহমেদকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এফডিএমএন কার্যালয়ের ডিআইজি প্রলয় চিসিমকে নোয়াখালী পিটিসিতে, সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএনের এফডিএমএন কার্যালয়ে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ ওসমান গণিকে রংপুর পিটিসিতে, এসবির ডিআইজি এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে খুলনা পিটিসিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র‍্যাবে এবং এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।

একই আদেশে ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা এপিবিএনের অধিনায়ক মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে মুক্তাগাছা এপিবিএনের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে কমান্ড্যান্ট রাঙ্গামাটি বেতবুনিয়া, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায়, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে রংপুর পিটিসিতে পদায়ন এবং খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ সদর দপ্তরে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায়, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মো. শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 June, 2026, 4:43 pm
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এই কথা বলেন।

এদিন সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আয়োজনে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তারা। আপ্যায়নের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির ১৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।

এই শিক্ষার্থীরা মূলত সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে তারা সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন। এছাড়া তারা সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সরাসরি সংসদ অধিবেশন কক্ষে বসে সংসদের কার্যপ্রণালী দেখার সুযোগ পান।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার পাশাপাশি সরকারপ্রধানের আমন্ত্রণে এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আন্তরিক আপ্যায়ন ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পাওয়ায় তারা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 June, 2026, 4:26 pm
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

সমাজের কোনো জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, মানুষ কোথায় জন্ম নেবে, তা তার নিয়ন্ত্রণে নয়; তবে পরিশ্রম, দক্ষতা ও বড় স্বপ্নের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ভোগে নয়, উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করতে হবে, কারণ এ অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা।

রোববার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী, সনদ ও আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করলেও অনেকেই এখনো উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কোনো সমাপ্তি নয়; এটি নতুন পথচলার শুরু। বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত দক্ষতা বাড়াতে হবে। ‘আপনি যদি স্থির থাকেন আর পৃথিবী এগিয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীর সঙ্গে আপনার দূরত্বই বাড়বে,’ বলেন তিনি।

সময়কে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ড. বি. আর. আম্বেদকরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিকাংশ সফল মানুষ প্রতিকূলতাকে জয় করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাই ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমান পরিবর্তন করতে পারবেন। সরকার শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়াতে নয়, তাঁদের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর আবাসন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁদের প্রায় ২৫০টি পরিবারের আবাসনের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

সরকারি অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে প্রায় ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করা হলে ব্যক্তি যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সরকারের উদ্দেশ্যও সফল হবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তব চাহিদাভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় কী ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ না ঘটলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেক জাগ্রত করতে সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক মানুষের বিবেক ও বিচারবোধ নষ্ট করে দেয়। তাই একটি মাদকমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী জেলে, হিজড়া, সন্ন্যাসী, হরিজন ও সেবক সম্প্রদায়ের ২৫ জনকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান ও সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০৫টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান এবং প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও মেধাবী ১৩৫ শিক্ষার্থীকে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।