ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং তান্ডবে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে নদী ও সাগরের বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি,দমকা হাওয়া, নদী ও সাগরে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী বরাদ্দে ভাঙ্গন এলাকা মেরামত কাজ শুরু করেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা ও সরেঙ্গা এলাকায় সঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এসময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার চেষ্ঠা করে।
জানা যায়, সোমবার রাতে সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে আনোয়ারার রায়পুর ও জুঁইদন্ডী ইউনিযনের কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এসময় জোয়ারের পানিতে মৎস ঘের ও ফসলের ক্ষতি হয়। সরেঙ্গা এলাকায় বসত ঘরেও পানি প্রবেশ করে।
সরেঙ্গা গ্রামের মহরম আলী সাওদাগর বলেন সঙ্খ নদীর চমহার দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৪০০ কানি জমিতে আমার চিংড়ি ঘেঁর। সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সম্পন্ন তলিয়ে যায়,এতে আমার ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
কর্ণফুলীতে শিকলবাহ ইউনিয়নের ৪ ও৫ নং ওয়ার্ড এবং জুলধা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ডাঙ্গার চর এলাকায় পানিতে তিন শাতাধিক বসত ঘরে পানি প্রবেশ করে। এসময় তিনটি বসত ঘর সম্পন্ন তলিয়ে যায়। এছাড়ার এসব এলাকায় মৎস্য ঘের ও আমনের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
এদিকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন আছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এতে করে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে জনসাধারণকে।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন শরিফ বলেন সোমবার রাতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে স্থানীয়দের নিয়ে জিও ব্যাগ বসিয়ে বাঁধ রক্ষা করি,এরপরও বাঁধ টপকে পানি প্রবেশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল দাশ বলেন, ভাঙ্গন এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করেছি। পরে এ এলাকায় পাথর বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন সিত্রাংয়ের ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহযোগিতা প্রদানের চেষ্ঠা করা হবে।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন