চমেকে লাশ হলেও বকসিসে ছাড় নেই !
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রোগী ও স্বজনদের কাছে আরো এক ভোগান্তি। মুমূর্ষু থেকে সাধারণ রোগী সবারই হাসি-কান্নার ঘর এটি। কিন্তু পুরো মেডিকেল জুড়ে চলে ওয়ার্ড বয় ও নার্সদের বকসিসের নামে চাঁদাবাজি। রোগী ভর্তির পর থেকেই লাশের স্বজনদের ওপর ভর করে বকসিস নামের এ নৈরাজ্য। হাসপাতালের ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ড বয়রা মূলত এ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য রোগি ভর্তি ও ছাড়ের পাশাপাশি আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫টি নরমাল ও পুলিশ কেস সংক্রান্ত লাশ বের হয়। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে রোগী ঢোকার সাথে সাথেই সেখানে কর্মরত সরকারি ও ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ড বয়দের চাঁদাবাজি শুরু হয়।
এতে চরম হয়রানিতে পড়েন রোগী ও লাশের স্বজনরা। প্রতি রোগী ও লাশ রিলিজের পর ওয়ার্ড বয়রা দাবি করে বসেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। মৃত ব্যক্তির স্বজনরা ওয়ার্ড বয়দের এ টাকা দিতে অপারগ হলে তাদের ওপর ক্ষেপে যান ওয়ার্ড বয়রা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে চমেক হাসপাতালের এক ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ড বয় সময়ের কাগজকে জানান, কোনো রোগী বা লাশ যখন হাসপাতাল থেকে রিলিজ হয় তখন ওয়ার্ড বয় ও নার্সরা সেগুলো এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে আসেন। বিনিময়ে বকসিস চান তারা।
বিষয়টি হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ওয়ার্ড মাস্টার সকলে অবগত। কিন্তু খুব বেশি চাপে না পড়লে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেননা।
এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রাজিব দে জানান, মূলত দুই প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল থেকে লাশ রিলিজ করা হয়।
সাধারণ মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতার মৃত ভলিউমে লাশের তথ্য লিপিবদ্ধ কেও স্বজনদের কাছে লাশ স্থানান্তর করা হয় এবং পুলিশ কেস সংক্রান্ত লাশ রিলিজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও স্বজনদের কাছে স্থানান্তর করা হয়। তবে ওয়ার্ড বয় কর্তৃক রোগী ও স্বজনদের কাছে বকসিস দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামিম আহসান সময়ের কাগজকে বলেন, সরকারি ফি’র বাইরে কোনো রোগি বা লাশের স্বজনদের কাছে কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। সম্প্রতি এমন অভিযোগ এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন