নৃশংস খুনের বিচার হয়না দ্রুত
কক্সবাজারে রাসেল খুনের ক্লু উদঘাটন
ঘুরতে হবে আইনের দ্বারে দ্বারে
কক্সবাজারে এক হত্যাকান্ডে বাবা ও দুই পুত্র জেলে গিয়েছে। বাপের সামনে দুই ছেলে ও তাদের সহযোগীরা খুন করেছে এক হত দরিদ্র সিএনজি টেক্সি চালককে। অভিযোগ রয়েছে, এদেশে খুন করতে দেরি হয়না। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে খুন হয় নিমিষেই। খুনিরা ঠান্ডা মাথায় অপরাধ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধীদের আাওতায় আনতে পারলেও বিচার হয়না সহজেই। অনেক সময় সাক্ষীর অভাবে অপরাধী পার পেয়ে যায়। আর অপরাধীরাও পার পেয়ে যাওয়ায় অপরাধ কমছে না। ফলে অপরাধের মাত্রাও দিনদিন বাড়ছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় সিএনজি টেক্সি চালক রাসেলকে গত ১৩ অক্টোবর সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে খুন করেছে ইয়াছিন নামের এক যাত্রী। এ নৃশংস ঘটনায় র্যাব সেভেনের একটি দল দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা থেকে।
এমামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রাসেল আজম প্রকাশ বাহাদুর(৩০) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া এলাকায় সিএনজি টেক্সি চালিয়ে দিনাতিপাত করত। গত ১৩ অক্টোবর স্থানীয় বদরখালী কলেজ পাড়া এলাকা থেকে যাত্রী তোলেন রাসেল। এরা হলেন ইয়াছিন ও তার মা আছিয়া বেগম। টেক্সি বদরখালী বাজারে পৌঁছালে ইয়াছিনের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
উল্লে্যখ, ইয়াছিনের বাবা মোহাম্মদ ইসহাকের বদরখালী বাজারে খাবার হোটেল রয়েছে। বাবার হোটেল থাকায় ইয়াছিন বদরখালী বাজারে পৌঁছার পর অটোরিকশা চালক রাসেলের সঙ্গে খুব খারাপ আচরন শুরু করে। এক পর্যায়ে ভাড়া নিয়ে ইয়াছিন ও তার মা আছিয়ার মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
কিছুক্ষণ পর ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে রাসেল ইয়াছিনের বাবার হোটেলে ঢুকে। রাসেল হোটেলে খাবার খেতে বসলে ইয়াছিন আবারও চড়াও হয়। পূর্বের বিষয় নিয়ে আবার তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইয়াছিন হোটেলের রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে রাসেলের বুকে উপুযুর্পুরি আঘাত করে।
এ সময় ইয়াসিনের সহযোগী কাজল এবং অন্যান্য আসামিরাও ভিকটিমকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম অবস্থায় বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা রাসেলকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
চকরিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, টেক্সি চালিয়ে রাসেল পরিবারের ভরনপোষণ করত। ছেলেকে হত্যার ঘটনায় রাসেলের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়েছে এই মামলায় (মামলা নং-২১, তারিখ: ১৬/১০/২২)।
এছাড়াও অজ্ঞাতমনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামীরা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল।
র্যাব সেভেন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় ৩নং আসামী ইয়াছিনের বাবা মো. ইসহাক(৫০)’কে চকরিয়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত অব্যাহত ছিল।
হত্যা কান্ডের এজাহারনামীয় ১ ও ২নং আসামী ইয়াছিন ও কাজল চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চিকনদন্ডী এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় শনিবার দুপুরে।
এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে আসামী চশরিয়ার নাপিতখালী এলাকার মোহাম্মদ ইসহাকের দুই ছেলে ইয়াছিন আরাফাত ও কাজলকে গ্রেফতার করে।
আসামীরা অকপটে স্বীকার করেছে, তারা রাসেল আজম বাহাদুর(৩০)কে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এই মামলার এজাহারনামীয় ১ ও ৩নং পলাতক আসামী।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন