রাবার শিল্পে অবদান রাখছে রাউজানের তিন রাবার বাগান
ছবির ক্যাপশনঃ রাউজানের ডাবুয়া রাবার বাগান থেকে সংগৃহিত রাবার কষ প্রক্রিয়াজাত শেষে রৌদে শুকানোর দৃশ্য।
দেশের রাবার শিল্পে অবদান রাখছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সাত হাজার একর পাহাড় টিলা ভূমির তিনটি রাবার বাগান। বাগানগুলো হচ্ছে রাউজান, হলদিয়া ও ডাবুয়া রাবার বাগান। প্রায় শত বছরের পুরানো তিনটি রাবার বাগান দেশের রাবারের চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখলেও দিন দিন বাগানগুলোতে গাছের সংখ্যা কমে আসছে। অধিকাংশ গাছ জীবনচক্র হারিয়ে জীর্ণশীর্ণ হয়ে আছে।
উপজেলার তিনটি রাবার বাগান কতৃর্পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, হলদিয়া রাবার বাগানে রাবার খস উদৎপাদন দিতে সক্ষম গাছের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৮’শ ৭৪টি ডাবুয়া রাবার ১ লাখ ৩ হাজার ৬’শ ও রাউজান রাবার বাগানে ৭৬ হাজার ৯০টি গাছ। তিনটি বাগান থেকে দৈনিক ২০ হাজার কেজির অধিক কষ পাওয়া যায়।
হলদিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিত ভৌমিক রায় জানান, শীতকালীন সময়ে যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি পরিমাণ কষ পাওয়া যায়। হলদিয়া রাবার বাগানের ৩লাখ ৫৯ হাজার ৭’শ ৫৩টি রাবার গাছের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৮’শ ৪৭টি গাছ উৎপাদনশীল রাবার গাছ থেকে দৈনিক ১০ হাজার কেজি রাবারের কষ পাওয়া যায়।
ডাবুয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম জানান, শীতের মৌসুমের শুরুতে বাগান থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার কেজির অধিক রাবারের কষ আহরণ করা হচ্ছে। বাগানটিতে জীবন চক্র হারানো রাবার গাছ রয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৬’শ ৮১টি। নতুন করে সৃজন করা গাছ গুলো থেকে আগামী বছর থেকে কষ আহরন শুরু হবে।
তখন রাবার উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। রাউজান রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন জানান, বাগানে ১ লাখ ৯৩ হাজার রাবার গাছের মধ্যে ৭৬ হাজার ৯০টি উৎপাদনশীল গাছ থেকে শীত মৌসুমের শুরুতে ৫ হাজার কেজি রাবারের কষ আহরণ করা হচ্ছে। বাগানটিতে জীবন চক্র হারানো রাবার গাছের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ২৬টি। রাউজান রাবার বাগানে ২০২২—২০২৩ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কেজি।
জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি রাবার ১’শ ৯০ টাকা মূল্যে বিক্রী হচ্ছে। রাউজানের তিনটি রাবার বাগান থেকে দৈনিক উৎপাদিত ৪ হাজার কেজি রাবারের বাজার মুল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।
উপজেলার রাউজান, হলদিয়া ও ডাবুয়া রাবার বাগান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হলেও বাগানগুলোতে জনবল সংকট বিদ্যমান রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে বাগানগুলো থেকে কষ আহরণ করা হচ্ছে। জনবল সংকট নিরসন করা গেলে উপজেলার তিনটি রাবার বাগান থেকে রাবারের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডাবুয়া রাবার বাগানের শ্রমিক মোহাম্মদ আমির।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন