সমাজপতিরাও কানে তোলেনি
স্কুলছাত্রী অপহরণে বখাটের মা’ও
বখাটের উৎপাতে অতিষ্ঠ মেয়েরা
মেয়েদের পড়ালেখার পথে এখন বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে বখাটেদের উৎপাতে মেয়েরা অতিষ্ঠ। নানাভাবে স্কুল কলেজে যাওয়া আসার পথেই বখাটেদের প্রতিবন্ধকতা সবচেয়ে বেশি। বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করার চেষ্টা করছে বখাটেরা। বখাটের সাঙ্গপাঙ্গরাই নিপীড়নে ফেলছে মেয়েদের। এমন পরিস্থিতির শিকার এসব মেয়েরা পড়ালেখার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে। মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই অভিভাবকরাও উদ্বিঘ্ন। সমাজপতিদের দারস্থ হয়েও কাজে আসছেনা। সমাজপতিরাও অনেকটা অপরাধীদের পক্ষে কাজ করছে এমন অভিযোগও এখন আমলে নিচ্ছেনা সমাজের সচেতনরা।
গত শুক্রবার রাতে র্যাব সেভেনের অভিযানে দীর্ঘ প্রায় তিনমাস পর অপহৃত ১৫ বছর বয়সের ৯ম শ্রেণী পড়–য়া এক ছাত্রী উদ্ধার হয়েছে। এমন কিশোরী অপহরণের ঘটনায় নেতৃর্ত্ব দিয়েছে এক নারী ও তার ২ সহযোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, বখাটে সাইমুন বিভিন্ন সময়ে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে মেয়েটিকে উত্যক্ত করত। অপহৃত এই কিশোরী এমন তথ্য জানিয়েছে র্যাব সেভেনকে। এছাড়াও মোবাইল ফোনে প্রায় সময়ই বিরক্ত করত সাইমুন।
যা সে তার মা—বাবাকেও জানিয়েছে। আশে পাশের মানুষ দেখেও না দেথার ভান করেছে। অভিভাবকরা সামাজিক সমালোচনার ভয়ে আইনের আশ্রয় নেয়নি। তবে বাড়ীর লোকজনকে জানালেও কোন আশ্রয় পায়নি।
ভিকটিম বিষয়টি তার মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে অবহিত করে। ভিকটিমের মা তার মেয়েকে বিরক্ত না করার জন্য বিষয়টি সাইমুনের মা এবং তাদের বাড়ির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন।
এতে সাইমুন ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমদের বাড়ির লোকজনদের বিভিন্ন ধরনের গালমন্দ করে এবং ভিকটিমকে তাদের চোখের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকি প্রদান করে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১৩ আগষ্ট সন্ধ্যায় মেয়েটি তার ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় পায়চারি করছিল।
এমন সময় হঠাৎ বখাটে সাইমুন আরো ২/৩ জন সহযোগীসহ মেয়েটিকে জোর পূর্বক একটি সিএনজি টেক্সিতে করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় মেয়েটি আত্মরক্ষায় চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। এসময় দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থলের পাশে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মেয়েটির মাকে জানায়।
ঘটনা শুনে মেয়েটির মা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য লোকজনদের জানালে তারা প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা না নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দেন।
ফটিকছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনটয় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ৫ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩জনকে আসামী করে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন( যার মামলা নং——১০, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২২)। ডিউটি অফিসার নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী—২০০৩) এ মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন।
র্যাব সেভেনের তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ায় মামলার বাদী র্যাব সেভেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অপহরনের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে র্যাব সদস্যরা।
শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী থানাধীন পশ্চিম দেওয়ান নগর এলাকায় অভিযানে নামে র্যাব সেভেনের একটি বিশেষ দল। সেখানে একটি ভাড়াঘর হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং অপহরণের সাথে জড়িত প্রধান আসামী মোহাম্মদ সাইমুনকে আটক করে।
সে ফটিকছড়ির ধর্মপুর ইউনিয়নের ঙসমান আলীর ছেলে। এ ঘটনায় সাইমুনের মা হাছিনা বেগমকেও আটক করা হয়েছে। একই ঘটনায় সহায়তা ও আশ্রয় প্রদানকারী সোহেলকেও আটক করা হয়েছে। সোহেল পটিয়ার পূর্ব আশিয়া এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে।
র্যাব সেভেনের দফতরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এজাহার নামীয় আসামী মোহাম্মদ রাসেলকেও আটক করা হয় ফটিকছড়ির নানুপর এলাকা থেকে শুত্রবার রাত ২ টার দিকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আসামীরা মেয়েটিকে অপহরণের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করে। আটককৃতদের ফটিকছড়ি থানায় হস্তান্তর করে স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন