বড় অফারের চাকরিতে অনীহা।
৮০ হাজার বেতনে চাকরি নিলেন শরীফ
সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে ছোট চাকরী।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন এবার ৮০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে যোগ দেবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ পশুচিকিৎসার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শরীফ। বরখাস্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। সর্বশেষ ভাইয়ের দোকানের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি অফার পান তিনি।
বড় প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনের চাকরি ও অফার ফিরিয়ে দিয়ে পশুচিকিৎসার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন শরীফ। ওই প্রতিষ্ঠানে ‘কারিগরি সেবা ও বিপণন বিভাগের’ প্রধান হিসেবে ৮০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে যোগ দিবেন শরীফ।
এ বিষয়ে শরীফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেড়, লাখ ২ লাখ টাকা বেতনের অফার আসছে। তবে বড় বড় ওই সব পদে যোগ দিতে পারছি না বলে দুঃখ প্রকাশ করছি।
আমার ওইরকম উচ্চাকাঙ্খা নাই। ওই সব অফার ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ তা নাহলে সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারব না। সে জন্য ভেটেরিনারি একটি ফার্মে আগামীকাল কাজে যোগ দেব।
তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান আমাকে চাকরির অফার করেছে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দুটি বেসরকারি এয়ারলাইনস ও তিনটি প্রতিষ্ঠানে সিইও পদ ছাড়াও আরও ৩০টি প্রতিষ্ঠানে বড় বড় পদে চাকরির অফার পেয়েছি।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদকের সেই শরীফ কেমন আছে? এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপরই আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন শরীফ। ওই দিনই একের পর এক চাকরির অফার পান শরীফ। প্রায় ৩৫টি প্রতিষ্ঠান তাঁকে নিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারও পাঠিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে তিন বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন শরীফ উদ্দিন। ওই সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ছয় কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর পরই একই বছরের ১৬ জুন তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরে আট মাসের মাথায় চাকরি থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ নয় মাস চাকরি না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করেন শরীফ।
পরে এক মাস ধরে চট্টগ্রাম ষোলোশহর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভাইয়ের দোকানের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ফের আলোচনায় আসেন শরীফ উদ্দিন।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন