খুঁজুন
, ,

ভারী বর্ষণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মৃতের সংখ্যা শতাধিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 1 October, 2019, 2:25 pm
ভারী বর্ষণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মৃতের সংখ্যা শতাধিক

-ভারী-বর্ষণ-২

ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে ভারী গত এক সপ্তাহ ধরে চলা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা শতক ছাড়িয়েছে। দেশটির উত্তরপ্রদেশ ও বিহারসহ কয়েকটি রাজ্যে এ প্রবল বন্যায় ঘরছাড়া হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ফলে, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার জনজীবন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিরমুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ। প্রথম চারদিনেই ৮০ জনের মৃত্যু হয় খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী ৩ দিনে আরো ১৩ জনসহ প্রদেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের মুত্যুর খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।

এরপরই রয়েছে বিহার। রাজ্যটিতে ভারী বর্ষণে অসংখ্য ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। মারা গেছে অন্তত ৪২ জন। সবমিলে দেশটিতে সৃষ্ট এ বন্যায় ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি হিসেবমতে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত অন্তত ৯৩ জন বন্যা কবলিত হয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে বিহারে বন্যা সংশ্লিষ্ট কারণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।

অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। টানা এ বর্ষণে বেশিরভাগ এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের। ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। অনেকে ঝুঁকি নিয়েই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে রোগী ও স্বজনরা বেডগুলোতে উঠে বসে আছেন। তার ঠিক নিচেই পানি। দেখে মনে হচ্ছে সেগুলো যেন বিছানা নয়, ভেলা। বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে স্থানীয় লোকজনকে উদ্ধার করতে ৩২টি নৌকা নামিয়েছে উদ্ধারকারী দল।

বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিহারের রাজধানী পাটনায়ও। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল। এতে মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পাটনা শহরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর তিনটি দল কাজ করছে। চলমান এ অবস্থা আরো ২৪ ঘণ্টা স্থির থাকবে জানিয়ে দেশটির আবহাওয়া অফিস সতর্কতা জারি করেছে।

বন্যার পানিতে রাজপথ তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। গত তিন দিনে পাটনার বেশিরভাগ ট্রেনের সময়সূচি হয় পেছানো হয়েছে, নয় বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতালে পানি উঠে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী থেকে আরও ভারী’ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় উত্তর প্রদেশের আবহাওয়া অফিস পাটনা শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

এদিকে, বন্যার কবল থেকে বাদ যায়নি জন্মু-কাশ্মীর, উত্তরখাণ্ড ও মধ্যপ্রদেশ। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে শুক্রবার স্বাভাবিকের থেকে ১৭০০ শতাংশ বেশি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের পূর্বাঞ্চল।

এদিকে, টানা প্রবল বর্ষণের প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারে। বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। বন্যায় অনেক পেঁয়াজের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, বন্ধ করা হয়েছে পেঁয়াজ রপ্তানি। বন্যার ব্যাপক ক্ষতি থেকে বাঁচতে খুলে দেয়া হয়েছে ফারাক্কাবাঁধের সকল মুখ। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।