উন্নয়ন থমকে আছে ফিডার রোডে
পর্যটন স্পট সমূদ্র উপকূল
নক্সায় সীমাবদ্ধ হোটেল মোটেল
চট্টগ্রামের পর্যটন স্পট এখন সমুদ্র উপকূল পতেঙ্গা। মূল সড়কের উন্নয়ন হলেও থমকে আছে ফিডার রোডগুলো। নক্সায় থাকা হোটেল মোটেল রেস্তোরা যেন স্বপ্নে বিলীন। চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের প্রকল্প থমকে আছে পতেঙ্গায়। প্রবেশদ্বার ফৌজদারহাট উপকূলবতীর্ বিশালতা হয়ে গড়ে উঠার নক্সা ছিল। আন্তজার্তিক মানের এ পর্যটন স্পটের। যা পতেঙ্গা থেকে প্রায় ১৭ কিমি. বিস্তৃতি পেত। তবে এরমধ্যে ৫ কিমি এলাকায় পাঁচ তারকা হোটেলসহ ব্যবসার অপার সম্ভাবনা এখন আলোর মুখ দেখছে না। পাঁচ কিলোমিটার ব্যাপী বিশ্বমানের এই পর্যটন কেন্দ্র চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের (চউক) পরিচালনায় তৈরী এ পর্যটন কেন্দ্র খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।
নগরীর সমূদ্র উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার বেড়ি বাঁধ এখন পুরোটাই সড়ক। একদিকে যেমন বেড়ীবাঁধ হিসেবে কাজ করছে অন্যদিকে প্রায় ৮৪ ফুট প্রশস্থ এই সড়কের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠার সুযোগ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা । উল্লেখ্য, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলিামিটার চিটাগাং আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে সেই ২০১১ সালে।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) চট্টগ্রাম শহরের অপ্রতুল অবকাঠামোগত অসুবিধা চিহ্নিতকরণে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। ওই সমীক্ষায় ট্রাংক রোড নেটওয়ার্কের আওতায় দুটি রিং রোড ও ৬টি রেডিয়াল রোড নির্মাণের প্রস্তাব করে জেবিআইসি।
এ প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি রিং রোডটি নির্মানের গুরুত্ব দেয়া হয়। চউকের মাস্টারপ্ল্যানে এ রিং রোড প্রকল্পটি থাকলেও তা নির্মাণে স্থানীয়রা নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
তবে ২০১১ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে ২০১৭ সালে শেষ করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে পিছিয়ে ২০২২ সালও শেষ হয়েছে।
এ ব্যাপারে চউক এক প্রকৌমলী বলেন, আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৭ সালেই। কিন্তু চউক চেয়াম্যান আব্দুচ সালাম যাওয়ার পর থমকে গেছে পরিকল্পনা।
পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এই সড়কের পাশে ৫ কিলোমিটার জায়গায় বিশ্বমানের পর্যন কেন্দ্র তৈরী করার কথা এখন গল্পের মতোই।
যেহেতু এ সড়ক চট্টগ্রাম নগরবাসির জন্য খুবই প্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে চউক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনায় দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বঙ্গবন্ধু টানেলের দিকে।
বর্তমানে এই সড়কটিকে ৩০ ফুট উঁচু করতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। মাটি ভরাটের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে কর্ণফুলীর মোহনায় টানেলের সঙ্গে এই রাস্তার সংযোগে বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে।

এই সড়কটি ১৭ কিলোমিটার হলেও এরমধ্যে ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার কোস্টাল রোড এবং ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ফিডার রোড রয়েছে।
১নং ফিডার রোড পতেঙ্গা থেকে কাঠগড় পর্যন্ত, ২নং ফিডার রোড বড়পুল থেকে পোর্ট কানেটিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ৩ নং ফিডার রোডটি সাগরিকা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পাশে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও কাজের কোন অগ্রগতি নেই।
এরমধ্যে সাগরিকা জহুর আহমদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফিডার রোড-৩ এর আওতায় সড়কের দৈর্ঘ্য হচ্ছে শূন্য দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। যার প্রস্থ ১৫ দশমিক ৬০ মিটার।
ওই এলাকা ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ একর। এই ফিডারের আওতায় শূন্য দশমিক ৪৯৫ পয়েন্টে একটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পযার্য়ে।
উল্লেখ্য, ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ রিং রোডের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কখা থাকলেও তা পরিবর্তন হচে্ দফায় দফায়। এরমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা ও জাইকার অথার্য়নে ৭০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা শেষ হয়েছে অনেক আগেই।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন