খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে ইউএসটিসির অপতৎপরতা

হাজারো গণহত্যার কবরের উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

ভূমি উদ্ধারে সরকারী উদ্যোগ নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 11 December, 2022, 6:14 pm
হাজারো গণহত্যার কবরের উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

হাজারো গণহত্যার কবরের উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রামে হাজারো গণহত্যার কালের স্বাক্ষীর উপর গড়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার অপচেষ্টা থমকে আছে। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) কতৃর্পক্ষ হাজারো শহীদের রক্তে মেশানো মাটির উপর গড়ে তুলেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন(ইবা)। উল্লেখ্য, জিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (জিবা) এর নাম পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে বিএনপি সরকারের ক্ষমতার পর। এখনও অর্ধ নির্মিত অবস্থায় ফেলে রাখা হযেছে এই ইবা ভবন। অভিযোগ রয়েছে বধ্যভূমির দুই একর জায়গার দুই শতকও নেই বধ্যভূমির বাউন্ডারীতে। এদিকে, একটি প্রভাবশালী মহল বধ্যভূমির পশ্চিম অংশে একটি রাস্তা তৈরী করেছে গত রমজান মাসে।

চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ এ বধ্যভূমি ফয়স’ লেক সংলগ্ন কাঠাল বাগান বধ্যভূমি। জিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (জিবা) এর বহুতল ভবন বাস্তবায়ন করতে বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলেই এ বধ্যভূমির জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। চট্টগ্রামে এমন ভূমি উদ্ধারে কোন সরকারী উদ্যোগ নেই। সেইসঙ্গে রয়েছে জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসনের আর্থিক ও দেশবিরোধী দূর্বলতা।

পাকিদের হত্যাযজ্ঞের করুণ কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে ঐ সময়কার প্রত্যক্ষদশীর্ একেএম আফসার উদ্দিন ‘উন্মেষ’ নামক একটি ছোট্ট সংকলনে বলেছেন স্মৃতির কথা। ছোট্ট এ সংকলনটি মোঃ শহীদুল ইসলাম সম্পাদিত ও পাহাড়তলী শাখা থেকে সূর্যমুখী কাফেলা কর্তৃক নিবেদিত এ উন্মেষ প্রবন্ধটি। আফসার উদ্দিন তার লেখায় তুলে ধরেছেন—একাত্তর সালের ১০ নবেম্বর সেদিন ছিল ২০ রমজান। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজের পর আকবর শাহ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হতেই পাক হানাদাররা ঐ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিনসহ বেশ কয়েক মুসল্লীকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নিজেকে আড়াল করে আরও ৪ জনসহ ফয়স সংলগ্ন কাঠাল বাগানের বধ্যভূমির কাছে গিয়েছিলেন। হত্যাযজ্ঞের নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে তার লেখায়। ঐ দিন পাক হানাদাররা শুধু মসজিদ থেকেই নয়, বাসা বাড়ি থেকে ঘুমন্ত তরুণ যুবকদের টেনে হ্যাচড়ে যেমন নিয়ে যায় জল্লাদখানায় তেমনি পাহাড়তলী স্টেশনে আসা ট্রেন থেকে অনেক যাত্রীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। ফলে জল্লাদখানার পাশ্ববতীর্ সরু খালটির পানি রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

কয়েক শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ বধ্যভূমি হচ্ছে পাহাড়তলীর ফয়স লেক সংলগ্ন কাঠাল বাগান বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালের ১০ নবেম্বর এ বধ্যভূমিতে পাক পশুদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে এলাকাবাসি হারিয়েছে ময়না, মানিক, সফিসহ শত শত তরুণ, যুবক ও প্রবীণদের। আজও মাটি খুড়লে পাওয়া যাবে শহীদদের মাথার খুলি আর হাড়গোড়। নিরবে কেঁদে যাচ্ছে এসব আত্মত্যাগী প্রাণ। বিধস্ত বাংলার ৩০ লাখ শহীদের মাঝে দেশব্যাপী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পাশে দ্বীপশিখা হয়ে জ্বলবে এ এলাকার যুদ্ধাহত শহীদরাও। কিন্তু ভূমিদস্যুদের থাবার কারণে ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে এ বিশাল বধ্যভূমি। প্রায় ২ একর জায়গার বধ্যভূমি শোষকদের দখলে চলে গেছে বেশিরভাগই। সামান্য একটু জায়গায় প্রজন্ম ৭১ এর অনুপ্রেরণায় সরকারি উদ্যোগে এ বধ্যভূমিতে ছোট্ট একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়। কিন্তু বৃহদায়তন অট্টালিকার কারণে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত তৃতীয় প্রজন্মের জন্য গড়ে তোলা স্মৃতিস্তম্ভ। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে সেই সুবিশাল খালটি। যে খালের মধ্যে পাকিরা বাঙালিদের হত্যার পর ঐ খালের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছিল।

এদিকে, ৯০-এর দশকে এসে ঐ এলাকার যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানীদের আবাসস্থল পাঞ্জাবী লেনের নাম মুছে দিয়ে শহীদ লেন নামকরণ করা হলেও শহীদদের স্মৃতিফলক গড়ে তোলা পুলিশ বিট সংলগ্ন শহীদ মিনার থেকে নামফলক উপড়ে ফেলেছে একটি চক্র। শহীদ মিনার হেসেবে গড়ে তোলা স্তম্ভগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে প্রতিরাতেই জমে উঠে মাদকসেবীদের জমজমাট আড্ডা। সংরক্ষণের কোন পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। ফলে শহীদদের স্মৃতি ধূলিসাৎ হচ্ছে প্রতি কদমে কদমে।

২৪ঘণ্টা/জেআর

Feb2

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 12:55 am
মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানান।

 

এর আগে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও একই ফ্লাইটে এসেছেন।

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী চীনের পথে যাত্রা করেন।

২১ জুন মালয়েশিয়া পৌঁছান তারেক রহমান। এ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরে সীমিত পরিসরে আলোচনা হয়। এতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। পরবর্তীতে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 2:08 pm
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন। এ কারণে আমাদের একটা বড় সুযোগ রয়েছে। একদিকে, তারা যেমন সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও চীনে রপ্তানি হয়। তবে তুলনামূলকভাবে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে হোটেল ‘দাইওইউতাই’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারি কিনা, ডাইভার্সিফাই কীভাবে করতে পারি? বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে আমাদের ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট চীনে রয়েছে। এ থেকে আরো কীভাবে সুবিধা পাওয়া যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে চীনের বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারই আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করা, তার উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিজাইন করা, প্ল্যানিং, এক্সিকিউশন সব জায়গাতে ধারাবাহিকভাবে চীন সরকার যুক্ত হবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা খুব প্রয়োজন। এত বড় একটি প্রজেক্টে সেই জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে চীন কাজ করতে চায় এবং টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ড্রেনেজ সিস্টেমে যে বিশেষজ্ঞ যেখানে রয়েছেন সেটি বাংলাদেশের কাজে লাগানো সম্ভব। দুই দেশের সরকার প্রধানই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় চীনের যে মেগা সাইজ মার্কেট রয়েছে তাতে অবশ্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রোডাক্টের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই আমরা যদি আমাদের সাপ্লাই চেইনটাকে সেভাবে উন্নত করতে পারি, চীনের যে ডমেস্টিক ডিমান্ড আছে, সেটার সাথে এলাইন করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।’

‘চীনের মার্কেটে আমরা অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে আজ বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল পাঁচ হাজার রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই ধরনের ফ্রুট, ভেজিটেবল, অ্যাগ্রোভেইড প্রোডাক্ট, ফিশারিজ অনেক ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন করতে পারি।’

একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, হাইটেক বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে যেখানে বাংলাদেশে একদিকে যেমন চীনের বিনিয়োগ করা সম্ভব। ঠিক একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবো যেখানে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বেনিফিট পাওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশও রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে চীনও তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রফিট পাবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় এবং অবশ্যই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রাইভেট সেক্টরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ডিজিটাল ইকোনমি, আইটি, অ্যাগ্রিকালচার, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘চীনের কিছু ব্যাংক আগামীতে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমাদের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমটাকে আমরা যেভাবে রিকভারি করছি এবং সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। চীন মনে করছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।’

‘চীনেরও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিশ্বের উন্নত দেশে অফিস রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অফিস করবে। এ বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আমরা সবসময় চাই পিপলস টু পিপলস কানেক্টিভিটি যেন বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। যেমন এডুকেশনের ক্ষেত্রে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা এটা শুরু করতে চাচ্ছি এবং এখানে বড় ধরনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশনে চীন সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে তারা হাসপাতাল নিয়ে কাজ করছে। চীনের বিনিয়োগকৃত হাসপাতালের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে চান। চীনে বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা আরো সহজ করা, হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটি কীভাবে বাংলাদেশিদের জন্য বাড়ানো যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন সহজে চীনা ভিসা পায় এবং স্কলারশিপ বাড়ানোর সুযোগ পায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 1:50 pm
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের শেষ দিন চীনের তিন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে নিজ নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের হোটেল দিওয়াউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অন্যতম উপদেষ্টা বলেন, ১৭ সমঝোতার মধ্যে ১৩টি হয়েছে দুই দেশের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি, ৩টি হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিটার সঙ্গে। বাকি একটি সমঝোতা হয়েছে সরকার দল বিএনপি ও চীনের সরকারি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রত্যেকটি বৈঠকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। একইসঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান।