ডিসি অফিসের অপতৎপরতা
পরিত্যক্ত ভূমি কুক্ষিগতে মরিয়া ভূমিদস্যু
পূবালী ব্যাংকে কিভাবে বন্ধক
পরিত্যক্ত ভূমি কুক্ষিগতে মরিয়া ভূমিদস্যু
চট্টগ্রামে গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত ভূমি কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এতে প্রভাব খাটাচ্ছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুজ্জামান। আরো অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের চাপে পড়ে গেজেটভুক্ত এক একর ২০ শতক পরিত্যক্ত ভূমির খাজনা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কাট্টলী সার্কেল অফিস। সোমবার দুপুরে কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি, কাুননগো, ভূমি সহকারী কর্মকতার্ ও তহশিলদারসহ সাত সদস্যের একটি লট-৯ পাহাড়তলী মৌজায় থাকা ভূমিদস্যুদের অবৈধ কাঁচা পাকা ঘর পরিদর্শন করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি কিভাবে পাহাড়তলীস্থ পূবালী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখলেন হাজী সলিমউল্যা। বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত সম্পত্তি এসব ভূমি দস্যুদের ব্যক্তি মালিকানায় কিভাবে খতিয়ানভূক্ত হল। এদিকে, সরকারী এ কর্মকতার্র অবৈধ দখলে থাকা ভূমির খতিয়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তৎকালীন এসি ল্যান্ড (চাঁন্দগাঁও) মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। অভিযোগ রয়েছে, এই ফাইলটিও গায়েব করেছে ভূমিদস্যু চক্রটি।
জেলা প্রশাসনের দফতর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) কে মুঠো ফোনে সরকারী জায়গা কুক্ষিগত করতে চাপাচাপি করেছেন। এর আগে গত অক্টোবর মাসে স্বশরীরে এসে সরকারী এই কর্মকর্তা কাট্টলীর এসি ল্যান্ড মো. উমর ফারুককে চাপাচাপি করেছেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিবিধ মামলা(নং-৯৪/২০০০-২০০১) পিও-১৬/৭২ রায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর চট্টগ্রাম কে এম বেনজামিন রিয়াজী ২০০১ সালের ২ সেপ্টেম্বর ১.১২ একর জায়গা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। মূলতঃ ১ একর ১২শতক ভুমি দলিল নং ৪৩৩৫ তারিখ: ১২/১২/১৯৫০ অনুযায়ী অ-বাঙ্গালী হাসিনা ইব্রাহিম ও আনোয়ারুল হক। যা ১৯৬৪-৬৫ সালে পিএস রেকর্ডভুক্ত ছিল । আর এস ৫৫ দাগের আওতায় নামজারী মোকাদ্দমা ২১৯ অনুযায়ী পিএস ২৮ নং খতিয়ান তৈরী হয়েছিল ওই অবাঙ্গালীর নামে। এই খতিয়ানের আওতায় পিএস ৬০ ও ৬২ দাগের অধীনে বিএস খতিয়ান ৮৫ ও ৯৫ এর অনুরূপ বিএস দাগ নং ৭০,৭৩,৭৪,৭৫,৭৬ ও ৭৯। রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের পিও ১৬/৭২ এর আওতায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত এর ৯৬ এবং ৯৭ নং ক্রমিকে এসব জমি পরিত্যক্ত হিসেবে তালিকাভুৃক্ত আছে। এদিকে, উচ্চ আদালতের তথ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের এই ভূমি পরিত্যক্ত ঘোষণাকে স্থগিত করতে ভূমিদস্যু নুরুজ্জামানসহ আটজন ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রীট পিটিশন(৬৫৯০/২০০১) দায়ের করেন।
এদিকে, ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারী চাঁন্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার(ভূমি) স্মারক নং ১৮১/কাট্টলী তাং-২৪/১২/২০০৮ ইং ভূমি সহকারী কর্মকতার্র প্রতিবেদনে পিএস ৭১ দাগে বিএস ৭১, ৭৬,৭৮,৭৯ ও ৮২ দাগ এবং বিএস ৭২,৭৩,৭৪ ও ৭৫ দাগের পিএস দাগ নং ৭৩। ১৯৮৮ সালের ২৬ ডিসেম্বরের অতিরিক্ত গেজেট অনুযায়ী উল্লেখিত বিএস দাগদ্বয় এপি তালিকাভুক্ত আছে। রেজিস্টার ০২ পযার্লোচনায় বিএস ৮৫, ৮৬,৯৫ ও ১১১ নং খতিয়ানে বাংলা ১৪০০ সাল পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হলেও এপি গেজেটের আওতায় উক্ত ভূমি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর খাজনা আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের ২২ জুন চাঁন্দগাও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে উল্লে্যখ করা হয়েছে এসব ভূমি পরিত্যক্ত। এমনকি এই সহকারী কমিশনার ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারী এক সিদ্ধান্তে সরকারী অবৈধ দখলদাদের বিএস খতিয়ান বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যার স্মারক নং-৩-১/০৮-১৬/২০০৯/চাঁন্দ, ভূমি, তারিখ-১৪/১/২০০৯।
এদিকে, আর এস ৫৬ দাগে পিএস রেকর্ডিয় মালিক সাহিদ হোসেন রেজভী থেকে দলিল গ্রহিতা ছৈয়দর রহমান ৩৮ শতক জায়গা ক্রয় করেছেন ১৯৭০ সালের ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু কোন ধরনের বন্টননামা বা বায়া দলিল নেই নুরুজ্জামান গংদের। অবাঙ্গালী আনোয়ারুল হক আরএস ৫৫ দাগে ১ একর ১২ শতক জায়গার মালিক ছিল। মাহবুবুল আলম ও আতীয়া চৌধুরী ক্রয়সূত্রে মাত্র ১১ শতকের মালিক হলেও মূলত তারাও ১ একর ১২ শতক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
এদিকে, পরবতীর্তে ২০১৬ সালে সরকারী কর্মকতার্র ভাই মো. নুরুজ্জামান পরিত্যক্ত এ ভূমির উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রীট পিটিশন(নং-১৪৯৪২/২০১৬) দায়ের করেন। এতে হাইকোর্ট আইনানুগভাবে আবেদনটি নিস্পত্তির নির্দেশনা প্রদান করেন। আবারও ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, পিতা মৃত ছৈয়দুর রহমান ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্মারক নং ৩১.০০.০০০.০৪৫.৫৫.০৩১.১৯-৪৯৮ অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর আরডিসি মু.মাহমুদ উল্ল্যাহ মারুফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাট্টলী সার্কেলকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির বিষয়ে মতামতের জন্য চিঠি প্রেরণ করেন।
অপরদিকে, দুদকের ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারীর এক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছিল। দুদকের মো. জহিরুল ইসলাম, পরিচালক, দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। যা রাজস্ব শাখার জনাব রায়হান গ্রহণ করেছেন।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন