মীরসরাই-বারৈয়ারহাট ১০কিমি. বেহাল দশা
মহাসড়ক দেবে যাচ্ছে হেভিওয়েটের চাপে
যে কোন মুহুর্তেই বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে
মহাসড়ক দেবে যাচ্ছে হেভিওয়েটের চাপে
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহা সড়কে হেভিওয়েট গাড়ির অভাব নেই। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেরুলেই এসব গাড়ির দখলে মহাসড়ক। ওভারলোডের কারণে দেবে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেকাংশ। নিজামপুর কলেজ ও মীরসরাই এলাকাসহ বিভিন্ন জংশন এলাকাগুলোতে আরসিসি ঢালাইয়ে ফাঁটল সৃষ্টি হয়েছে। জংশন রাস্তার আপ ও ডাউন দুদিকের আইল্যান্ডের পার্শ্ববতীর্ প্রায় ছয় ফুটেরও বেশী দেবে গেছে। বড় দারোগার হাট হেভিওয়েট গাড়ি পরিমাপের স্কেলটিও যেন ওজন ক্ষমতার বাহিরে।
অভিযোগ রয়েছে, সওজের প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে বৃহদায়তন কোম্পানিগুলো নিজেদের সুবিধা মত স্থানে সরকারি অর্থে সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে নিয়েছে। শিল্প কারখানা এলাকায় বিশেষ করে সিটি গেট থেকে বাড়বকুন্ড পর্যন্ত বেশিরভাগ শিল্প মালিকরা এ ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শুধু মূল সড়কের ডিভাইডারে ট্রাক ও লরি পাসিং আউট করার জায়গা করে নিয়েছে। ফলে দূর পাল্লার যানবাহনগুলো এসব স্থানে এনে ট্রেইলর ও কাভার্ড ভ্যানের ব্রেক ডাউনে পড়তে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এসব এলাকায় সার্বক্ষণিক যানবাহন লেগেই থাকে।
প্রশ্ন্ উঠেছে, ২০১৭ সালে চার লেন সড়কের উদ্বোধনের পর থেকেই হেভিওয়েট গাড়ির কারণে মহাসড়কের ভারসাম্য ঠিক রাখা যাচ্ছে না। তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে যাওয়ার ঘটনা ও আরসিসি ঢালাই ফাটলের ঘটনায় বার বার মেরামত করা হচ্ছে চারলেনের এ সড়কটি। অনেকটা জুবুথুবু অবস্থা সড়কের। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ৯৩ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ স্থানেই মেরামত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে এসব এলাকায় মূল সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। তবে ডিভাইডারসহ আনুষাঙ্গিক কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৭ সালে এ সড়কের পরিসমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, তিন বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তথা সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড, গ্যানন ডানকার্লি এন্ড কোম্পানি লিমিটেড ও শিখো পিবিএল জেভি লিমিটেড ফোন লেন সড়কের নির্মাণ কাজ করছে। ১৩ ধাপে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ সড়কের নির্মাণ চুক্তি হলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। বরং ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেকে সভায় ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্পের জন্য ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ব্যয়সহ এ সড়কের নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে সবকটি প্যাকেজেই কোন না কোন কারণে শেষ করতে দেরী হয়েছে। এক কথায় কোন প্যাকেজই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সঠিক সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যার খেসারত দিতে হচ্ছে ছোট পরিবহন মালিকদের।
এ ব্যাপারে ফেণী সার্কেলের সওজ’র এক সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সময়ের কাগজকে বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সড়কের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রকৌশলীদের তদারকি করছেন না। ফলে বিভিন্ন স্থানে আরসিসি ঢালাই ফেটে যাচ্ছে, তেমনি সড়কও দেবে যাচ্ছে।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন