চার সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় শ্যামলা বেগম
চার সন্তান নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শ্যামলা বেগমের। স্বামী হেলাল উদ্দিন নানান রোগে আক্রান্ত। তাই প্রতিদিন কাজ করতে পারেন না, আর কাজ না করলে পেটে ভাত জুটে না। কখনও কখনও না খেয়ে দিন পার করতে হয় তাদের। সন্তানদের পড়াশোনার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলেন “হেডে ভাত জুটে না হোয়া লেকা কেন্নে করইরবো” (পেটে ভাত জুটে না পড়াশোনা কিভাবে করবে)।
থাকার নির্দিষ্ট কোন ঘর নেই বর্তমানে পুকুর পাড়ে টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ছোট কুটিরে কোনভাবে জীবনযাপন করছেন তারা। বড়ছেলে সোহেল (৯), মেয়ে সুফিয়া (৭), মেঝ ছেলে রুবেল (৫) এবং ছোট ছেলে সুমন (৩) বছর হলেও এখনও শিক্ষার আলো দেখেনি কেউ। এভাবেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যদিনে দিন পার করছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরশরৎ এলাকার হেলাল উদ্দিন ও শ্যামলা বেগম দম্পতি।
জানা গেছে, উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ইকোনমিক জোন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটা ঘরে বসবাস করতেন এই দম্পতি। কিন্তু ২০১৭ সালে ইকোনমিক জোনের স্থাপনার কাজ শুরুর দিকে বর্তমান সিপির মোড় থেকে তিনশ ফিট স্থান পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করার সময় তাদের ঘর উচ্ছেদ করে ‘বেজা’। সেসময় তাদের অন্যস্থানে ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত ঘর পায়নি এই দম্পতি।
শ্যামলা বেগম জানান, আমার স্বামী হার্ট, কিডনি জটিলতা সহ নানান রোগে আক্রান্ত। যখন অসুস্থ বেশি থাকেন তখন তিন-চার দিনও আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। চার সন্তান নিয়ে খুব সমস্যায় দিন কাটছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন অনুদান বা সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। বৃষ্টির মৌসুমে ঘরে পানি উঠে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ছালেক জানান, হেলাল অসুস্থ হওয়াতে পরিবারটা অসহায় হয়ে পড়েছে। গতকিছুদিন আগে যখন হেলাল রিকশা চালাতো তখন রিকশার একটা ব্যাটারি নিয়ে দিয়েছিলাম। পরিবারটির সহযোগিতার বিষয়ে চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলবো।
চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা জানান, পরিবারটির বিষয়ে অবগত ছিলাম না। সরকারিভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন জানান, পরিবারটিকে সহযোগিতার বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর সাথে পরামর্শ করবো এবং একটি সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দিবো।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন