খুঁজুন
, ,

চার সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় শ্যামলা বেগম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 4 January, 2023, 7:31 pm
চার সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় শ্যামলা বেগম

চার সন্তান নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শ্যামলা বেগমের। স্বামী হেলাল উদ্দিন নানান রোগে আক্রান্ত। তাই প্রতিদিন কাজ করতে পারেন না, আর কাজ না করলে পেটে ভাত জুটে না। কখনও কখনও না খেয়ে দিন পার করতে হয় তাদের। সন্তানদের পড়াশোনার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলেন “হেডে ভাত জুটে না হোয়া লেকা কেন্নে করইরবো” (পেটে ভাত জুটে না পড়াশোনা কিভাবে করবে)।

থাকার নির্দিষ্ট কোন ঘর নেই বর্তমানে পুকুর পাড়ে টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ছোট কুটিরে কোনভাবে জীবনযাপন করছেন তারা। বড়ছেলে সোহেল (৯), মেয়ে সুফিয়া (৭), মেঝ ছেলে রুবেল (৫) এবং ছোট ছেলে সুমন (৩) বছর হলেও এখনও শিক্ষার আলো দেখেনি কেউ। এভাবেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যদিনে দিন পার করছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড চরশরৎ এলাকার হেলাল উদ্দিন ও শ্যামলা বেগম দম্পতি।

জানা গেছে, উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ইকোনমিক জোন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটা ঘরে বসবাস করতেন এই দম্পতি। কিন্তু ২০১৭ সালে ইকোনমিক জোনের স্থাপনার কাজ শুরুর দিকে বর্তমান সিপির মোড় থেকে তিনশ ফিট স্থান পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করার সময় তাদের ঘর উচ্ছেদ করে ‘বেজা’। সেসময় তাদের অন্যস্থানে ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত ঘর পায়নি এই দম্পতি।

শ্যামলা বেগম জানান, আমার স্বামী হার্ট, কিডনি জটিলতা সহ নানান রোগে আক্রান্ত। যখন অসুস্থ বেশি থাকেন তখন তিন-চার দিনও আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। চার সন্তান নিয়ে খুব সমস্যায় দিন কাটছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন অনুদান বা সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। বৃষ্টির মৌসুমে ঘরে পানি উঠে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ছালেক জানান, হেলাল অসুস্থ হওয়াতে পরিবারটা অসহায় হয়ে পড়েছে। গতকিছুদিন আগে যখন হেলাল রিকশা চালাতো তখন রিকশার একটা ব্যাটারি নিয়ে দিয়েছিলাম। পরিবারটির সহযোগিতার বিষয়ে চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলবো।

চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা জানান, পরিবারটির বিষয়ে অবগত ছিলাম না। সরকারিভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন জানান, পরিবারটিকে সহযোগিতার বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর সাথে পরামর্শ করবো এবং একটি সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দিবো।

২৪ঘণ্টা.জেআর

Feb2

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 12:36 pm
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ চাচ্ছে না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন ভোট কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলার কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সে সব জায়গা আগের মতো থেকে গেল।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আশা ছিল, এতগুলা মানুষের ত্যাগ এবং জীবনের বিনিময়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি, এখন বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যেই এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদের সংস্কারের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জনগণের ভোট পেল…একটা ভোটের মূল্যায়ন হলো আরেকটা ভোট ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ দুইটার কোনোটাই অগুরুত্বপূর্ণ না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই মতকে অগ্রাহ্য করেছে। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে গেলাম। কোনো পরিবর্তন আসলো না। হয়তো কেউ কেউ বলবেন যে, চার মাসের সরকার…আমরা তো অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু না, ফাউন্ডেশনের ওপরে একটা দেশ এবং রাষ্ট্র চলে। আমরা সবাই জানি একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেজ— দিনটি কেমন যাবে সকালবেলাই তা বলে দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল-বিরোধী দল সকলেই তো নির্বাচনের আগে বলেছে যে, আমরা গণভোট মানি। আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটকে অগ্রাহ্য করা হলো কেন? আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার গণভোট বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করেছি। এ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা এজন্য জনগণের পার্লামেন্টে বিষয়টা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি। এটা কোনো দলের জন্য, কোনো জোটের জন্য নয়, এটা জনগণের দাবি। এই রায় দিয়েছে জনগণ।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আমরা কার্যত দেখতে পাই— যাদের আমরা শিক্ষিত বলে মনে করি, উচ্চশিক্ষিত বলে মনে করি, তাদের একটা বিশাল অংশ, গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমাজের আমানতের খেয়ানত করে চলছে। তারা বৈধতার সীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ পথে মানুষের সম্পদ, ইজ্জত গ্রাস করে গেছে। যদি তারা সুশিক্ষিত হতেন তাহলে মানুষের ওপরে অবিচার তারা করতেন না। সমাজ এমনি এমনি চলে না। সমাজ চলার জন্য একটা সামাজিক কাঠামো লাগে। এই কাঠামোর মূল দায়িত্ব যারা পালন করেন বা শাসন ব্যবস্থা যাদের হাতে পরিচালিত হয়, তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে একটা সমাজ কতটুকু ভালো থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীন হয়েছে। ৪৭-এ কবার ৭১-এ আরেক বার। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কারা এখানে মানুষের প্রত্যাশার পারদ ধ্বংস করে দিল? সাধারণ জনগণ নয়, বরং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ছিল, তাদের ব্যর্থতার কারণে আজও আমাদের দেশে কোনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষের জীবনে শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। যুবকদের হাতে কাজ নেই। মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। অহরহ আমরা সে ঘটনাগুলা দেখছি।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 12:23 pm
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়।

তার আগে চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোজ’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে শ্রদ্ধার সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন– তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

ড্র করে ডাচদের সঙ্গে নকআউটে জাপান-সুইডেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 9:51 am
ড্র করে ডাচদের সঙ্গে নকআউটে জাপান-সুইডেন

আগের দিন স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিল সি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল। আগামী ২৯ জুন তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, সেটা জানার অপেক্ষায় ছিল তারা। আজ জাপান-সুইডেন ম্যাচ ড্র হওয়ার পর জানা গেল কাদের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা। জাপানের সঙ্গে শেষ ৩২ এ লড়বে ব্রাজিল। আর নেদারল্যান্ডস লড়বে সি গ্রুপের রানার্সআপ মরক্কোর সঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে সুইডেন ও জাপানের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। তাতে দুই দলই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। নেদারল্যান্ডস তিউনিসিয়াকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। এফ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ডাচরা শেষ ৩২ এ। আর তাদের পেছনে থেকে গ্রুপ পর্ব পার করল জাপান। সুইডেন সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউটে।

ডাইজেন মায়েদা জাপানকে লিড এনে দেন। ছয় মিনিট পর অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে সমতা ফেরায় সুইডেন। ৬২তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ডান কোণা থেকে বাঁ পায়ের দারুণ স্ট্রাইকে জাল কাঁপান এলাঙ্গা। এই বছরের টুর্নামেন্টে এটি তার দ্বিতীয় গোল। নিউক্যাসেলের হয়ে ৪৯ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল করেছিলেন তিনি, কিন্তু ৩২ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে তার গোল ছিল শূন্য।

এর ছয় মিনিট আগে রিতসু দোয়ানের পাস পেনাল্টি অঞ্চলে বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণ করেন মায়েদা। তারপর ডান পায়ের শটে সহজেই জ্যাকব উইডেল জেত্তারস্ট্রোমকে পরাস্ত করেন।

এটি ছিল টুর্নামেন্টে জাপানের সপ্তম গোল, এক বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ। রাশিয়ায় আট বছর আগে শেষ ষোলোতে ওঠার পথে জাপানের ছয় গোলের রেকর্ড ভাঙল তারা।

এনিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটে উঠল জাপান। সব মিলিয়ে পঞ্চমবার। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে প্রথমবার তারা শেষ ষোলো খেলেছিল।

১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা সুইডেন এনিয়ে টানা তৃতীয়বার নকআউট রাউন্ডে। প্রথম আসরে তারা এই যুক্তরাষ্ট্রেই সেমিফাইনাল খেলেছিল।

ইনজুরি টাইমে এলাঙ্গা আরেকটি সুযোগ পান। তার ডান পায়ের প্রচেষ্টা ডাইভ করে ঠেকান গোলকিপার জিওন সুজুকি। পরের কর্নার থেকে আলেক্সান্ডার আইজাকের হেড বিপদমুক্ত করেন সুজুকি। তাতে সুইডেনের শেষ গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।