রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ
রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ
শ্রমিক, মজুর সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ধান আবাদে কৃষকরা লাভবান হতে পারছিলেন না, তখন পেকয়া উপজেলায় কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করে লাভবান হচ্ছেন। এই যন্ত্রের সাহায্য সমগভীরতায়, সম দূরত্বে এবং অল্প শ্রমে কৃষকরা ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগবে, খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।
আজ ৮ জানুয়ারি (রোববার) কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মহুরি পাড়া এলাকার সকালে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ পদ্ধতি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মগনামা মহুরি পাড়া এলাকার একজন কৃষক বলেন, আগে ১ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করতে ৪ জন শ্রমিক লাগতো, ৩ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপন করতে তিন দিন লেগে যেতো, এখন রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে মাত্র তিন ঘন্টায় তিন বিঘা চারা রোপন করতে পারছি।
মগনামা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাজেম উদ্দিন নাজেম বলেন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যান্ত্রিকীকরণ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ করার কোনো ধারণা ছিল না। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ও সহায়তায় আমি এ বছর প্রথমবারের মত ২ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করছি।
বীজতলায় যে ধানের চারা দেওয়া হয়, চারা তোলার সময় ধান গাছের চারায় আঘাত লাগে। ওই চারাগাছ কিছু নষ্ট হয় সব বাঁচে না, এতে ফলনও কম হয়। মেশিনের সাহায্যে একটি চারা নষ্ট হয় না, রাইস প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে চারা লাগানোর ফলে মেশিনের সাহায্যে গুটি ইউরিয়া সার ব্যবহার করা যাবে।
তিনি আরো জানান, দুই বিঘা জমিতে শ্রমিক দিয়ে ধানের চারা রোপন করতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হতো। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে মাত্র ১৬০০ টাকা খরচ হয়েছে। শুধুমাত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের তেল, চালকের মজুরি ও মেশিন আনা—নেওয়ার খরচ আমাদের দিতে হয়। মেশিনের ভাড়া বাবদ কোন খরচ দিতে হয় না।
কৃষক হামিদ বলেন, কৃষি কাজে এখন ঠিক মতো শ্রমিক পাওয়া যায়না। কৃষি যান্ত্রীকরণের আওতায় আমরা উপজেলা থেকে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি চাষ ও চারা রোপণ কিভাবে করা যায় তার ধারণা পাচ্ছি। এতে খরচ ও সময় বাঁচে। কৃষিতে আমরা লাভবান ও হচ্ছি।
উপজেলার মহুরি পাড়া গ্রামের কৃষক খালেদ বিন ছামদ বলেন, সরকারি একটি কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার একটি মেশিন আমি পেয়েছি। এ মেশিনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ধানের চারা রোপন করছেন। তাদের মেশিন ভাড়া দিতে হয় না। শুধুমাত্র তেল ও মেশিন চালকের খরচ দিয়েই তারা ধানের চারা রোপন করতে পারছেন। এতে কৃষকরা আর্থিক আশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের সমস্যা সমাধান হচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন কৃমার রায় বলেন, রাইস প্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টার মধ্যে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব। সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে এক বিঘা জমিতে ধান গাছের চারা রোপণ করতে কমপক্ষে ৪/৫ জন শ্রমিকের দরকার হতো। আর সময় লাগে সারাদিন। কৃষকের মজুরি গুনতে হতো বেশি, আবার সময়ও বেশি লাগতো। সেখানে সময় বাঁচিয়ে অল্প খরচে এই পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে কম খরচে ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ধানের আবাদে খরচ বাড়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হতে পারছিলেন না। শ্রমিক সংকট, মজুরি বেশি ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ধান আবাদে যেন কৃষকরা উৎসাহ হারিয়ে না ফেলেন সেজন্য বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি সেক্টর যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের ধানের চারা রোপনের জন্য রাইস প্লান্টার যন্ত্র ও ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনসহ কৃষির আধুনিক কৃষি যন্ত্র সরবরাহ করছেন। একটি রাইস প্লান্টার মেশিন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত জমির ধান রোপন করতে পারে।
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনে ধান রোপনের ফলে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমবে। কৃষিতে যান্ত্রিকরণের ব্যবহার বাড়াতে এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিস রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রে ধানের চারা রোপনে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন