৫শ’ কোটি টাকার ভূমি নিয়ে ধুম্রজাল
রেল ভূমিতে রাঘব বোয়ালের চোখ
সাড়ে ১০ একর জায়গা কারা পাচ্ছে
রেল ভূমিতে রাঘব বোয়ালের চোখ
চট্টগ্রামে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ৫০ বছরের রেকর্ড স্থাপন করেছে ২০১৯ সালেই। কিন্তু বিভিন্ন চক্র এই রেল ভূমির মালিকানা দাবী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ ১৯৪৩ সালের রেকর্ড অনুযায়ী এই ভূমি রেলের আকবরশাহ এলাকার সাড়ে ১০ একর জায়গা রেলের। রেল কাহারো কাছে এই ভূূমি বিক্রি করেনি এমন তথ্য মিলেছে প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্র কাছ খেকে।
অভিযোগ উঠেছে, রেলের পূবার্ঞ্চলেই নয় সারা দেশে এত বিশাল জায়গা কোথাও অবৈধ দখলদারের কাছে ছিল না। ফলে উদ্ধারের পর থেকে নানা ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে। কেউ ব্যক্তি মালিকানায় খন্ড খন্ড ভূমি দাবী করছে আবার কেউবা বলছে এই ভূমি দেশের ৫টি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান পৃথক ভাবে নিজেদের অফিস ও আবাসিক এলাকা তৈরী করতে নীল নক্সা তৈরী করছে। এমনকি রেল মন্ত্রনালয়ে গত দু’বছরে কয়েক দফায় ধণার্ দিয়েছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সুপ্রীমকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সাবেক আকবর শাহ এলাকায় খুলশী থানাধীন রেলওয়ের সাড়ে ১০ একর ভূমি উদ্ধার হয়েছে ২০১৯ সালের ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর। উচ্ছেদ করা হয়েছে ৫শ’ কোটি টাকার ভূমি থেকে ১১শ কাঁচা ও আধপাকা স্থাপনা। মাত্র দুই দিনের অভিযানে মূল্যবান এ ভূমি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তুলোধূনা করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা গুলোকে। ফলে ধুলিসাৎ হয়েছে অবৈধ দখলদারদের চক্রান্ত। উল্লেখ্য, ১৫ বছর আগেই এই ভূমি ২০০৭ সালে একলাখ টাকা হরে প্রতি চারজনকে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দের বিপরীতে ফরম বিক্রি করেছে প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্র দফতর সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং থেকে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০০৯ সালে এ ভূমি উদ্ধার হয়নি খুলশী থানার পুলিশের বাধার কারণে। তখন জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের দুই ম্যাজিস্ট্রেট এ ভূমি উদ্ধারের উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ফেরত আসতে হয়েছে। তবে মাপজোক এর কথা বলে তখন রেলওয়েকে আইওয়াশ করা হয়েছে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। ফলে ভূমিদস্যু চক্রটি আবারও তৃতীয় দফায় অভিযান ভন্ডুল করে বিশাল এ ভূমি দখলে রাখার সুযোগ পেয়েছিল। ২০০৯ সালের ২০ মে সকালে অভিযান পরিচালনাকালে রেলওয়ের ভূমিদস্যু চক্র ও বস্তিবাসীদের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে।
অভিযানের পর এ ব্যাপারে রেলের পূবার্ঞ্চলীয় প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্ ইসরাত রেজা জানিয়েছিলেন, আবদুল হক নামের এক ভূমিদস্যু স্বাধীনতার পর থেকেই ১০ একর ৬২ শতক জায়গা অবৈধভাবে দখলে রেখে ভূমি বাণিজ্যসহ ভাড়ায় বাণিজ্যে মেতে উঠেছিল। এ বিষয়ে দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষ এ ভূমিদস্যুকে উচ্ছেদে নানা অভিযান পরিচালনা করে। পরে এ ভূমিদস্যু হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছর দখলে রেখে দিয়েছিল প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা মূল্যের এ সম্পত্তি। দোকানঘর থেকে শুরু করে ছোটখাটো বাজার গড়ে তোলা হয়েছে এ ভূমিকে ঘিরে।
রেলের পূবার্ঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্র দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৮ নবেম্বর সুপ্রীমকোর্টের সিপিএল এ নং-৫১৬/২০০৫ অবৈধ দখলদার আবদুল হকের বিরুদ্ধে যাওয়ায় এ ভূমি আবারও কাগজেকলমে রেলওয়ের সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ এর স্মারক নং ৭১৪, তাং ১৬/০৪/০৯ এ খারিজকৃত এ ভূমি রেলওয়ের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ১৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেল বিভাগের স্মারক নং ২৯৬, তাং ২৩/৪/০৯ অনুযায়ী এক চিঠিতে রেলের এ সম্পত্তি দখলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এদিকে, রেলওয়ের মহাপরিচালকের ঢাকাস্থ কার্যালয় থেকে স্মারক নং-৩১৫, তাং ৬.৫.০৯ অনুযায়ী এক চিঠিতে রেলওয়ের ১৯৭০ সালের ২৪নং অধ্যাদেশের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিশাল এ সম্পত্তি থেকে অবৈধ স্থাপনাও দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল পূর্বাঞ্চলীয় সিআরবির রেলওয়ে এস্টেট বিভাগকে। ২০০৯ সালের ২০ মে সকালে রেলওয়ের ল্যান্ডস এ্যান্ড বিল্ডিংস এবং বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা ডেপুটি কমিশনার শঙ্কর রঞ্জন সাহা ও জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একশ পুলিশ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অভিযান চালাতে ব্যর্থ হয়েছে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন