চট্টগ্রামে মোস্তাকিমকে পুলিশী নিযার্তন, সিআইডি পিবিআই সবইতো পুলিশ
পুলিশী নিযার্তনের তদন্ত করবে পুলিশ
তদন্তের সত্যতা নিয়ে অন্তহীন প্রশ্ন
পুলিশী নিযার্তনের শিকার মুস্তাকিম
পুলিশের নিযার্তনের ব্যথা সামাল দিতে না পেরে অবশেষে মোস্তাকিম মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে যান। কিন্তু ভর্তি হতে পারেননি। পরে মামলার কৌশলীর সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের চেম্বারে। কিন্তু পুলিশের বিচার করবে কে এমন প্রশ্ন এখন ৫৫ বছর বয়সী মোস্তাকিমের মা নাসরিন আক্তারের। কারণ পুলিশইতো এই মামলার তদন্ত করবে। সিআইডি, পিবিআই আর গোয়েন্দা বিভাগ সবইতো পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশেই চলে। থানা পুলিশের নিযার্তনের সেই আতঙ্ক এখনও কাজ করছে মুস্তাকিমের মাঝে।
অভিযোগ উঠেছে, সিএমপির পাঁচলাইশ পুলিশ মোস্তাকিমকে চমেক হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন থেকে টেনে হিঁচড়ে পিকআপে করে থানায় নিয়ে যায়। রাত আট টার দিকে এক পুলিশ সদস্য ওসির সঙ্গে বেয়াদবির দোহাই দিয়ে মোস্তাকিমের কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত মোটা লাঠি দিয়ে উপুর্য়পরি আঘাত করে । এ আঘাতের কারনে মোস্কাকিমের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালী পর্যন্ত জমাট রেক্তে লাল হয়ে যা্য়। কারাগারে গিয়েও কোন চিকিৎসা পায়নি মোস্তাকিম।
মামলার বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে জানার চেষ্টা করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে মুঠোফোনটি ওসি তদন্ত সাদেকুর রহমানের হাতে ধরিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে সাদেকুর রহমান বলেন, মোস্তকিম জেল গেটে এবং আদালতে কোথাও থানা পুলিশের নিযার্তনের কথা বলেনি। জেল থেকে বেরিয়ে তিন দিন পরে কেন এসব বলছে তা আমাদের জানা নেই। তাছাড়া এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষই সিদ্ধান্ত দিবেন।
১৭ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে মোস্তাকিমের কাছে পুলিশী নিযার্তনে পায়ে যখম ও অস্বাভাবিক ব্যাথার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে মুঠোফোনটি তার স্বজনের হাতে তুলে দেন। এমনকি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বিরক্ত অনুভব করছেন বলে জানান মোবাইলের অপরপ্রান্তে থাকা স্বজন। চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে মোস্তাকিম বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে কৌশুলীর চেম্বারে গেছেন।
এদিকে, চট্টগ্রামের হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহা সচিবের পক্ষ থেকে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বরাবর আবেদন করেছেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান। এর আগে বৃদ্ধা মা নাসরিন আক্তারের কিডনি রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রথমে চমেক হাসপাতালের অতিরিক্ত ডায়ালেসিস বিলের রোষাণলে পড়েন মোহাম্মদ মোস্তাকিম। পরে ডায়ালেসিসের বিল কমাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনদেরকে নিয়ে মানববন্ধন করেন মোস্তাকিম। সেবার কাজে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের নিযার্তনের শিকার হয়ে ৫দিনের কারাভোগ করতে হয়েছে মুস্তাকিমকে।
জানা গেছে, চমেক হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস এর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করায় গত ১০ জানুয়ারী মোস্তাকিমকে পাঁচলাইশ থানা আটক করে। পরে পুলিশ মুস্তাকিমের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধরের অভিযোগ তুলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে।
১১ জানুয়ারী ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করে মুস্তাকিমকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। এমনকি আদালত জেল গেটে মুস্তাকিমকে জিজ্ঞাসাবদের অনুমতি দেয় পুলিশকে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ৫দিন কারাভোগ শেষে ১৫ জানুয়ারী আদালতের আদেশে জামিন লাভ করে মোস্তাকিম। উল্লে্যখ, আসামীপক্ষের জামিনের দরখাস্ত শুনানী শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মোঃ অলি উল্লাহ’র আদালত মোস্তাকিমের জামিন মঞ্জুর করেন।
মানবাধিকার আইনবিদ এডভোকটে জিয়া হাবীব আহ্সান বলেন, এটি একটি মানবাধিকার লংঘনের মামলা। নিরপরাধ কিডনি রোগী ও তার স্বজনদের উপর পুলিশী হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সারাদেশ ফঁুসে উঠেছে। মোস্তাকিম আজ কোন নাম নয়, তিনি বিবেকের প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করে তার অসুস্থ মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন