সংবাদ প্রকাশের পর
দেবে যাওয়া মহাসড়ক মেরামত হচ্ছে
সীতাকুন্ড অংশে কাজ চলছে, সড়কে ট্রাফিক জ্যামে ভোগান্তী
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহা সড়কে হেভিওয়েটের চাপে দেবে যাওয়া সড়কের মেরামত কাজ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ)। গত মাসের ২১ তারিখে মহাসড়ক দেবে যাওয়া নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল ২৪ ঘণ্টা.নিউজ পোর্টালে। ওভারলোডের কারণে দেবে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেকাংশ। নিজামপুর কলেজ ও মীরসরাই এলাকাসহ বিভিন্ন জংশন এলাকাগুলোতে এখনো আরসিসি ঢালাইয়ে ফাঁটল রয়েছে যা এখনো মেরামত হয়নি। জংশন রাস্তার আপ ও ডাউন দুদিকের আইল্যান্ডের পার্শ্ববতীর্ প্রায় ছয় ফুটেরও বেশী দেবে গেলেও বারৈয়ারহাট থেকে মীরসরাই পর্যন্ত মেরামত হয়েছে। এখন চলছে সীতাকুন্ড অংশের কাজ। কিন্তু রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে গাড়ীর ধীর গতিতে যাত্রীদের ট্রাফিক জ্যামে পড়তে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
অভিযোগ রয়েছে, তিন বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তথা সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড, গ্যানন ডানকার্লি এন্ড কোম্পানি লিমিটেড ও শিখো পিবিএল জেভি লিমিটেড ফোরলেন সড়কের নির্মাণ কাজ করেছে। ১৩ ধাপে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ সড়কের নির্মাণ চুক্তি হলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। বরং ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেকে সভায় ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন প্রকল্পের জন্য ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ব্যয়সহ এ সড়কের নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে সবকটি প্যাকেজেই কোন না কোন কারণে শেষ করতে দেরী হয়েছে। এক কথায় কোন প্যাকেজই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সঠিক সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যার খেসারত দিতে হচ্ছে ছোট পরিবহন মালিকদের।
আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে ঢাকা থেকে নিম্নগামী মহাসড়কের সীতাকুন্ড বাইপাস পার হয়ে উপজেলা প্রশাসনের দফতরও পার হয়ে প্রায় বাড়বকুন্ডের কাছাকাছি চলছে মেরামত কাজ। অভিযোগ রয়েছে, সওজের প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে বৃহদায়তন কোম্পানিগুলো নিজেদের সুবিধা মত স্থানে সরকারি অর্থে সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে নিয়েছে। শিল্প কারখানা এলাকায় বিশেষ করে সিটি গেট থেকে বাড়বকুন্ড পর্যন্ত বেশিরভাগ শিল্প মালিকরা এ ধরনের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা নিজামপুর কলেজ, হাদি ফকির হাট ও মিঠাছরা এলাকায়ও সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবহার উপযোগী পার্কিং করে নিয়েছে। শুধু তাই নয় মূল সড়কের ডিভাইডারে ট্রাক ও লরি পাসিং আউট করার জায়গা করে নিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় এসব এলাকায় সার্বক্ষণিক যানবাহন লেগেই থাকে।
প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৭ সালে চার লেন সড়কের উদ্বোধনের পর থেকেই হেভিওয়েট গাড়ির কারণ মহাসড়কের ভারসাম্য ঠিক রাখা যাচ্ছে না। তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে যাওয়ার ঘটনা ও আরসিসি ঢালাই ফাটলের ঘটনায় বার বার মেরামত করা হচ্ছে চারলেনের এ সড়কটি। এতে গচ্চা যাচ্ছে সরকারী রাজস্ব। এরপরও অনেকটা জুবুথুবু অবস্থা সড়কের। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ৯৩ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ স্থানেই মেরামত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে এসব এলাকায় মূল সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। তবে ডিভাইডারসহ আনুষাঙ্গিক কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৭ সালে এ সড়কের পরিসমাপ্তি ঘটে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন