রাজস্ব আদায়ে নাসার্রীর পরিকল্পনা
মাদকের আস্তানা গুড়িয়ে দিল রেল
খুলশী পুলিশ চায় ব্যারাক বানাতে
চট্টগ্রামে রেলের জায়গা অবৈধ দখলদারের আওতায় থাকলেও বরাদ্দ দেয় না কতৃর্পক্ষ এমন অভিযোগ স্বাধীনতার পর থেকেই। ফলে এসব জায়গায় অনায়াসে গড়ে উঠছে মাদকের হাট। যার কারনে চাউর আছে ‘নিজের ভালো নিজে বোঝে না রেলওয়ে’। ফলে বছরের পর বছর অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে পারছেনা রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জায়গা। রেলের বক্তব্য, যখন প্রয়োজন হবে তখন বরাদ্দ প্রাপ্তরা জায়গা ছেড়ে দিবে না। তাই বরাদ্দ দিতে পিছুটান রেলের। আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন পুলিশ বিট লাগোয়া প্রায় ১০০ শতক জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করেছে রেলের পূবার্ঞ্চলীয় বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার দফতর। সকাল ১১টা থেকে রেলের পূর্বাঞ্চলীয় ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার আবিদুর রহমান এবং বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্ ও রেলওয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল করিমের নেতৃর্ত্বে এ বিশাল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আহমেদ রানা এ অভিযানে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিযানকালে প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য ও রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে ছিলেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘন্টার এ অভিযানে তিন শতাধিক অবৈধ ঘর উচ্ছেদ করে প্রায় ১০০ শতক জায়গা উদ্ধার হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে রেলের পূবার্ঞ্চলীয় বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্ ও রেলওয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল করিম সময়ের কাগজকে বলেন, এ ভূমিতে মাদকের হাট বসতো। এখন তা নাসার্রীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলে রেলের রাজস্ব আয় বাড়বে। এছাড়াও এক একর পরিমাণ ভূমিটি দেখতেও সুন্দর লাগবে।

অভিযোগ রয়েছে, এ জায়গার পাশেই রয়েছে প্রায় এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্য সুবিশাল খাল। এই খালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় এ এলাকায় মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলে আসছিল। স্থানীয় জাহাঙ্গীর ও দুলালের নেতৃর্ত্বে ইয়াবা কারবারী ও সেবনকারীরা দিনের বেলাতেও মাদকের পসরা নিয়ে বসতো। শুধু তাই নয় রেলের সেলস্ ডিপোর মালামাল চুরি করেও এই বস্তিতে রাখা হতো।

রেলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশাল এই ভূমিতে নাসার্রী প্লট বানিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রেলের পূবার্ঞ্চলীয় বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক এ ধরনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্ মাহবুবুল করিম। এদিকে, খুলশী থানা পুলিশের একটি ফাঁড়ি রয়েছে এই ভূমি লাগোয়া। এ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আবাসনের জন্য জায়গার অভাব রয়েছে। এই ভূমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যারাক বানাতে চায় পুলিশ।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন