নিরব অপরাধ কম্পিউটার দোকানে
জন্মনিবন্ধনের নামে প্রতারণা ঠেকাবে কে
কাউন্সিলর অফিসের পাশেই দোকান
চট্টগ্রাম সিটি কপোর্রেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের পাশেই কম্পিউটারে চলছে অনলাইনে রমরমা বাণিজ্য। জন্ম নিবন্ধকে পূঁজি করে প্রিন্ট ও কমার্শিয়াল বিজনেসের নামে খুলে বসা ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে অভিনব প্রতারণা। কাহারো সংশোধন আবার কেউবা নতুন নিবন্ধনের নামে প্রতারণার শিকার। এমন অভিযোগ পেয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। অপরাধীদের গোড়া খঁুজতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে কোন না কোন ভাবে চট্টগ্রাম সিটি কপোর্রেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের সম্পৃক্ততার বিষয়। সাইবার ক্রাইম ফুটেজ ও সিস্টেম থেকে এ ধরনের অপরাধের সনাক্তকরণ হচ্ছে।

সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বললেন সাইবার পেট্রোলের মাধ্যমে এসব অপরাধীদের সনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধীদের কাছ থেকে যারা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নিয়েছে সেগুলো আংশিক ফেইক ও আংশিক সঠিক আছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই অপরাধীরা গ্রাহকের সন্ধান পাচ্ছে। রেহিঙ্গারা জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগ রয়েছে, ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে অপরাধীরা জন্ম নিবন্ধনের নামে প্রতারণা করছে। ফেইসবুক পেইজে অপরাধীরা ‘বার্থ এন্ড ডেথ রেজিস্ট্রেশন’র নামে পেইজ খুলে বসেছে। বার্থ এন্ড ডেথ রেজিস্ট্রেশন সংশোধন ও নিবন্ধনের নামেই খোলা হয়েছে অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ। লাইক বা কমেন্টের মাধ্যমে এডমিনের ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, গ্রাহকের নাম্বরটাই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। গ্রাহক কালেকশনের জন্য মাঠ পযার্য়ে অপরাধীদের কমীর্ও রয়েছে। সোমবার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে ধরা পড়েছে এক নাবালক সহ ৪ অপরাধী। এদের মধ্যে দুজনের কম্পিউটার প্রিন্ট ও কমার্শিয়াল সেন্টার রয়েছে। তবে কাউন্সিলর এ ধরনের জন্ম নিবন্ধনে স্বাক্ষর করছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের পাশেই খুলে বসা হয়েছে প্রতারণার ফাঁদ। সিটি কপোরেশনের কাহারো সম্পৃক্ততা এখনো খঁুজে পাওয়া না গেলেও জড়িত থাকার বিষয়টি একেবারে উপড়ে ফেলে দিচ্ছে না কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সিএমপি’তে দুটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন জালিয়াত চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে সিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সোমবার রাতে নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে এদের আটকের সময় সিপিইউ, মনিটর, স্ক্যানার ও প্রিন্টার এবং ৪টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীরা এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি জন্ম নিবন্ধন বিক্রি করেছে। প্রতিটি ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় ইস্যু করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারী বন্দর থানাধীন ৩৮নং ওয়ার্ড অফিসে ৪০টি, ৯ জানুয়ারী ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড ১০টি এবং ২১ জানুয়ারী পতেঙ্গার ৪০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসের সার্ভারে ৮৪টি ভূয়া জন্ম নিবন্ধনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করেছে ওয়ার্ড অফিসগুলো। জিডির তথ্যের ভিত্তিতে কাউন্টার টেরোরিজম অভিযানে নেমে নাবালক জহির আলম, মো¯তাকিম, দেলোয়ার হোসেন সাইমন ও আব্দুল রহমান প্রকাশ আরিফকে আটক করে নিয়ে আসে। উল্লে্যখ, এমন ঘটনায় খুলশী থানায় ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের জন্ম নিবন্ধন সহকারী আনোয়ার হোসেন একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন